ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

ঐক্যের স্বপ্ন থেকে বিভেদের বাস্তবতা



ঐক্যের স্বপ্ন থেকে বিভেদের বাস্তবতা
ছবি: সংগৃহীত

ঠিক দুই বছর আগের ৫ আগস্ট ছিল জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য দিন। সব মতপথ ভুলে এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়।

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল লাখো জনতা। এই জনসমুদ্রের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না। তাদের বেশিরভাগই কোনো দলের কর্মী ছিলেন না। দেশের আপামর জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য, সাম‍্যের দেশের জন্য, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

জনগণই ছিল এই পরিবর্তনের প্রধান নায়ক। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর আমরা কোথায়?

গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির ঠিক আগের দিন, ৪ আগস্ট ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এটাই দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ।

যাদের হাতে ২৪ এ নতুন স্বপ্ন বুননের সূচনা হয়েছিল তারাই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। পাঁচ আগস্টের প্রধান চেতনা ছিল জাতীয় ঐক্য। রাজনীতি, সম্প্রদায়, ধর্ম-বর্ণের কারণে দেশ বিভক্ত থাকবে না, এটাই জুলাই চেতনার মূল প্রতিপাদ্য।

কিন্তু দুই বছর পর আজকের বাংলাদেশের দিকে তাকালে আমরা কি সেই ঐক্যের ধারা দেখতে পাই? এর উত্তরে সবাই ‘না’ বলবেন। বাংলাদেশ এখন জুলাই চেতনার উল্টো পথে হাঁটছে।

জাতি আজ নানাভাবে বিভক্ত। এক পক্ষ অন্য পক্ষের কথা শুনতে চায় না। রাজনীতি আটকে আছে বিভক্তি আর অবিশ্বাসের চোরাগলিতে। ধর্মীয় বিভেদ, সামাজিক অস্থিরতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, হিংসা আর প্রতিহিংসার আগুনে দগ্ধ দেশ। আমরা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম? জুলাই চেতনা এখন কেবল এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। কেন জুলাইয়ের চেতনা নষ্ট হলো? কেন গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন পথ হারালো? 

গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর আবারও কেন বিভাজন আর বিভক্তি সবখানে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন বহুধা বিভক্ত। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদল মুখোমুখি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়নি বিরোধীদল। বিরোধীদল সদ‍্য নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। এই রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব পড়েছে সবখানে। অর্থনীতির মেরুদণ্ড বেসরকারি খাতকে বিভক্ত করা হয়েছে। কে দোসর, কে অতীতে কি করেছে, সেই হিসাব-নিকাশ করতে করতেই বেসরকারি খাতকে আমার লোক, তোমার লোকে ভাগ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বিভক্ত। শিক্ষাঙ্গনে নেই শিক্ষার পরিবেশ। লেখাপড়ার চেয়ে শর্টকাটে ভাগ্য বদলের খেলায় মত্ত অনেক বিভ্রান্ত তরুণ। কারণ, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের পর অনেক শিক্ষার্থীর ভাগ্যের অলৌকিক পরিবর্তন ঘটেছে। অনেকেই এখন গাড়ি, বাড়ি এবং বিপুল সম্পদের মালিক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মূল দাবি, কোটার সংস্কার হয়নি। সরকারি চাকরিতে এখনও রয়ে গেছে আগের মতোই বৈষম্য। আইনের শাসনের বদলে শুরু হয়েছে মবের শাসন। নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ব‍্যবসায়ীরা অনিশ্চিয়তার অন্ধকারে ডুবে আছেন। সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস। 

প্রশ্ন হলো, কেন আমরা ঐক্য ধরে রাখতে পারলাম না? কেন সেই স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে সুবর্ণ বন্দরে পৌঁছাতে পারলো না বাংলাদেশ? কেন সেই অভূতপূর্ব ঐক্যের বিপরীতে আজ আবারো বিভক্তি আর প্রতিহিংসার অসহিষ্ণুতা? 

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের দুই বছর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে। ২৪-এর পাঁচ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে। প‍্যারিস থেকে ২৪ এর ৮ আগস্ট দেশে ফিরে তিনি প্রথমে ঐক্যের গান গেয়েছিলেন। বলেছিলেন, বাংলাদেশ এক পরিবার। সবাই মিলে দেশ গড়ার কথাও বলেছিলেন ড. ইউনূস। কিন্তু ১৮ মাসের শাসনকালে ইউনূস প্রমাণ করেছেন, তিনি যা বলেন, তা করেন না। তিনি যা বলেন, তা বিশ্বাস করেন না। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ঐক্যের বাংলাদেশকে বিভক্ত করার জন্য একমাত্র দায়ী ইউনূস, তার উপদেষ্টারা এবং ইউনূসের আজ্ঞাবহ সুশীল সমাজ। 

২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল, ঐক্যের বাংলাদেশ। বিভক্তি, হানাহানি, বৈষম্য এবং প্রতিহিংসার শেকল ভেঙ্গে বাংলাদেশকে মুক্ত স্বাধীনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই রাজপথে নেমে এসেছিল আপামর জনতা। সবাই আশা করেছিল, আওয়ামী লীগের পতনের পর, দেশে মন খুলে কথা বলা যাবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে, ভিন্নমতের কারণে কেউ নিগৃহীত হবে না। মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে দেশকে এক সুতোয় গাঁথার মহা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ইউনূস সরকার ঐক্যের বদলে বিভাজন বাড়িয়ে দেয়। নতুন করে শুরু হয় দুর্নীতি এবং লুটপাট। একটি নব্য লুটেরা ফ্যাসিস্ট শক্তির জন্ম দেন ড. ইউনূস। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার লোভে ইউনূস পুরোনো ডিভাইড অ্যান্ড রুল নীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঐক্যের বীজ উপড়ে ফেলে ড. ইউনূস বিভক্তির বীজ বপন করেছিলেন। দেড় বছর ইউনূস সফলভাবে সবক্ষেত্রে বিভক্তি আর অবিশ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। যার ফল ভোগ করছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার এবং জনগণ। 

৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেড়টা বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য এক বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়। এই সময় দেশ অন্ধকার থেকে আরও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। 

ইউনূস সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের নামে অর্থনীতি ধ্বংসের আয়োজন করেন। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেন।মব বাহিনী শিল্পকারখানায় নির্বিচারে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করে। সরকার দূর থেকে তামাশা দেখতে থাকে। শিল্পকারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় ইউনূস শাসনামলে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা হতাশায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকাই নিরাপদ মনে করেন। বন্ধ হয়ে যায় বহু কারখানা, নতুন করে বেকার হন দেড় কোটি মানুষ। দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায় আরও দুই কোটি মানুষ। ১৮ মাসে ড. ইউনূস দেশের অর্থনীতি ফোকলা করে ফেলেছেন। দেড় কোটি বেকার আর দুই কোটি চরম দরিদ্র মানুষ সৃষ্টি করেছেন। বিনিয়োগ বন্ধ, উৎপাদন বন্ধ, অর্থনীতি অচল। এই সময়ে বেসরকারি খাতকে পরিকল্পিতভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। আমার লোক, দোসর, সাবেক সরকারের সুবিধাভোগী- ইত্যাদি নানা তকমা দিয়ে বেসরকারি খাতের একটি বৃহৎ অংশকে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় করা হয়েছে। 

১৮ মাসে দেশের শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছেন, দেশের শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। কথায় কথায় মারামারি, ক্লাস বন্ধ, অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করেছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষাঙ্গনে পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থীদের ক্ষমতার কেন্দ্রে এনে ইউনূস পরিকল্পিতভাবে জুলাই আন্দোলনের মূল শক্তিকে বিভক্ত করেন। প্রথমেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দূরে ঠেলে দিয়ে বিভাজনের নোংরা রাজনীতি শুরু করেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা। উপাচার্য নিয়োগে রাজনৈতিক কূটকৌশলের আশ্রয় নেন তিনি। জুলাইয়ে যে শিক্ষকরা ছিলেন পথের দিশারী, ক্ষমতার হালুয়া রুটির লোভ দেখিয়ে তাদের বিভক্ত করা হয় পরিকল্পিতভাবে। এই সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছিল জুলাই চেতনা ধ্বংসের নীলনকশা।এর মাধ্যমে ২৪ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ঐক্যের শেষ রেখা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। গত ৪ আগস্ট দুটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ আসলে ইউনূসের রোপণ করা বিভক্তির বীজের বিকাশ। 

ইউনূস আমলে গণমাধ্যমে এক আতঙ্কজনক পরিবেশ বিরাজ করেছে। মবের শিকার হয়েছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে বহু সাংবাদিককে। সাংবাদিকদের মধ্যেও বিভক্তি ছড়িয়ে দেন ইউনূস। যারা জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিল কিন্তু ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকটি বিশেষ মিডিয়াকে নিজের মানুষ বানিয়ে বাকিদের সাথে প্রতারণা করেন প্রধান উপদেষ্টা। 

ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ছিল হতাশার চিত্র। রাজনীতির বিষবাষ্প থেকে খেলাধুলা মুক্ত রাখতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের ক্রিকেটে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনেও বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।

ইউনূসের আমলে দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল মব সন্ত্রাস। মবের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল গোটা দেশ। ইউনূসের আমলে দুর্নীতি বন্ধ হয়নি বরং কোনো কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্নীতি বেড়েছে। ব‍্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে বলেছেন ঘুষের রেট বেড়েছে। হাতে গোনা দু-একজন উপদেষ্টা ছাড়া সবার বিরুদ্ধেই উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। এভাবেই ড. ইউনূস বাংলাদেশকে করেছেন ক্ষতবিক্ষত। জুলাইয়ের চেতনাকে করেছেন রক্তাক্ত।

ইউনূস সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরিকল্পিত বিভাজন এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস সৃষ্টি করে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান এবং একমাত্র কাজ ছিল, একটি অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। কিন্তু তা না করে ক্ষমতা দখল করে রাখার জন্য, সংস্কার নাটক তৈরি করেন। রাষ্ট্র সংস্কারের নামে বিদেশ থেকে ভাড়াটে লোক এনে একদিকে যেমন কালক্ষেপণ করেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করান। 

সংবিধান সংস্কারের নামে উদ্ভট এবং অযৌক্তিক কিছু বিষয় এনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। সংবিধান কতটা, কীভাবে সংশোধন হবে তা সিদ্ধান্ত নেয়ার একমাত্র প্লাটফর্ম হলো জাতীয় সংসদ। কিন্তু সংবিধান সংস্কারের নামে মাসের পর মাস অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এনে গোটা জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন ড. ইউনূস। সেই বিভক্তি ক্রমশ বাড়ছে এখন। 

২৪ এ সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে যে অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল ড. ইউনূস আলী রীয়াজকে নিয়ে সেই ঐক্যের বন্ধন ছিন্ন করে দেন। তাই আজ রাজনৈতিক দলগুলো আবারও আগের অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছে।

২৪ এর আগস্টে যে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছিল তার ঘাতক ড. ইউনূস এবং তার অনুচররা। আমরা সব সময় দেখেছি বাংলাদেশের জনগণ যখনই ঐক্যবদ্ধ হয় তখনই তারা অপরাজেয় হয়ে ওঠে। অসম্ভব কে সম্ভব করে। ২৪ এর জুলাই আমাদের সামনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং গর্বিত জাতি হিসাবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হতো। কিন্তু ইউনূস এই সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটিয়েছে। তিনিই জুলাই বিপ্লবের ঘাতক।

অদিতি করিম: লেখক ও নাট্যকার

ইমেইল: auditekarim@gmail.com



এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


বিষয় : ঐক্য বাস্তবতা

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬


ঐক্যের স্বপ্ন থেকে বিভেদের বাস্তবতা

প্রকাশের তারিখ : ০৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ঠিক দুই বছর আগের ৫ আগস্ট ছিল জাতীয় ঐক্যের এক অনন্য দিন। সব মতপথ ভুলে এদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল মুক্তির আকাঙ্ক্ষায়।

বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছিল লাখো জনতা। এই জনসমুদ্রের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না। তাদের বেশিরভাগই কোনো দলের কর্মী ছিলেন না। দেশের আপামর জনগণ তাদের অধিকার আদায়ের জন্য, সাম‍্যের দেশের জন্য, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য ঐক্যবদ্ধ হয়েছিল।

জনগণই ছিল এই পরিবর্তনের প্রধান নায়ক। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর আমরা কোথায়?

গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তির ঠিক আগের দিন, ৪ আগস্ট ঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর এটাই দুই ছাত্রসংগঠনের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংঘর্ষ।

যাদের হাতে ২৪ এ নতুন স্বপ্ন বুননের সূচনা হয়েছিল তারাই এখন একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। পাঁচ আগস্টের প্রধান চেতনা ছিল জাতীয় ঐক্য। রাজনীতি, সম্প্রদায়, ধর্ম-বর্ণের কারণে দেশ বিভক্ত থাকবে না, এটাই জুলাই চেতনার মূল প্রতিপাদ্য।

কিন্তু দুই বছর পর আজকের বাংলাদেশের দিকে তাকালে আমরা কি সেই ঐক্যের ধারা দেখতে পাই? এর উত্তরে সবাই ‘না’ বলবেন। বাংলাদেশ এখন জুলাই চেতনার উল্টো পথে হাঁটছে।

জাতি আজ নানাভাবে বিভক্ত। এক পক্ষ অন্য পক্ষের কথা শুনতে চায় না। রাজনীতি আটকে আছে বিভক্তি আর অবিশ্বাসের চোরাগলিতে। ধর্মীয় বিভেদ, সামাজিক অস্থিরতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়, হিংসা আর প্রতিহিংসার আগুনে দগ্ধ দেশ। আমরা কি এমন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম? জুলাই চেতনা এখন কেবল এক দীর্ঘশ্বাসের নাম। কেন জুলাইয়ের চেতনা নষ্ট হলো? কেন গণ-অভ্যুত্থানের স্বপ্ন পথ হারালো? 

গণ-অভ্যুত্থানের দুই বছর পর আবারও কেন বিভাজন আর বিভক্তি সবখানে। রাজনৈতিক দলগুলো এখন বহুধা বিভক্ত। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধন প্রশ্নে সরকার ও বিরোধীদল মুখোমুখি। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেয়নি বিরোধীদল। বিরোধীদল সদ‍্য নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে। এই রাজনৈতিক বিভাজনের প্রভাব পড়েছে সবখানে। অর্থনীতির মেরুদণ্ড বেসরকারি খাতকে বিভক্ত করা হয়েছে। কে দোসর, কে অতীতে কি করেছে, সেই হিসাব-নিকাশ করতে করতেই বেসরকারি খাতকে আমার লোক, তোমার লোকে ভাগ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীরা বিভক্ত। শিক্ষাঙ্গনে নেই শিক্ষার পরিবেশ। লেখাপড়ার চেয়ে শর্টকাটে ভাগ্য বদলের খেলায় মত্ত অনেক বিভ্রান্ত তরুণ। কারণ, ২৪ এর গণ-অভ্যুত্থানের পর অনেক শিক্ষার্থীর ভাগ্যের অলৌকিক পরিবর্তন ঘটেছে। অনেকেই এখন গাড়ি, বাড়ি এবং বিপুল সম্পদের মালিক। কিন্তু শিক্ষার্থীদের মূল দাবি, কোটার সংস্কার হয়নি। সরকারি চাকরিতে এখনও রয়ে গেছে আগের মতোই বৈষম্য। আইনের শাসনের বদলে শুরু হয়েছে মবের শাসন। নারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। ব‍্যবসায়ীরা অনিশ্চিয়তার অন্ধকারে ডুবে আছেন। সাধারণ মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস। 

প্রশ্ন হলো, কেন আমরা ঐক্য ধরে রাখতে পারলাম না? কেন সেই স্বপ্নের সিঁড়ি বেয়ে সুবর্ণ বন্দরে পৌঁছাতে পারলো না বাংলাদেশ? কেন সেই অভূতপূর্ব ঐক্যের বিপরীতে আজ আবারো বিভক্তি আর প্রতিহিংসার অসহিষ্ণুতা? 

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের দুই বছর পিছনে ফিরে তাকাতে হবে। ২৪-এর পাঁচ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেন শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে। প‍্যারিস থেকে ২৪ এর ৮ আগস্ট দেশে ফিরে তিনি প্রথমে ঐক্যের গান গেয়েছিলেন। বলেছিলেন, বাংলাদেশ এক পরিবার। সবাই মিলে দেশ গড়ার কথাও বলেছিলেন ড. ইউনূস। কিন্তু ১৮ মাসের শাসনকালে ইউনূস প্রমাণ করেছেন, তিনি যা বলেন, তা করেন না। তিনি যা বলেন, তা বিশ্বাস করেন না। জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ঐক্যের বাংলাদেশকে বিভক্ত করার জন্য একমাত্র দায়ী ইউনূস, তার উপদেষ্টারা এবং ইউনূসের আজ্ঞাবহ সুশীল সমাজ। 

২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল, ঐক্যের বাংলাদেশ। বিভক্তি, হানাহানি, বৈষম্য এবং প্রতিহিংসার শেকল ভেঙ্গে বাংলাদেশকে মুক্ত স্বাধীনভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই রাজপথে নেমে এসেছিল আপামর জনতা। সবাই আশা করেছিল, আওয়ামী লীগের পতনের পর, দেশে মন খুলে কথা বলা যাবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে, ভিন্নমতের কারণে কেউ নিগৃহীত হবে না। মানুষের উপর জুলুম-নির্যাতন বন্ধ হবে। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে দেশকে এক সুতোয় গাঁথার মহা সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু ইউনূস সরকার ঐক্যের বদলে বিভাজন বাড়িয়ে দেয়। নতুন করে শুরু হয় দুর্নীতি এবং লুটপাট। একটি নব্য লুটেরা ফ্যাসিস্ট শক্তির জন্ম দেন ড. ইউনূস। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার লোভে ইউনূস পুরোনো ডিভাইড অ্যান্ড রুল নীতির পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ঐক্যের বীজ উপড়ে ফেলে ড. ইউনূস বিভক্তির বীজ বপন করেছিলেন। দেড় বছর ইউনূস সফলভাবে সবক্ষেত্রে বিভক্তি আর অবিশ্বাস ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। যার ফল ভোগ করছে বর্তমান নির্বাচিত সরকার এবং জনগণ। 

৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দেড়টা বছর ছিল বাংলাদেশের জন্য এক বিভীষিকাময় কালো অধ্যায়। এই সময় দেশ অন্ধকার থেকে আরও গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়। 

ইউনূস সরকার অর্থনীতি পুনরুদ্ধারের নামে অর্থনীতি ধ্বংসের আয়োজন করেন। বেসরকারি উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা হত্যা মামলা দায়ের করেন।মব বাহিনী শিল্পকারখানায় নির্বিচারে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করে। সরকার দূর থেকে তামাশা দেখতে থাকে। শিল্পকারখানায় গ্যাস, বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয় ইউনূস শাসনামলে। বেসরকারি উদ্যোক্তারা হতাশায় হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকাই নিরাপদ মনে করেন। বন্ধ হয়ে যায় বহু কারখানা, নতুন করে বেকার হন দেড় কোটি মানুষ। দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যায় আরও দুই কোটি মানুষ। ১৮ মাসে ড. ইউনূস দেশের অর্থনীতি ফোকলা করে ফেলেছেন। দেড় কোটি বেকার আর দুই কোটি চরম দরিদ্র মানুষ সৃষ্টি করেছেন। বিনিয়োগ বন্ধ, উৎপাদন বন্ধ, অর্থনীতি অচল। এই সময়ে বেসরকারি খাতকে পরিকল্পিতভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। আমার লোক, দোসর, সাবেক সরকারের সুবিধাভোগী- ইত্যাদি নানা তকমা দিয়ে বেসরকারি খাতের একটি বৃহৎ অংশকে সম্পূর্ণ নিস্ক্রিয় করা হয়েছে। 

১৮ মাসে দেশের শিক্ষার পরিবেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছেন, দেশের শিক্ষাঙ্গনে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। কথায় কথায় মারামারি, ক্লাস বন্ধ, অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে প্রতিনিয়ত। শিক্ষার্থীরা ক্লাস না করে রাস্তা বন্ধ করে আন্দোলন করেছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় এসে শিক্ষাঙ্গনে পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। কিছু শিক্ষার্থীদের ক্ষমতার কেন্দ্রে এনে ইউনূস পরিকল্পিতভাবে জুলাই আন্দোলনের মূল শক্তিকে বিভক্ত করেন। প্রথমেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে দূরে ঠেলে দিয়ে বিভাজনের নোংরা রাজনীতি শুরু করেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা। উপাচার্য নিয়োগে রাজনৈতিক কূটকৌশলের আশ্রয় নেন তিনি। জুলাইয়ে যে শিক্ষকরা ছিলেন পথের দিশারী, ক্ষমতার হালুয়া রুটির লোভ দেখিয়ে তাদের বিভক্ত করা হয় পরিকল্পিতভাবে। এই সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছিল জুলাই চেতনা ধ্বংসের নীলনকশা।এর মাধ্যমে ২৪ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ঐক্যের শেষ রেখা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। গত ৪ আগস্ট দুটি ছাত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ আসলে ইউনূসের রোপণ করা বিভক্তির বীজের বিকাশ। 

ইউনূস আমলে গণমাধ্যমে এক আতঙ্কজনক পরিবেশ বিরাজ করেছে। মবের শিকার হয়েছিলেন গণমাধ্যমকর্মীরা। হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে বহু সাংবাদিককে। সাংবাদিকদের মধ্যেও বিভক্তি ছড়িয়ে দেন ইউনূস। যারা জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিল কিন্তু ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে ছিল তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। সাংবাদিকদের মধ্যে কয়েকটি বিশেষ মিডিয়াকে নিজের মানুষ বানিয়ে বাকিদের সাথে প্রতারণা করেন প্রধান উপদেষ্টা। 

ক্রীড়া ক্ষেত্রেও ছিল হতাশার চিত্র। রাজনীতির বিষবাষ্প থেকে খেলাধুলা মুক্ত রাখতে পারেনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত, বাংলাদেশের ক্রিকেটে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। ক্রীড়াঙ্গনেও বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল।

ইউনূসের আমলে দেশজুড়ে শুরু হয়েছিল মব সন্ত্রাস। মবের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছিল গোটা দেশ। ইউনূসের আমলে দুর্নীতি বন্ধ হয়নি বরং কোনো কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুর্নীতি বেড়েছে। ব‍্যবসায়ীরা প্রকাশ্যে বলেছেন ঘুষের রেট বেড়েছে। হাতে গোনা দু-একজন উপদেষ্টা ছাড়া সবার বিরুদ্ধেই উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগ। এভাবেই ড. ইউনূস বাংলাদেশকে করেছেন ক্ষতবিক্ষত। জুলাইয়ের চেতনাকে করেছেন রক্তাক্ত।

ইউনূস সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছেন জুলাই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পরিকল্পিত বিভাজন এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস সৃষ্টি করে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান এবং একমাত্র কাজ ছিল, একটি অবাধ নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। কিন্তু তা না করে ক্ষমতা দখল করে রাখার জন্য, সংস্কার নাটক তৈরি করেন। রাষ্ট্র সংস্কারের নামে বিদেশ থেকে ভাড়াটে লোক এনে একদিকে যেমন কালক্ষেপণ করেন, অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোকে মুখোমুখি দাঁড় করান। 

সংবিধান সংস্কারের নামে উদ্ভট এবং অযৌক্তিক কিছু বিষয় এনে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তিক্ততা সৃষ্টির চেষ্টা করেন। সংবিধান কতটা, কীভাবে সংশোধন হবে তা সিদ্ধান্ত নেয়ার একমাত্র প্লাটফর্ম হলো জাতীয় সংসদ। কিন্তু সংবিধান সংস্কারের নামে মাসের পর মাস অপ্রাসঙ্গিক বিষয় এনে গোটা জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন ড. ইউনূস। সেই বিভক্তি ক্রমশ বাড়ছে এখন। 

২৪ এ সকল রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রশ্নে যে অভূতপূর্ব ঐক্য গড়ে উঠেছিল ড. ইউনূস আলী রীয়াজকে নিয়ে সেই ঐক্যের বন্ধন ছিন্ন করে দেন। তাই আজ রাজনৈতিক দলগুলো আবারও আগের অসুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে ঝুঁকছে।

২৪ এর আগস্টে যে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়ে উঠেছিল তার ঘাতক ড. ইউনূস এবং তার অনুচররা। আমরা সব সময় দেখেছি বাংলাদেশের জনগণ যখনই ঐক্যবদ্ধ হয় তখনই তারা অপরাজেয় হয়ে ওঠে। অসম্ভব কে সম্ভব করে। ২৪ এর জুলাই আমাদের সামনে নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। এই সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশ একটি উন্নত, সমৃদ্ধ এবং গর্বিত জাতি হিসাবে বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হতো। কিন্তু ইউনূস এই সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটিয়েছে। তিনিই জুলাই বিপ্লবের ঘাতক।

অদিতি করিম: লেখক ও নাট্যকার

ইমেইল: auditekarim@gmail.com



এনএম/ধ্রুবকন্ঠ



ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত