বনভূমি পুনরুদ্ধার পরিবেশবান্ধব বনজ্যবাগান পরিদর্শন
বান্দরবানের থানচি উপজেলা বনভূমি পুনরুদ্ধার পরিবেশবান্ধব বনজ্যবাগান সরেজমিনের
পরিদর্শন করলেন জেলা পরিষদের সদস্য খামলাই ম্রো। আজ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের মেনরোয়া পাড়া,হৈতং
খুমী পাড়া,ডাকছৈ পাড়াসহ বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশবান্ধব বনজ্যবাগান ঘুরে দেখেন
এবং সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।প্রকল্প কর্মকর্তারা জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামে বনাঞ্চলের প্রতিবেশ পুনরুদ্ধার
ও টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা জোরদার করার লক্ষ্যে বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বনভূমি
পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে প্রদর্শনি বনজ্যবৃক্ষ বাগান,পরিচর্চা, টেকসই করার লক্ষ্যে বিভিন্ন
পর্যায়ের অংশীজনরা অংশ নেন।বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় “Scaling up Forest Landscape Restoration in
Chittagong Hill Tracts” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত কার্যক্রম ঘুরে দেখেন তারা।পরিদর্শনের সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা
পরিষদের সদস্য খামলাই ম্রো, বলিপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের
প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোঃ কামরুল ইসলাম,বিএনকেএস উপ- নির্বাহী পরিচালক উবানু মারমা,প্রেস ক্লাবের সভাপতি মংবোওয়াংচিং
মারমা অনুপম,উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মংচপ্রু মারমা, আরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রকল্পের
কর্মকর্তা মংহ্লাছিং মারমা,বিএনকেএস পার্টনার প্রোগ্রাম লীড সুগত জীবন চাকমা, সমাজ
সেবা সুপারভাইজার আমির হোসেন প্রমূখ।পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের খামলাই ম্রো বলেন,“পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় ও
বন শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য নয়, এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।
বনভূমি ধ্বংস হলে পরিবেশের পাশাপাশি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তাই
স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে বন পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।”বিশেষ অতিথি জিয়াঅং মারমা বলেন,প্রকল্পের মাধ্যমে পাহাড়ি এলাকায় পরিকল্পিতভাবে
বৃক্ষরোপণ ও বন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেই এই উদ্যোগ
বাস্তবায়ন করা হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ সুরক্ষা ও জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মংচপ্রু মারমা বলেন, “বনভূমি রক্ষা ও পুনরুদ্ধারে
শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এনজিও, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সম্মিলিত
প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই প্রকল্প সেই সমন্বয়ের একটি ভালো উদাহরণ।”পরিদর্শনকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ, পাহাড়ি জমির ব্যবহার
পদ্ধতি এবং স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এই ধরনের
উদ্যোগ পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক পরিবেশ উন্নয়ন সংস্থা IIED ও UK International
Development এর সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা আরণ্যক ফাউন্ডেশন
ও বিএনকেএস।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
১৩ ঘন্টা আগে