রাজধানীর ডেমরা এলাকার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ বর্তমানে এক গভীর প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা ও সংকটকাল পার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা এখন চরমে। এক পক্ষ যখন প্রতিষ্ঠানের "ঐতিহ্য ও মান" রক্ষার দোহাই দিচ্ছে, অন্য পক্ষ তখন একে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কৃত্রিম স্লোগান এবং অবৈধ দখলের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় শীর্ষে ওঠার গল্প
ডেমরার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিদ্যাপীঠটি সবসময়ই ফলাফলের দিক থেকে ঢাকার অন্যতম শীর্ষস্থান দখল করে এসেছে। সংক্ষুব্ধ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, এই সাফল্যের পেছনে মূল কারিগর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
তাদের দাবি, শূন্য থেকে শুরু করে তিল তিল করে শৃঙ্খলা, মেধা ও কঠোর প্রশাসনিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে রূপান্তর করেছেন। বছরের পর বছর ধরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক মানোন্নয়নের নেপথ্যে তাঁর অবদান সর্বজনবিদিত।
ঐতিহ্য নাকি প্রভাব বিস্তারের লড়াই?
বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সাধারণ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ অভিভাবকের মতে , একটি বিশেষ মহল মুখে প্রতিষ্ঠানের "ঐতিহ্য" রক্ষার কথা বললেও বাস্তবে তারা প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার চক্রান্তে লিপ্ত। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা নানা অভিযোগকে তারা "উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন" বলে দাবি করছেন।
একজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
"যে নেতৃত্ব এই প্রতিষ্ঠানকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাঁকে মাইনাস করে বা অপমান করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ঐতিহ্য মুখে বলা সহজ, কিন্তু তা ধরে রাখা কঠিন।"
শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা
প্রশাসনিক এই বিশৃঙ্খলা ও দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত একাডেমিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং শিক্ষার মান ও পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সব বিতর্ক নিরসন করে ইতিবাচক সমাধানের লক্ষ্যে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
.png)
রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬
রাজধানীর ডেমরা এলাকার খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ বর্তমানে এক গভীর প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা ও সংকটকাল পার করছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ অভিভাবক প্রতিনিধি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা এখন চরমে। এক পক্ষ যখন প্রতিষ্ঠানের "ঐতিহ্য ও মান" রক্ষার দোহাই দিচ্ছে, অন্য পক্ষ তখন একে একটি স্বার্থান্বেষী মহলের কৃত্রিম স্লোগান এবং অবৈধ দখলের অপচেষ্টা হিসেবে দেখছে।
সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জাতীয় শীর্ষে ওঠার গল্প
ডেমরার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই বিদ্যাপীঠটি সবসময়ই ফলাফলের দিক থেকে ঢাকার অন্যতম শীর্ষস্থান দখল করে এসেছে। সংক্ষুব্ধ শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, এই সাফল্যের পেছনে মূল কারিগর প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
তাদের দাবি, শূন্য থেকে শুরু করে তিল তিল করে শৃঙ্খলা, মেধা ও কঠোর প্রশাসনিক নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি এই প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অন্যতম সেরা বিদ্যাপীঠে রূপান্তর করেছেন। বছরের পর বছর ধরে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য এবং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর একাডেমিক মানোন্নয়নের নেপথ্যে তাঁর অবদান সর্বজনবিদিত।
ঐতিহ্য নাকি প্রভাব বিস্তারের লড়াই?
বর্তমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সাধারণ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ অভিভাবকের মতে , একটি বিশেষ মহল মুখে প্রতিষ্ঠানের "ঐতিহ্য" রক্ষার কথা বললেও বাস্তবে তারা প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি ভেঙে দেওয়ার চক্রান্তে লিপ্ত। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আনা নানা অভিযোগকে তারা "উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন" বলে দাবি করছেন।
একজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
"যে নেতৃত্ব এই প্রতিষ্ঠানকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে এসেছে, তাঁকে মাইনাস করে বা অপমান করে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা সম্ভব নয়। ঐতিহ্য মুখে বলা সহজ, কিন্তু তা ধরে রাখা কঠিন।"
শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা
প্রশাসনিক এই বিশৃঙ্খলা ও দ্বিমুখী অবস্থানের কারণে প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত একাডেমিক পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে এবং শিক্ষার মান ও পরিবেশ বজায় রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সমাজকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং সব বিতর্ক নিরসন করে ইতিবাচক সমাধানের লক্ষ্যে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন