১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক পটভূমি, এর নেপথ্যের কারণ এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পটপরিবর্তন নিয়ে আলোচনা সভা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান: বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ প্রতিপাদ্যে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, এর পেছনের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তনে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের পুনর্গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ঐতিহাসিক পর্যালোচনা তুলে ধরেন।
আলোচনায় ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ থেকে বর্তমান রাজনীতির জন্য কী ধরনের শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও মতামত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার আলোকে জাতীয় ছাত্রশক্তির আদর্শিক অবস্থান, সাংগঠনিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার দিকনির্দেশনা নিয়েও আলোচনা করেন বক্তারা।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক নাঈম ভুঁইয়া বলেন, 'বাংলাদেশে ইতিহাসকে সবসময়ই বিভিন্ন মোড়কে উপস্থাপন করা হয়। যখন যে পক্ষ ক্ষমতায় থাকে, সে পক্ষ তার ক্ষমতার রং অনুযায়ী ইতিহাসকে সাজিয়ে ও পরিবেশন করে। অথচ ইতিহাস হওয়ার কথা পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি জাতি তার ভুল, অর্জন ও সংগ্রামের পথ পর্যালোচনা করবে, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা খুঁজবে। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনরা বারবার ইতিহাসকেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নিজেদের রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ইতিহাসের নানা অধ্যায়কে আড়াল করেছে, কোনো কোনো অধ্যায়কে অতিরঞ্জিত করেছে, আবার কোনো অধ্যায়কে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে।'
তিনি বলেন, 'এই রাজনৈতিক বয়ানের বাইরে দাঁড়িয়ে যারা বাংলাদেশের ইতিহাসকে তার বহুমাত্রিকতা, ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের অভিজ্ঞতা, অর্জন, ভুল ও অবদানসহ সামগ্রিকভাবে দেখতে চায়, তাদের পাশে থাকবে জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা বিশ্বাস করি, ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। ইতিহাসকে ক্ষমতার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলার আগেই সমাজকে হতে হবে ইতিহাসসচেতন। কারণ, যে সমাজ নিজের ইতিহাসকে প্রশ্ন করতে জানে না, সে সমাজ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি থেকেও শিক্ষা নিতে পারে না। ইতিহাসকে জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং প্রশ্ন করতে হবে কোনো ক্ষমতার রঙিন চশমা দিয়ে নয়, বরং সত্য অনুসন্ধানের দায়বদ্ধতা থেকে।'
জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নিলয় বড়ুয়া বলেন, '৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়। এই ৭ই নভেম্বর এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা সভা হয়। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই যারা উপস্থিত ছিলেন এই সভায়। সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এর সাথে বর্তমান প্রেক্ষাপট কে ফিরে দেখা। ইতিহাস সম্পর্কে সবার। সঠিক তথ্য ইতিহাস জানার জন্যই। আমাদের জাতীয় ছাত্রশক্তি,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই আয়োজন ছিলো। সামনে আমাদের পাঠক্র চলবে।বিপ্লবের দিবস গুলো সঠিক ইতিহাস তথ্য যেন সবাই জানে। আমাদের এই পাঠচক্রে আলোচনা থাকবে। শিখার পরিবেশ থাকবে।
.png)
রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক পটভূমি, এর নেপথ্যের কারণ এবং অভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পটপরিবর্তন নিয়ে আলোচনা সভা করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
শনিবার (৭ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান: বর্তমানের প্রেক্ষাপটে ফিরে দেখা’ প্রতিপাদ্যে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, এর পেছনের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপট এবং বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তনে এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন।
বক্তারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে বাংলাদেশের পুনর্গঠন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তার ভূমিকা এবং গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের ঐতিহাসিক পর্যালোচনা তুলে ধরেন।
আলোচনায় ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ থেকে বর্তমান রাজনীতির জন্য কী ধরনের শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়েও মতামত তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার আলোকে জাতীয় ছাত্রশক্তির আদর্শিক অবস্থান, সাংগঠনিক দর্শন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথচলার দিকনির্দেশনা নিয়েও আলোচনা করেন বক্তারা।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক নাঈম ভুঁইয়া বলেন, 'বাংলাদেশে ইতিহাসকে সবসময়ই বিভিন্ন মোড়কে উপস্থাপন করা হয়। যখন যে পক্ষ ক্ষমতায় থাকে, সে পক্ষ তার ক্ষমতার রং অনুযায়ী ইতিহাসকে সাজিয়ে ও পরিবেশন করে। অথচ ইতিহাস হওয়ার কথা পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান অনুঘটক। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি জাতি তার ভুল, অর্জন ও সংগ্রামের পথ পর্যালোচনা করবে, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা খুঁজবে। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষমতাসীনরা বারবার ইতিহাসকেই ক্ষমতা কুক্ষিগত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। নিজেদের রাজনৈতিক বয়ান প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে ইতিহাসের নানা অধ্যায়কে আড়াল করেছে, কোনো কোনো অধ্যায়কে অতিরঞ্জিত করেছে, আবার কোনো অধ্যায়কে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছে।'
তিনি বলেন, 'এই রাজনৈতিক বয়ানের বাইরে দাঁড়িয়ে যারা বাংলাদেশের ইতিহাসকে তার বহুমাত্রিকতা, ভিন্ন ভিন্ন পক্ষের অভিজ্ঞতা, অর্জন, ভুল ও অবদানসহ সামগ্রিকভাবে দেখতে চায়, তাদের পাশে থাকবে জাতীয় ছাত্রশক্তি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা বিশ্বাস করি, ইতিহাস কোনো ব্যক্তি, দল কিংবা গোষ্ঠীর একক সম্পত্তি নয়। ইতিহাসকে ক্ষমতার হাতিয়ার বানিয়ে ফেলার আগেই সমাজকে হতে হবে ইতিহাসসচেতন। কারণ, যে সমাজ নিজের ইতিহাসকে প্রশ্ন করতে জানে না, সে সমাজ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি থেকেও শিক্ষা নিতে পারে না। ইতিহাসকে জানতে হবে, বুঝতে হবে এবং প্রশ্ন করতে হবে কোনো ক্ষমতার রঙিন চশমা দিয়ে নয়, বরং সত্য অনুসন্ধানের দায়বদ্ধতা থেকে।'
জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক নিলয় বড়ুয়া বলেন, '৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালিত হয়। এই ৭ই নভেম্বর এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা সভা হয়। সবাইকে ধন্যবাদ জানাই যারা উপস্থিত ছিলেন এই সভায়। সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান এর সাথে বর্তমান প্রেক্ষাপট কে ফিরে দেখা। ইতিহাস সম্পর্কে সবার। সঠিক তথ্য ইতিহাস জানার জন্যই। আমাদের জাতীয় ছাত্রশক্তি,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই আয়োজন ছিলো। সামনে আমাদের পাঠক্র চলবে।বিপ্লবের দিবস গুলো সঠিক ইতিহাস তথ্য যেন সবাই জানে। আমাদের এই পাঠচক্রে আলোচনা থাকবে। শিখার পরিবেশ থাকবে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন