ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho - Current & Breaking News Bangladesh & World

সর্বশেষ
মার্কিন ও ইজরাইল-এ নির্বাচনী বার্তা: নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধাক্কা

মার্কিন ও ইজরাইল-এ নির্বাচনী বার্তা: নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধাক্কা

পুরো বিশ্ব যুদ্ধের চাপে ভারাক্রান্ত। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়ে থাকা দুনিয়া মহা অস্থির। অস্তিত্ব সংকটে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলো। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আগুন জ্বলছে। এর পেছনে ইজরাইলের নেতানিয়াহু এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কে দায়ী করা হচ্ছে। এমন অস্থির সময়ের সন্ধিক্ষণে এ দুটি দেশের নির্বাচন বিশ্বজুড়ে তাকিয়ে ভূরাজনীতির গবেষকেরা এবং দুনিয়ার সব মাজলুম। বিশ্ব রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি নির্বাচনের ফলাফল কেবল ক্ষমতার পালাবদল ঘটায় না, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গতিপথ পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরাইলের সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থান যদি নির্বাচনী ধাক্কায় দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে তার প্রভাব শুধু ওয়াশিংটন ও তেলআবিবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত, ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ এবং আন্তর্জাতিক শান্তির হিসাবেও নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।কয়েক বছর ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি, যেখানে সামরিক শক্তি, ভূরাজনৈতিক আধিপত্য এবং নিরাপত্তার যুক্তি মানবিক বিবেচনাকে বারবার পেছনে ঠেলে দিয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক উত্তেজনা, গাজায় ইজরাইলি সামরিক অভিযান এবং ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘস্থায়ী দুর্দশা বিশ্ববিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের নির্বাচনী রাজনীতিতে পরিবর্তনের সম্ভাবনা বিশ্ববাসীর কাছে নতুন প্রত্যাশা তৈরি করাই স্বাভাবিক।নির্বাচনী ধাক্কা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন জনগণের রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশের অন্যতম শক্তিশালী মাধ্যম। কোনো সরকার আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে যত শক্তিশালীই হোক, অভ্যন্তরীণ জনসমর্থন হারাতে থাকলে তার রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা দুর্বল হতে পারে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো ‘আমেরিকা ফার্স্ট’। তাঁর পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সামরিক শক্তি, অর্থনৈতিক চাপ এবং কৌশলগত আধিপত্য বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান প্রশ্নেও তাঁর প্রশাসনের কঠোর অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও জটিল করেছে। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা, যুদ্ধনীতি, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এবং ইজরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে।এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের পদ নির্ধারিত হয় না। তবে কংগ্রেসে বিরোধী দলের শক্তি বৃদ্ধি পেলে প্রেসিডেন্টের যুদ্ধনীতি, বাজেট, সামরিক সহায়তা এবং পররাষ্ট্রনীতির ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও জবাবদিহি বাড়তে পারে। অন্যদিকে ইজরাইলের সংসদীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে সরাসরি সরকার পরিবর্তনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নির্বাচনী ফলাফলকে শুধু কোনো নেতার ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে নয়, বরং তাঁর নীতির প্রতি জনগণের সমর্থন ও বিরোধিতার রাজনৈতিক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।ট্রাম্পের ইরাননীতি মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তা : ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধ নতুন নয়। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমাগত বৈরিতার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব, ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সংঘাত দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালে বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বা জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন (JCPOA) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। অথচ ২০১৮ সালে ট্রাম্প প্রথম মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই চুক্তি থেকে প্রত্যাহার করে নেন। এরপর ইরানের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি অনুসরণ করা হয়।এমন নীতির ফলে দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হয়। সামরিক উত্তেজনা, নিষেধাজ্ঞা এবং পাল্টাপাল্টি হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে দুর্বল করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল হলে ইরাননীতি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে কি না? সম্ভাবনা রয়েছে, তবে তা নিশ্চিত নয়। কেননা, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি শুধু একজন প্রেসিডেন্টের ইচ্ছায় পরিচালিত হয় না। কংগ্রেস, প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান, গোয়েন্দা সংস্থা, ইজরাইলপন্থী রাজনৈতিক লবি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের স্বার্থও এতে প্রভাব বিস্তার করে। তারপরও নির্বাচনী চাপ প্রশাসনকে কূটনৈতিক সমাধান, যুদ্ধের ব্যয় এবং সামরিক সংঘাতের পরিণতি নতুন করে বিবেচনা করতে বাধ্য করতে পারে।দুনিয়ার শান্তিকামী মানুষের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে সামরিকভাবে কোণঠাসা করার পরিবর্তে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনবে। পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতা প্রতিষ্ঠিত হবে। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক সংকট ও ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ একই কাতারে হাজির হয়েছে সাম্প্রতিক। ইজরাইলের রাজনীতিতে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দীর্ঘ সময় ধরে সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের একজন। তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অন্যতম ভিত্তি নিরাপত্তাকেন্দ্রিক জাতীয়তাবাদ এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে কঠোর নীতি।গাজায় সামরিক অভিযান, বেসামরিক মানুষের বিপুল দুর্ভোগ, অবকাঠামোর ধ্বংস এবং মানবিক সহায়তা সংকট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইজরাইলকে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আবাসিক এলাকা ও খাদ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার ফলে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।ইজরাইলের নিরাপত্তার অধিকার কতটা  আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হওয়া উচিত, তেমনি ফিলিস্তিনিদের জীবন, স্বাধীনতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও সমানভাবে স্বীকৃত। একটি জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার নামে অন্য একটি জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব, বাসস্থান ও মৌলিক অধিকার বিপন্ন করা কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক শক্তি দুর্বল হলে ইজরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সরকার গঠনের সুযোগ পেলে গাজা যুদ্ধ, জিম্মিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে নতুন নীতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে এটিও মনে রাখতে হবে, নেতানিয়াহুর বিকল্প কোনো সরকার এলেই ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা নিশ্চিত হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। ইজরাইলের রাজনৈতিক সমাজের একটি বড় অংশের মধ্যে নিরাপত্তা প্রশ্নে কঠোর অবস্থান রয়েছে। তাই প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, আন্তর্জাতিক চাপ এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায্য অধিকার স্বীকার করার মানসিকতা।গাজা : যুদ্ধ নয়, এখন প্রয়োজন খাদ্য, চিকিৎসা ও পুনর্গঠন— গাজার মানুষের জন্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখন ক্ষমতার পরিবর্তন নয়; বেঁচে থাকা। যে ভূখণ্ডে লাখ লাখ মানুষ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের সংকটে রয়েছে, সেখানে যুদ্ধবিরতি শুধু কূটনৈতিক সাফল্য নয়, মানবিক দায়িত্ব। গাজার শিশুদের প্রয়োজন নিরাপদ শৈশব, পরিবারের প্রয়োজন খাদ্য, অসুস্থ মানুষের প্রয়োজন চিকিৎসা এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের প্রয়োজন নিজেদের ঘরে ফিরে যাওয়ার নিশ্চয়তা।বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো যদি সত্যিই মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়, তাহলে গাজার জন্য অবিলম্বে কার্যকর মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রথমত, স্থায়ী ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। দ্বিতীয়ত, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বাধাহীন খাদ্য, পানি, ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রবেশের ব্যবস্থা করতে হবে। তৃতীয়ত, ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল, বিদ্যালয়, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহব্যবস্থা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। চতুর্থত, বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং তাদের ভূমি ও সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।গাজার পুনর্গঠন কোনো একটি দেশের রাজনৈতিক অনুগ্রহের বিষয় নয়। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নৈতিক ও আইনগত দায়িত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত। আর পুনর্গঠনের নামে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূমি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।বিশ্বশান্তির জন্য মার্কিন ও ইজরাইলের দায়িত্ব— মধ্যপ্রাচ্যের সংকট শুধু আঞ্চলিক সমস্যা নয়। এর প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি, জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, খাদ্য নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক কূটনীতির ওপর পড়ে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত বিস্তৃত হলে হরমুজ প্রণালি, পারস্য উপসাগর এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ বড় ধরনের ঝুঁকিতে আরও পড়বে।একইভাবে ইজরাইল-ফিলিস্তিন সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রাষ্ট্রও নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়বে। এতে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর মধ্যে নতুন মেরুকরণ তৈরি হতে পারে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইজরাইলের প্রতি তার কৌশলগত সমর্থনকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষার শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা। ইজরাইলেরও উপলব্ধি করা প্রয়োজন, সামরিক শ্রেষ্ঠত্ব দিয়ে স্থায়ী নিরাপত্তা অর্জন সম্ভব নয়। ফিলিস্তিনিদের রাজনৈতিক অধিকার ও রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যাবে না।তবে ইরানেরও দায়িত্ব রয়েছে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্বকে সম্মান করা এবং আলোচনার মাধ্যমে নিরাপত্তা সংকটের সমাধান খোঁজা।বাংলাদেশের প্রত্যাশা: যুদ্ধ নয়, মানবতার জয় হোকবাংলাদেশ ঐতিহাসিকভাবেই ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের জনগণের কাছে ফিলিস্তিনের প্রশ্ন কেবল পররাষ্ট্রনীতির বিষয় নয়; এটি মানবিক সংহতি ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। বাংলাদেশের উচিত জাতিসংঘ, ওআইসি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক ফোরামে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা অব্যাহত রাখা। একই সঙ্গে গাজার পুনর্গঠনে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন।পরিশেষ : নির্বাচনে কোনো নেতার রাজনৈতিক শক্তি কমে যাওয়া মানেই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। আবার রাজনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনই বিশ্বশান্তির নিশ্চয়তা দেয় না। কিন্তু গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মাধ্যমে যুদ্ধনীতি ও আগ্রাসী পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে জনগণের অসন্তোষ প্রকাশ পেলে তা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।আজ বিশ্বের মানুষের প্রত্যাশা—ইরান যুদ্ধের অবসান হোক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন পথ তৈরি হোক, গাজার আকাশে আর যুদ্ধবিমানের শব্দ না শোনা যাক। শিশুরা আবার বিদ্যালয়ে ফিরুক, ক্ষুধার্ত মানুষ খাদ্য পাক, হাসপাতালগুলো সচল হোক এবং ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন করে জীবন গড়ে উঠুক। নেতানিয়াহু কিংবা ট্রাম্প—কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় হলো মানবতার জয়। রাষ্ট্রের শক্তি মানুষের জীবন রক্ষায় ব্যবহৃত হবে, ধ্বংসে নয়। বিশ্ব রাজনীতি যদি এই সত্য উপলব্ধি করতে পারে, তাহলেই নির্বাচনের প্রকৃত সুফল পাওয়া যাবে।আমরা এমন একটি বিশ্ব চাই, যেখানে যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনীতি, আধিপত্যের পরিবর্তে ন্যায়বিচার এবং ধ্বংসের পরিবর্তে মানবিক পুনর্গঠন হবে আন্তর্জাতিক রাজনীতির প্রধান দর্শন। ইরান শান্তিতে থাকুক, ফিলিস্তিন স্বাধীন হোক, গাজা পুনর্গঠিত হোক—বিশ্বশান্তির প্রত্যাশা হোক সবার।প্রকাশনার আগে একটি সম্পাদকীয় সতর্কতা: নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল, আসনসংখ্যা এবং নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্র দিয়ে যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দল কংগ্রেসে আসন হারালেও সেটি প্রেসিডেন্ট পদে তাঁর পরাজয় নয়।ট্রাম্প বা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের চেয়ে গাজার মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের অবসান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।আসাদ পারভেজ লেখক : ভূরাজনীতির গবেষক ও রাষ্ট্রচিন্তক
১৫ ঘন্টা আগে

মার্কিন ও ইজরাইল-এ নির্বাচনী বার্তা: নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধাক্কা

মার্কিন ও ইজরাইল-এ নির্বাচনী বার্তা: নেতানিয়াহু-ট্রাম্পের রাজনৈতিক ধাক্কা

ন্যানো প্রযুক্তিতে মাছের খাদ্য উদ্ভাবন, দ্বিতীয় পেটেন্ট অর্জন যবিপ্রবি অধ্যাপক ড. জাভেদের

ন্যানো প্রযুক্তিতে মাছের খাদ্য উদ্ভাবন, দ্বিতীয় পেটেন্ট অর্জন যবিপ্রবি অধ্যাপক ড. জাভেদের

বাসাবোতে সংঘবদ্ধ হামলায় রক্তাক্ত জবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী

বাসাবোতে সংঘবদ্ধ হামলায় রক্তাক্ত জবির বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী

সম্পর্কের বাঁধন রক্ষায় ‘ডিউটি সেক্স’: নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

সম্পর্কের বাঁধন রক্ষায় ‘ডিউটি সেক্স’: নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ ও গুণীজন সম্মাননা

লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘চট্টগ্রাম উৎসব ২০২৬’ ও গুণীজন সম্মাননা

থানচিতে শিশু অধিকার সপ্তাহের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন, দুই বিদ্যালয়ের শিরোপা জয়

থানচিতে শিশু অধিকার সপ্তাহের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সম্পন্ন, দুই বিদ্যালয়ের শিরোপা জয়

দুই পাথুরের পাহাড়ে মাঝ খানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

দুই পাথুরের পাহাড়ে মাঝ খানে বাঁশের সাঁকোই ভরসা

ল্যাব না থাকায় কম্পিউটার শেখা হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের

ল্যাব না থাকায় কম্পিউটার শেখা হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের

বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে  ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল

বাগেরহাটে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পের সম্মাননায় লন্ডনে ১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত

ব্রিটিশ-বাংলাদেশি রন্ধনশিল্পের সম্মাননায় লন্ডনে ১৯তম বিসিএ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠিত

ল্যাব না থাকায় কম্পিউটার শেখা হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের

নীলফামারী  জলঢাকা উপজেলার পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ল্যাব না থাকায় কম্পিউটার শিখতে পারছেনা শিক্ষার্থীরা ।পাঠানপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিতে ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আই সি টি বই তাদের বাধ্যতামূলক হলেও হাতে কলমে কম্পিউটার শেখার জন্য নেই কোনো ল্যাব।নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কম্পিউটার শেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। বিদ্যালয়ের আর এক শিক্ষার্থী বলেন, শহরের স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব আছে । কিন্তু শহর অনেক দূরে থাকায় আমরা সেসব স্কুলে পড়তে পারি না ।বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক বলেন, কম্পিউটার ল্যাব না থাকায় ব্যবহারিক ক্লাস নেওয়া হচ্ছে না বই থেকে শিখলেও হাতে কলমে শিক্ষা না থাকায় অনেক কিছুই তারা বুঝতে পারেন না ।অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, পাঠানপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৬২ সালে স্থাপিত হয়। এবং অনেক পুরনো স্কুল। আমি ২০০২  সালে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব গ্রহণ করি। দায়িত্ব নেওয়া সময় স্কুল টি  জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন  এনজিও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,  বিদ্যালয়ের  ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষকবৃন্দ ,ও সরকারি সহযোগিতার  মাধ্যমে বিদ্যালয়টি একটি মডেল প্রতিষ্ঠান হিসাবে দাড় করার চেষ্টা করছি। আমার বিদ্যালয়ে প্রতি বছর এস এস সি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে শিক্ষার্থীরা  পাশ করে সুনাম অর্জন করে আসছে।অত্র বিদ্যালয়ের অনেক সাবেক শিক্ষার্থী বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ব বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে। বিসিএস ক্যাডারসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে দায়িত্ব পালন করছে। এবার সহকারী জজ হিসাবে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক শিক্ষার্থী মোস্তাক আহমেদ  শান্তুু।প্রধান শিক্ষক আরও বলেন, বিদ্যালয়ের আরও কিছু অবকাঠামো গত সমস্যা রয়েছে। বাউন্ডারি ওয়াল নেই, সাইকেল গ্যারেজ নেই, হলরুম সংস্কার প্রয়োজন তিনি জানান ,উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসন সহযোগিতা করলে বিদ্যালয়টি আরও  উন্নত করার চেষ্টা করবো।  এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

ল্যাব না থাকায় কম্পিউটার শেখা হচ্ছে না শিক্ষার্থীদের
২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
ভোট হয়ে যাক! মাঠের লড়াইয়ের আগে অনলাইনের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

ভোট হয়ে যাক! মাঠের লড়াইয়ের আগে অনলাইনের লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

  বিএনপি
  জামাতে ইসলামী
  মন্তব্য নেই
মোট ভোটদাতাঃ ৩ জন