ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

সনদ জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও বেরোবি শিক্ষক ইউসুফের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা নেই, তথ্য অধিকার আইনে জানতে চাইলেন অভিযোগকারী



সনদ জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও বেরোবি শিক্ষক ইউসুফের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা নেই, তথ্য অধিকার আইনে জানতে চাইলেন অভিযোগকারী
ছবি: বেরোবি শিক্ষক মো. ইউসুফ

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছেন অভিযোগকারী শিক্ষক ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর তিনি এ আবেদন করেন। আবেদনে ইউসুফের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে সে-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।


আবেদনে গোলাম রব্বানী জানতে চেয়েছেন, তাঁর করা পূর্বের আবেদনগুলোর ভিত্তিতে ইউসুফের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে কি না। করে থাকলে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিবেদনের সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে এ বিষয়ে কোনো চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে থাকলে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো জবাব দিয়ে থাকলে, সেসব চিঠির সত্যায়িত কপিও চেয়েছেন তিনি।


অভিযোগকারী আরও জানতে চেয়েছেন, মো. ইউসুফ বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বা পরীক্ষা নিচ্ছেন কি না। নিয়ে থাকলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কী ব্যবস্থা নিয়েছে বা কেন নেয়নি, তার লিখিত ব্যাখ্যাও আবেদনে চাওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকলে তার কারণ, ইউসুফের বিরুদ্ধে থানা বা মামলাপর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও লিখিত তথ্য চেয়েছেন গোলাম রব্বানী।


এ ছাড়া তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ-আদেশের সত্যায়িত কপি, এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তার রেজুলেশনের সত্যায়িত কপি এবং ২০ কর্মদিবস পার হওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সিন্ডিকেটে কোনো পর্যালোচনা হয়ে থাকলে তার কপিও চাওয়া হয়েছে।


গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমি যেহেতু অভিযোগকারী, তাই তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটি জানতে চেয়েছি। এ ছাড়া অভিযোগের তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে আরও কয়েকটি তথ্য চেয়েছি।’


এর আগে ইউসুফের নিয়োগের সময় জমা দেওয়া এইচএসসি সনদ যাচাই করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ডে তথ্যের অমিল পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ড অনুযায়ী, ইউসুফের প্রকৃত জিপিএ ২.৯০ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া সনদে জিপিএ ৩.০১ উল্লেখ ছিল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।


গোলাম রব্বানীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে সনদ ও ফলাফল যাচাই করে বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ডের সঙ্গে অমিলের তথ্য পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উঠে আসে। তবে এক বছর পার হলেও বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে উচ্চতর তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।


এদিকে একই ধরনের জাল সনদে চাকুরি ও জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও ইউসুফের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা চলছে। 


এ বিষয়ে উচ্চতর তদন্ত কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অথবা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তাঁর কাছে ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এটা তো তদন্তাধীন আছে। রিপোর্ট জমা হলে সিন্ডিকেটে যাবে। তারপর সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।



তবে এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা করেছেন বলে জানান মো. ইউসুফ। মামলার ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু মামলা চলমান তাই এ ব্যাপারে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


সনদ জালিয়াতির প্রমাণ মিললেও বেরোবি শিক্ষক ইউসুফের বিরুদ্ধে কেনো ব্যবস্থা নেই, তথ্য অধিকার আইনে জানতে চাইলেন অভিযোগকারী

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইউসুফের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে অসঙ্গতির প্রমাণ পাওয়ার পরও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করেছেন অভিযোগকারী শিক্ষক ও একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম রব্বানী।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর তিনি এ আবেদন করেন। আবেদনে ইউসুফের বিরুদ্ধে করা অভিযোগের তদন্তের সর্বশেষ অবস্থা, তদন্ত প্রতিবেদন এবং তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে সে-সংক্রান্ত তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে।


আবেদনে গোলাম রব্বানী জানতে চেয়েছেন, তাঁর করা পূর্বের আবেদনগুলোর ভিত্তিতে ইউসুফের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি ও দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে কি না। করে থাকলে সংশ্লিষ্ট কমিটির প্রতিবেদনের সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে।


এ ছাড়া বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) থেকে এ বিষয়ে কোনো চিঠি বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে থাকলে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কোনো জবাব দিয়ে থাকলে, সেসব চিঠির সত্যায়িত কপিও চেয়েছেন তিনি।


অভিযোগকারী আরও জানতে চেয়েছেন, মো. ইউসুফ বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বা পরীক্ষা নিচ্ছেন কি না। নিয়ে থাকলে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কী ব্যবস্থা নিয়েছে বা কেন নেয়নি, তার লিখিত ব্যাখ্যাও আবেদনে চাওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়ে থাকলে তার কারণ, ইউসুফের বিরুদ্ধে থানা বা মামলাপর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না এবং ভবিষ্যতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও লিখিত তথ্য চেয়েছেন গোলাম রব্বানী।


এ ছাড়া তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ-আদেশের সত্যায়িত কপি, এ বিষয়ে সিন্ডিকেট সভায় আলোচনা বা সিদ্ধান্ত হয়ে থাকলে তার রেজুলেশনের সত্যায়িত কপি এবং ২০ কর্মদিবস পার হওয়ার পরও তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে সিন্ডিকেটে কোনো পর্যালোচনা হয়ে থাকলে তার কপিও চাওয়া হয়েছে।


গোলাম রব্বানী বলেন, ‘আমি যেহেতু অভিযোগকারী, তাই তাঁর বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেটি জানতে চেয়েছি। এ ছাড়া অভিযোগের তদন্ত ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে আরও কয়েকটি তথ্য চেয়েছি।’


এর আগে ইউসুফের নিয়োগের সময় জমা দেওয়া এইচএসসি সনদ যাচাই করে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ডে তথ্যের অমিল পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ড অনুযায়ী, ইউসুফের প্রকৃত জিপিএ ২.৯০ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দেওয়া সনদে জিপিএ ৩.০১ উল্লেখ ছিল। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।


গোলাম রব্বানীর অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পরে সনদ ও ফলাফল যাচাই করে বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ডের সঙ্গে অমিলের তথ্য পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উঠে আসে। তবে এক বছর পার হলেও বিষয়টির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে উচ্চতর তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।


এদিকে একই ধরনের জাল সনদে চাকুরি ও জালিয়াতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও ইউসুফের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা সমালোচনা চলছে। 


এ বিষয়ে উচ্চতর তদন্ত কমিটির সদস্য ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহ. রাশেদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। অথবা বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সদস্য সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তাঁর কাছে ডকুমেন্ট সংরক্ষিত থাকে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এটা তো তদন্তাধীন আছে। রিপোর্ট জমা হলে সিন্ডিকেটে যাবে। তারপর সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত নেবে।



তবে এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা করেছেন বলে জানান মো. ইউসুফ। মামলার ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু মামলা চলমান তাই এ ব্যাপারে মন্তব্য করা ঠিক হবে না।


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত