ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

অপ্রতিম হত্যার বিচার ও ৪ দফা দাবিতে কুবিতে মৌন মিছিল



অপ্রতিম হত্যার বিচার ও ৪ দফা দাবিতে কুবিতে মৌন মিছিল
অপ্রতিম হত্যার বিচার ও ৪ দফা দাবিতে কুবিতে মৌন মিছিল


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মৌন মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়।


মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। গোলচত্বর থেকে মিছিলটি আইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হয়ে দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত যায়। পরে পুনরায় গোলচত্বরে ফিরে এসে কর্মসূচি শেষ হয়।


শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ওসিদের প্রত্যাহার; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার; এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠন।


মিছিল শেষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহা খানম বলেন, “অপ্রতিম হত্যার শোক পালন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে আমরা এই মৌন মিছিল করেছি। শুরু থেকেই আমরা ৪ দফা দাবি জানিয়ে আসছি। প্রশাসন যেন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”


ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূইয়া বলেন, “স্বৈরাচার আমল থেকেই আমরা কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত দেখে আসছি। এই কিশোর গ্যাংকে কারা জিইয়ে রাখছে এবং কারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা দেখেছি, প্রায় ৬–৭ মাস আগে তুহিনের ঘটনার সময় একটি বাইক চুরির ঘটনায় জড়িতদের কীভাবে রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই মূলত এসব অপরাধীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং তাদের অপরাধে উৎসাহ জোগায়।


আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কিশোর গ্যাং ও অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের গোড়া থেকে নির্মূল করা করা না গেলে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”


মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ সময় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।


উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ি এলাকার পশ্চিম সানন্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর জানাজা ও দাফন শেষে অপ্রতিম হত্যার বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেসময় তারা ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন।


আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


অপ্রতিম হত্যার বিচার ও ৪ দফা দাবিতে কুবিতে মৌন মিছিল

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যার দ্রুত বিচার এবং শিক্ষার্থীদের ঘোষিত ৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মৌন মিছিল করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।


মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়।


মিছিলে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। গোলচত্বর থেকে মিছিলটি আইন ও ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক হয়ে দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত যায়। পরে পুনরায় গোলচত্বরে ফিরে এসে কর্মসূচি শেষ হয়।


শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো: অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের আসামিদের গ্রেপ্তার করে ৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ওসিদের প্রত্যাহার; কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন ও দৃশ্যমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার; এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠন।


মিছিল শেষে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারহা খানম বলেন, “অপ্রতিম হত্যার শোক পালন এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবিতে আমরা এই মৌন মিছিল করেছি। শুরু থেকেই আমরা ৪ দফা দাবি জানিয়ে আসছি। প্রশাসন যেন দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার পাশাপাশি আমাদের দাবিগুলো বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”


ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূইয়া বলেন, “স্বৈরাচার আমল থেকেই আমরা কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত দেখে আসছি। এই কিশোর গ্যাংকে কারা জিইয়ে রাখছে এবং কারা তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে, তা খতিয়ে দেখা দরকার। আমরা দেখেছি, প্রায় ৬–৭ মাস আগে তুহিনের ঘটনার সময় একটি বাইক চুরির ঘটনায় জড়িতদের কীভাবে রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের আশ্রয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। তারাই মূলত এসব অপরাধীকে পৃষ্ঠপোষকতা করে এবং তাদের অপরাধে উৎসাহ জোগায়।


আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, কিশোর গ্যাং ও অপরাধীদের পৃষ্ঠপোষকদের গোড়া থেকে নির্মূল করা করা না গেলে সমাজকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তাই প্রশাসনের কাছে আমাদের জোর দাবি, প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”


মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি দেন। এ সময় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের ৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দেন।


উল্লেখ্য, গত ১৮ সেপ্টেম্বর মায়ের আইফোন নিয়ে ছবি তুলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ি এলাকার পশ্চিম সানন্দা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর জানাজা ও দাফন শেষে অপ্রতিম হত্যার বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। সেসময় তারা ৪ দফা দাবি উত্থাপন করেন।



ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত