ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho - Current & Breaking News Bangladesh & World

ফলের আঁটি থেকে সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন

ফলের আঁটি থেকে সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন

দেশজুড়ে এখন দেশীয় মৌসুমি ফলের উৎসব। বাজার, গ্রামগঞ্জ, শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে বাড়ির আঙিনা সবখানেই আম, লিচু, কাঁঠাল ও জামের সমারোহ। গ্রীষ্ম ও বর্ষা মৌসুমের এই জনপ্রিয় ফলগুলো শুধু মানুষের খাদ্যতালিকাকে সমৃদ্ধই করছে না, বরং পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এসব ফলের বীজ, আঁটি বা বিচি যদি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলে তা ভবিষ্যতে হাজার হাজার নতুন গাছের জন্ম দিতে পারে।একটি আমের আঁটি, একটি কাঁঠালের বিচি কিংবা একটি জামের বীজ খাবার শেষে এগুলোকে আমরা সাধারণত আবর্জনা হিসেবেই দেখি। কিন্তু প্রকৃতির ভাষায় এগুলো কোনো বর্জ্য নয়; বরং একটি সম্ভাব্য বৃক্ষ, একটি সম্ভাব্য ছায়া, একটি সম্ভাব্য ফলের বাগান এবং অসংখ্য প্রাণের আশ্রয়স্থল। যে বীজটি আজ ডাস্টবিনে যাচ্ছে, সেটিই হয়তো আগামী কয়েক দশক ধরে মানুষকে অক্সিজেন, ফল এবং ছায়া দিতে পারত।পরিবেশবিদদের মতে, বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বনভূমি উজাড় এবং জীববৈচিত্র্যের সংকট বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। প্রতিবছর বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, নগরায়ণ ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে বিপুল সংখ্যক গাছ কাটা হচ্ছে। অন্যদিকে দ্রুত কমে যাচ্ছে উন্মুক্ত সবুজ এলাকা। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে নতুন করে বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই।এই বাস্তবতায় পরিবেশপ্রেমীরা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর উদ্যোগের কথা বলছেন। ফল খাওয়ার পর আমের আঁটি, লিচুর বীজ, কাঁঠালের বিচি এবং জামের দানা ফেলে না দিয়ে সেগুলো পরিষ্কার পানিতে ধুয়ে শুকিয়ে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। পরে কেউ ভ্রমণে গেলে, গ্রামের রাস্তার পাশে, মহাসড়কের ধারে, খালি জমিতে, অনাবাদি এলাকায় কিংবা পতিত ভূমিতে এসব বীজ ছড়িয়ে দিতে পারেন। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানির সংস্পর্শে এসে এসব বীজের একটি অংশ স্বাভাবিকভাবেই অঙ্কুরিত হয়ে চারাগাছে পরিণত হতে পারে।বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শত বীজের মধ্যে হয়তো মাত্র কয়েকটি গাছ বেঁচে থাকবে। কিন্তু প্রকৃতির জন্য সেই কয়েকটি গাছও অমূল্য সম্পদ। একটি পূর্ণবয়স্ক আম, কাঁঠাল বা জামগাছ কয়েক প্রজন্ম ধরে ফল দিতে পারে। পথচারীদের ছায়া দিতে পারে, পাখিদের আবাসস্থল হতে পারে এবং পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অবদান রাখতে পারে।বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনে ফলদ গাছের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক বহু পুরোনো। একসময় প্রায় প্রতিটি বাড়ির আঙিনায় আম, জাম, কাঁঠাল, কদবেল, পেয়ারা বা লিচুর গাছ দেখা যেত। গ্রীষ্মের দুপুরে শিশুদের খেলাধুলা, পাখিদের কলকাকলি এবং গ্রামের সৌন্দর্যের সঙ্গে এসব গাছ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সবুজ পরিবেশ অনেক জায়গায় হারিয়ে যেতে বসেছে। আধুনিক নগরায়ণ, অপরিকল্পিত উন্নয়ন এবং জমির ব্যবহার পরিবর্তনের ফলে অনেক পুরোনো গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।পরিবেশবিদদের ভাষ্যমতে, ফলদ গাছের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এসব গাছে ফল ধরলে পাখি, কাঠবিড়ালি, বাদুড়সহ নানা প্রাণী খাদ্যের সন্ধানে সেখানে আসে। এর মাধ্যমে প্রকৃতির খাদ্যচক্র ও জীববৈচিত্র্য টিকে থাকে। বর্তমানে নগরায়ণের ফলে পাখিদের আবাসস্থল কমে যাচ্ছে। ফলে ফলদ বৃক্ষ রোপণ পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য নিরাপদ আশ্রয় তৈরি করতে সহায়তা করে।বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নাগরিক পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেক দেশে স্বেচ্ছাসেবীরা ফলের বীজ সংগ্রহ করে বনাঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং অনাবাদি জমিতে ছড়িয়ে দেন। কোথাও কোথাও বিশেষভাবে তৈরি "সিড বল" বা বীজবল ব্যবহার করে বিমান কিংবা ড্রোনের সাহায্যে বীজ ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রাকৃতিকভাবে নতুন বনাঞ্চল গড়ে ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশকর্মীরা মনে করেন, বাংলাদেশেও এমন উদ্যোগ সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি গাছ তার জীবনকালে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করতে পারে এবং পরিবেশে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন সরবরাহ করে। তীব্র গরমে ছায়া প্রদান, মাটির ক্ষয়রোধ, বৃষ্টিপাতের ভারসাম্য রক্ষা এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর সংরক্ষণেও গাছের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বাংলাদেশের জন্য তাই বৃক্ষরোপণ শুধু একটি সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতীয় প্রয়োজন।পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু বন অধিদপ্তর বা সরকারের নয়। প্রত্যেক নাগরিক যদি নিজের অবস্থান থেকে বছরে অন্তত একটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেন, তাহলে দেশের পরিবেশগত পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। একই সঙ্গে পুকুর, খাল ও জলাশয় পরিষ্কার রাখা, প্লাস্টিক বর্জ্য কমানো এবং প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণেও সবাইকে সচেতন হতে হবে।ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বৃক্ষরোপণকে একটি মহৎ কাজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ইসলামে গাছ লাগানোকে সাদাকায়ে জারিয়ার অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। একটি গাছ থেকে মানুষ, পাখি বা অন্য কোনো প্রাণী উপকৃত হলে তার সওয়াব গাছ রোপণকারীর আমলনামায় যুক্ত হতে থাকে। তাই পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবকল্যাণ—উভয় দিক থেকেই গাছ লাগানোর গুরুত্ব অপরিসীম।পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, আজ যে বীজটি আমরা ফেলে দিচ্ছি, সেটিই আগামী দিনে বিশাল একটি গাছে পরিণত হতে পারে। সেই গাছের ছায়ায় বিশ্রাম নেবে ক্লান্ত পথচারী, তার ডালে বাসা বাঁধবে পাখি, তার ফল খাবে মানুষ ও প্রাণী। হয়তো সেই গাছের নিচেই কোনো শিশু খেলবে, কোনো কৃষক বিশ্রাম নেবে কিংবা কোনো ভ্রমণকারী একটু স্বস্তি খুঁজে পাবে।তাই ফলের বীজকে আর আবর্জনা হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের একটি সম্ভাবনা হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা। তাদের আহ্বান "আজ একটি বীজ সংরক্ষণ করুন, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলুন।"কারণ একটি গাছ শুধু একটি গাছ নয়; এটি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের প্রতীক, ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রকাশ এবং পৃথিবীকে একটু বেশি বাসযোগ্য করে তোলার এক নীরব অঙ্গীকার।
২০ ঘন্টা আগে

শহীদ জিয়ার ১ম সমাধিস্থলে ছাত্রদলের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

শহীদ জিয়ার ১ম সমাধিস্থলে ছাত্রদলের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ফলের আঁটি থেকে সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন

ফলের আঁটি থেকে সবুজ বাংলাদেশের স্বপ্ন

পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে যেভাবে দোয়া করবেন

পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে যেভাবে দোয়া করবেন

মানসিক চাপ যেভাবে ব্রণ বা চর্মরোগের সমস্যা বাড়াতে পারে

মানসিক চাপ যেভাবে ব্রণ বা চর্মরোগের সমস্যা বাড়াতে পারে

কুরবানি হোক কেবল রবের উদ্দেশ্যেই

কুরবানি হোক কেবল রবের উদ্দেশ্যেই

একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করলেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি

একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করলেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি

তালাত মামুনের নেতৃত্বে আসছে ‘লাইভ টিভি’

তালাত মামুনের নেতৃত্বে আসছে ‘লাইভ টিভি’

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে বরিশালের বেশ কিছু এলাকায় ঈদুল আজহা উদযাপন

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে বরিশালের বেশ কিছু এলাকায় ঈদুল আজহা উদযাপন

মহাপরিচালকের ঈদ উপহার পেলেন আনসার-ভিডিপির ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যারা

মহাপরিচালকের ঈদ উপহার পেলেন আনসার-ভিডিপির ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যারা

কলাপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ: 'ধর্ষকদের প্রকাশ্য সর্বোচ্চ শাস্তি না দিলে জনগণ আইন হাতে তুলে নেবে'

কলাপাড়ায় তীব্র ক্ষোভ: 'ধর্ষকদের প্রকাশ্য সর্বোচ্চ শাস্তি না দিলে জনগণ আইন হাতে তুলে নেবে'

মাভাবিপ্রবিতে অর্থনীতি বিভাগের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত

মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মাভাবিপ্রবি) এক ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন মুহূর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে নারীদের ক্রিকেট ম্যাচ। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অর্থনীতি বিভাগ কর্তৃক এই ম্যাচটির আয়োজন করা হয়।উক্ত খেলার শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। এসময় উপস্থিত ছিলেন শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: ফজলুল করীম, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: রবিউল ইসলাম লিটন, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো: নাজমুস সাদেকীনসহ অন্যান্য বিভাগীয় শিক্ষকবৃন্দ।২০ এপ্রিল, বুধবার প্রথমবারের মতো আয়োজিত এই ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মুহুর্মুহু তালি আর করতালিতে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ।ম্যাচে অংশগ্রহণকারী দুটি দলই তাদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করে। ম্যাচ শেষে বিজয়ী ও বিজিত উভয় দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত চমৎকার এবং অনুপ্রেরণাদায়ক একটি উদ্যোগ। পড়াশোনার পাশাপাশি নারীদের খেলাধুলায় এগিয়ে আসার এই চিত্র ক্যাম্পাসের জেন্ডার সমতা ও ক্রীড়াঙ্গনকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আমরা আশা করি প্রতি বছরই এমন আয়োজন করা হবে।খেলোয়াড়দের একজন অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, মাভাবিপ্রবির মাঠে আমরা মেয়েরা ক্রিকেট খেলছি, এটা ভাবতেই অন্যরকম ভালো লাগা কাজ করছে। আশা করি এই ম্যাচ দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও অনেক নারী শিক্ষার্থী মাঠে আসতে অনুপ্রাণিত হবে।এই ঐতিহাসিক ম্যাচটির সফল সমাপ্তি মাভাবিপ্রবির ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করল বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় নারী ক্রিকেট টুর্নামেন্টেও মাভাবিপ্রবির মেয়েরা অংশ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বয়ে আনবে।  এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

মাভাবিপ্রবিতে অর্থনীতি বিভাগের ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
ভোট হয়ে যাক! মাঠের লড়াইয়ের আগে অনলাইনের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

ভোট হয়ে যাক! মাঠের লড়াইয়ের আগে অনলাইনের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

  বিএনপি
  জামাতে ইসলামী
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ জন