রামাদ্বান প্রায় শেষের পথে, আরো রামাদ্বান আসবে যাবে কিন্তু আমার মায়ের দেখা কি? আর পাবো। দিন যায় রাত হয়, ঘর বাড়ী আত্মীয় স্বজন টিকই আছে কিন্তু আমার আম্মা নেই। বছরের অন্য মাসের তুলনায় আমার জান্নাত আমার আম্মাকে খুব বেশী মনে পড়ে। আমাদের ছোট্র সংসারের এক মাত্র প্রদীপ ছিলেন আমার আম্মা। আমাদের চার ভাই বোনের মধ্যে আমরা সব সময় আমাদের আম্মাকে নিয়ে আমরা ব্যস্ত থাকতাম।রোযা রামাদ্বানের দিনে আম্মার অনেক স্মৃতি আজও নয়নে বেশে উঠে৷ আম্মার অনেক কথা এখনো আমার কানে বেজে উঠে আজ থেকে দুই রামাদ্বান আগে আম্মা আমাদের মধ্যে ছিলেন। কঠিন এক রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার আম্মা দুনিয়া ছেড়ে মাওলার ডাকে সাড়া দেন। আম্মু জীবিত থাকাকালীন অবস্থায় আমি পড়াশোনার জন্য আমার মেজু খালার বাড়ীতে থাকতাম। আব্দুল গফুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি মরহুম নুরুল ইসলাম আমার মেজু খালুর সাথে রমাদ্বানের অনেক সিংহ ভাগ সময়ে অতিবাহিত করেছি।আম্মুর পরে মেজু খালা ও খালু আমাকে অনেক আদর সোহাগ করেছেন। আজ আমার আম্মা সহ মেজু খালা ও খালু এই দুনিয়াতে নেই। আমার বড় খালা আলহাজ্ব মাষ্টার কনর আলী সাহেবের স্ত্রী আম্মু মারা যাওয়ার পর থেকে কিছুটা উনার মধ্যে মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাই। আম্মু ও আমাদের কঠিন সময়ে আমাদের অধিক খোজ খবর নিয়েছেন আমাদের সোনা খালা আমেরিকা বসবারত তিনি। আমার মায়ের মৃত্যু আমাদের জন্য এক অন্ধকার অধ্যায়। বিধির বিধান অনুযায়ী আমাদের একে একে সবাইকে এই ধরনী ছেড়ে চলে যেতে হবে। কিন্তু কিছু স্মৃতি এখন বুকের মধ্যে দাগ কাঠে।রোযার দিনে মায়ের কত মূল্যবান ভালোবাসা,কত আয়োজন, নামাজ রোযার জন্য শাসন তা কি আজ আমাকে কেউ করবেন। রাতে ঘুম থেকে উঠানোর জন্য মায়ের কত তদারকি। শত বার কানের কাছে ডাক। আজ প্রায় দুই বছর রমাদ্বান অতিবাহিত মায়ের মতো কোন নিস্বার্থ মাষ্টার পাইনি। গত ২০২১ সনে আমি প্রবাসে পাড়ি জমাই। মায়ের অনেক চিন্তা রোযা রাখবো কিভাবে। আমি সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে তার পর মায়ের নিখাদ ভালোবাসায় আমাকে এখন কাদিয়ে তুলে। আমি রোযা রাখবো কি করে, ইফতার খাবো কি,প্রতিনিয়ত ফোন করে খোজ খবর নিতেন আম্মা। নামাজ কালাম নিয়ে রীতি হিসাব দিতে হতো।কই দিন যায় মাস যায়, আমার মায়ের মতো তো কেউ আমাকে মিস করেনি। ইফতারের আগে শতেক টেলিফোন, ইফতার সামগ্রী নিয়ে জবাবদিহি করতে হতো। বিদশে যাওয়ার পর রান্না সম্পর্কে আমার তেমন কোন আইডিয়া ছিলো না। আমার রান্না বান্না নিয়ে আম্মা প্রতিনিয়ত টেনশনে থাকতেন। আমাকে রান্না সম্পর্কে অনেক কিছু শেখাতেন। আমার জীবনের একজন সেরা নারী ছিলেন আমার মরহুমা আম্মা।আমার আম্মা পারিবারিক দিক দিয়ে বিত্তবান মানুষ মরহুম আব্দুল জব্বার তালুকদারের মেয়ে হলেও আম্মুর ব্যাক্তিগত জীবনে একজন সাদামাটা মানুষ ছিলেন। আমার দেখামতে আমার আম্মাকে দুনিয়ার কোন দাম্ভিকতা স্পর্শ করেনি। আম্মু সব সময় সরল সহজ ভাবে চলাফেরা করতেন। আমার আব্বার প্রতি আমার আম্মার দায়িত্ব ছিলো খুব প্রশংসনীয়। আমাদের পরিবারের সুখের জন্য আম্মা অনেক পরিশ্রম করে আমাদের আগলে রেখেছেন। রাস্তায় আমার মায়ের ছেয়ে বয়স্ক কত মানুষ দেখি। কিন্তু আমার মা কে দেখি নাই। আমাদের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে নিজেই আজ না ফেরার দেশে চলে গেলেন।হে আসমানের মালিক পবিত্র রামাদ্বানের উছিলায়, আমার জনম দুখী আম্মা ও মেজু খালাকে আপনার জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করেন। লেখক : সাংবাদিক ও প্রাবন্ধিক এনএম/ধ্রুবকন্ঠ