বর্ণাঢ্য ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ডেমরার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মিলনমেলা। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট প্রদান এবং পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ উপহার দেওয়ার মাধ্যমে কৃতী শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন রনির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের সংরক্ষিত জাতীয় সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্যের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং স্কুলের সার্বিক একাডেমিক ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তবে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে স্থানীয় ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার ভোগান্তির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও নিচু রাস্তার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের কোমর সমান পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে হয়। অনেক সময় সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়। এ সময় তিনি মঞ্চে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নিকট এই দুর্ভোগ নিরসনে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আকুল আবেদন জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম অধ্যক্ষের দায়িত্বশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে ‘দেশের এক অমূল্য সম্পদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কদমতলীর মোড় থেকে সম্পূর্ণ হাজী বাদশা মিয়া রোডটি দ্রুত নতুনভাবে সংস্কারের নির্দেশ দেন। বক্তব্যের মঞ্চ থেকেই উপস্থিত ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে (জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার) অবিলম্বে এই কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। এছাড়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সার্বিক মানোন্নয়নে নগদ ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কেবল জিপিএ-৫ পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দেশপ্রেমিক, সৎ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা শিক্ষার্থীদের অর্জিত ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে উচ্চশিক্ষায় আরও উৎকর্ষ সাধনের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবী শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ফেরদৌস হোসেন রনি শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে গভর্নিং বডির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্যায় শিক্ষক-অভিভাবক মেলবন্ধন বজায় রাখার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিপুল সংখ্যক অভিভাবক দীর্ঘদিন পর হাজী বাদশা মিয়া রোড সংস্কার ও জলাবদ্ধতা মুক্তির সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় এক আকর্ষণীয় ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই আয়োজনের জাঁকজমকপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।
.png)
রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বর্ণাঢ্য ও আনন্দমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ডেমরার ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও মিলনমেলা। আজ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, শনিবার প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্রেস্ট প্রদান এবং পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ উপহার দেওয়ার মাধ্যমে কৃতী শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন রনির সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-৪ ও ৫ আসনের সংরক্ষিত জাতীয় সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবী।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কৃতী শিক্ষার্থীদের অভাবনীয় সাফল্যের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং স্কুলের সার্বিক একাডেমিক ও অবকাঠামোগত অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন। তবে বক্তব্য দেওয়ার একপর্যায়ে স্থানীয় ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার ভোগান্তির কথা উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানান, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ও নিচু রাস্তার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা প্লাবিত হয় এবং শিক্ষার্থীদের কোমর সমান পানি মাড়িয়ে স্কুলে আসতে হয়। অনেক সময় সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে শ্রেণী কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে হয়। এ সময় তিনি মঞ্চে উপস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের নিকট এই দুর্ভোগ নিরসনে জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আকুল আবেদন জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আব্দুস সালাম অধ্যক্ষের দায়িত্বশীলতার ভূয়সী প্রশংসা করে তাকে ‘দেশের এক অমূল্য সম্পদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সদস্যদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কদমতলীর মোড় থেকে সম্পূর্ণ হাজী বাদশা মিয়া রোডটি দ্রুত নতুনভাবে সংস্কারের নির্দেশ দেন। বক্তব্যের মঞ্চ থেকেই উপস্থিত ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে (জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার) অবিলম্বে এই কাজ শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। এছাড়া এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের সার্বিক মানোন্নয়নে নগদ ৫ লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের কেবল জিপিএ-৫ পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে দেশপ্রেমিক, সৎ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংরক্ষিত সংসদ সদস্য শিরীন সুলতানা শিক্ষার্থীদের অর্জিত ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে উচ্চশিক্ষায় আরও উৎকর্ষ সাধনের পরামর্শ দেন। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র আলহাজ্ব নবীউল্লাহ নবী শিক্ষক, অভিভাবক ও পরিচালনা পর্ষদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ফেরদৌস হোসেন রনি শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে গভর্নিং বডির অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যেকোনো শিক্ষাসংক্রান্ত সমস্যায় শিক্ষক-অভিভাবক মেলবন্ধন বজায় রাখার ওপর জোর দেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিপুল সংখ্যক অভিভাবক দীর্ঘদিন পর হাজী বাদশা মিয়া রোড সংস্কার ও জলাবদ্ধতা মুক্তির সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরিশেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় এক আকর্ষণীয় ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী এই আয়োজনের জাঁকজমকপূর্ণ সমাপ্তি ঘটে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন