ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

প্রত্যাশী-সিমস প্রকল্পের আয়োজনে চট্টগ্রামে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা



প্রত্যাশী-সিমস প্রকল্পের আয়োজনে চট্টগ্রামে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা

বেসরকারি সেবা ও উন্নয়ন সংস্থা “প্রত্যাশী” র সিমস প্রকল্পের উদ্যোগে ৩১ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহিলা সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন ইস্যুতে চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বয়ে “নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে।


প্রত্যাশীর নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো শরীফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) সুব্রত দাশ।


প্রত্যাশী সিমস প্রকল্প ব্যবস্থাপক বশির আহম্মদ মনি (সূফি মনি)’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রত্যাশী সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ সেলিম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন বিকেটিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী পলাশ কুমার বড়ুয়া, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সহকারি মহাব্যবস্থাপক হাসান মোহাম্মদ সাহারিয়া, চট্টগ্রাম মহিলা টিটিসির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী আশরিফা তানজীম, ওয়েলফেয়ার সেন্টার- চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক মো. আতিকুল আলম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উৎস’র নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কামাল যাত্রা, জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির বিভাগীয় সমন্বয়কারী এডভোকেট দিল আফরোজ প্রমুখ।


সভায় অন্যান্যদের মধ্যে চট্টগ্রামে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), বিমান বন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, আইনজীবি, রিক্রুটিং এজেন্সি, সাংবাদিক, মাইগ্রেশন ফোরাম, জিএমসি এবং অভিবাসীকর্মী প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন- মূলত তথ্য ঘাটতি ও তথ্য বিভ্রাটের কারণে অধিকাংশ অভিবাসী কর্মীগণ সমস্যার শিকার হন। তাদের চ্যালেঞ্জগুলো নির্ধারণ করে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি এ সময় সমন্বয় সভার গুরুত্বপূর্ণ ফিডব্যাকগুলো জেলা অভিবাসন কমিটিতে উপস্থাপনের উপর গুরুত্বারূপ করেন। তিনি আরো বলেন- যৌথভাবে কাজ করলে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। তাই এ ধরণের সমন্বয় সভা যত বেশি আয়োজন করা হবে, অভিবাসী কর্মীদের সেবা, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা তত বেশি সহজ হবে।


বিশেষ অতিথি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) সুব্রত দাশ তাঁর বক্তব্যে বলেন- বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার নিশ্চিতে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। শ্রম অভিবাসী, বিদেশফেরত ব্যক্তি অথবা প্রবাসী পরিবার প্রতারণার শিকার হলে লিগ্যাল এইড অফিসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অবশ্যই বিদেশগামী কর্মীদের ন্যায্য ও স্বচ্ছ চুক্তিপত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শ্রমিকরা প্রতারণা, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকে।


সভাপতি ও প্রত্যাশী নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন- সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সবাই একই প্লাটফর্মে অভিবাসীদের পাশে থাকতে প্রত্যাশী সব সময় এ ধরণের ইভেন্ট আয়োজনে আন্তরিক। তিনি আরও বলেন যে, তথ্যপ্রদান, প্রাসঙ্গিক পরামর্শ, আইনগত সহায়তা ও কমিউনিটি পর্যায়ের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশগমন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।


বিশেষ অতিথি ডিইএমও’র সহকারী পরিচালক, বিকেটিটিসি অধ্যক্ষ, মহিলা টিটিসি’র অধ্যক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক জেনে বুঝে ও দক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রবাসী ও তাদের পরিবারের কল্যাণে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সরকারি পরিষেবা সমুহ বর্ণনা করেন। তাঁরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়ার জন্য আহবান জানান।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬


প্রত্যাশী-সিমস প্রকল্পের আয়োজনে চট্টগ্রামে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা

প্রকাশের তারিখ : ৩১ মার্চ ২০২৬

featured Image

বেসরকারি সেবা ও উন্নয়ন সংস্থা “প্রত্যাশী” র সিমস প্রকল্পের উদ্যোগে ৩১ মার্চ ২০২৬ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম মহিলা সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সম্মেলন কক্ষে নিরাপদ অভিবাসন ইস্যুতে চট্টগ্রাম জেলায় কর্মরত সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনদের সমন্বয়ে “নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ক সমন্বয় সভা” অনুষ্ঠিত হয়েছে।


প্রত্যাশীর নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো শরীফ উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) সুব্রত দাশ।


প্রত্যাশী সিমস প্রকল্প ব্যবস্থাপক বশির আহম্মদ মনি (সূফি মনি)’র সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রত্যাশী সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ সেলিম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন বিকেটিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী পলাশ কুমার বড়ুয়া, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সহকারি মহাব্যবস্থাপক হাসান মোহাম্মদ সাহারিয়া, চট্টগ্রাম মহিলা টিটিসির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) প্রকৌশলী আশরিফা তানজীম, ওয়েলফেয়ার সেন্টার- চট্টগ্রামের সহকারি পরিচালক মো. আতিকুল আলম, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উৎস’র নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কামাল যাত্রা, জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতির বিভাগীয় সমন্বয়কারী এডভোকেট দিল আফরোজ প্রমুখ।


সভায় অন্যান্যদের মধ্যে চট্টগ্রামে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও), বিমান বন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক, আইনজীবি, রিক্রুটিং এজেন্সি, সাংবাদিক, মাইগ্রেশন ফোরাম, জিএমসি এবং অভিবাসীকর্মী প্রতিনিধি উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।


অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন বলেন- মূলত তথ্য ঘাটতি ও তথ্য বিভ্রাটের কারণে অধিকাংশ অভিবাসী কর্মীগণ সমস্যার শিকার হন। তাদের চ্যালেঞ্জগুলো নির্ধারণ করে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি এ সময় সমন্বয় সভার গুরুত্বপূর্ণ ফিডব্যাকগুলো জেলা অভিবাসন কমিটিতে উপস্থাপনের উপর গুরুত্বারূপ করেন। তিনি আরো বলেন- যৌথভাবে কাজ করলে অভিবাসন প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও ঝুঁকিমুক্ত হবে। তাই এ ধরণের সমন্বয় সভা যত বেশি আয়োজন করা হবে, অভিবাসী কর্মীদের সেবা, অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা তত বেশি সহজ হবে।


বিশেষ অতিথি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সিভিল জজ) সুব্রত দাশ তাঁর বক্তব্যে বলেন- বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ অনুযায়ী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও তাদের অধিকার নিশ্চিতে স্পষ্ট বিধান রয়েছে। শ্রম অভিবাসী, বিদেশফেরত ব্যক্তি অথবা প্রবাসী পরিবার প্রতারণার শিকার হলে লিগ্যাল এইড অফিসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অবশ্যই বিদেশগামী কর্মীদের ন্যায্য ও স্বচ্ছ চুক্তিপত্র প্রদান নিশ্চিত করতে হবে, যাতে শ্রমিকরা প্রতারণা, অতিরিক্ত ব্যয় ও অনিরাপদ অভিবাসনের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষিত থাকে।


সভাপতি ও প্রত্যাশী নির্বাহী পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন- সরকারি ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। সবাই একই প্লাটফর্মে অভিবাসীদের পাশে থাকতে প্রত্যাশী সব সময় এ ধরণের ইভেন্ট আয়োজনে আন্তরিক। তিনি আরও বলেন যে, তথ্যপ্রদান, প্রাসঙ্গিক পরামর্শ, আইনগত সহায়তা ও কমিউনিটি পর্যায়ের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিদেশগমন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধি পায়।


বিশেষ অতিথি ডিইএমও’র সহকারী পরিচালক, বিকেটিটিসি অধ্যক্ষ, মহিলা টিটিসি’র অধ্যক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ সেন্টারের সহকারী পরিচালক ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সহকারী ব্যবস্থাপক জেনে বুঝে ও দক্ষ হয়ে বিদেশ যাওয়ার উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং প্রবাসী ও তাদের পরিবারের কল্যাণে স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের সরকারি পরিষেবা সমুহ বর্ণনা করেন। তাঁরা এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সচেতন হওয়ার জন্য আহবান জানান।


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত