ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

কচ্ছপ গতিতে চলছে বাকৃবির ইন্টারনেট, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা



কচ্ছপ গতিতে চলছে বাকৃবির ইন্টারনেট, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতির ওয়াই-ফাই সংযোগ ও দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ক্ষণে ক্ষণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, আবার থাকলেও অনেক সময় পর্যাপ্ত গতি থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ চলে গেলে দুই-তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ওয়াই-ফাই না আসার অভিযোগ রয়েছে।


ফলে অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। সামান্য বৃষ্টিতে আসতে না আসতে অনেক সময় ‘নো ইন্টারনেট’ দেখায় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন হল প্রভোস্টদের জানালেও মিলছে না কোনো কার্যকর সমাধান। 


শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবখানে ইন্টারনেট কানেকশন মোটামুটি পায়। কিন্তু কানেশন খুব দূর্বল। ঠিকমতো অনলাইনভিত্তিক শিক্ষার কার্যক্রম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে তো চলে যায়না। এ ইন্টারনেট দিয়ে ফেসবুকে ন্যুনতম একটা মেসেজও করা যায় না। অপেক্ষা করা লাগে বেশ কিছু সময়। এভাবে কি চলা যায়? একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে নেট আসতে আসতে ৪-৫ ঘণ্টা পর হয়ে যায়। 


এ নিয়ে হলের শিক্ষার্থীরা বার বার অভিযোগ দিলে সমাধানের আশ্বাস জানালেও স্থায়ী সমাধান এখনো মেলেনি। এমনকি মোবাইল নেটওয়ার্কেও দারুণ সমস্যা করে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। হলের মধ্যে গ্রামীণফোন, এয়ারটেল সিমের নেট খুব একটা পায়না বলে অভিযোগ জানায়। একেতো ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সুবিধা ঠিক মতো নিতে পারছে না, অন্যদিকে মোবাইল নেটওয়ার্কেও চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছেলেদের ৯টি ও মেয়েদের ৬টি আবাসিক হলের প্রতিটিতে দেওয়া হয়েছে ওয়াইফাই সুবিধা। দামিদামি রাউটার থাকলেও ইন্টারনেটের গতি খুবই কম। আবাসিক হলে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটে নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করেন। কিন্তু ধীর গতির ইন্টারনেটের কারণে কোন কিছুই ঠিক মতো করতে পারছেন না তারা। 


এই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সম্রাট বলেন, হলের ব্লকের ওয়াইফাইগুলোর অবস্থা খুবই জঘন্য। কিছু সময় ভালো থাকে, আবার স্পীড চলে যায়। মাঝেমধ্যে আবার একেবারেই ওয়াইফাই থাকেইনা। দেখা যাচ্ছে অনলাইনে কোনো একটা এক্সাম লিংকে বা প্রয়োজনীয় কোনো জায়গায় ঢুকলে হুট করে ওয়াইফাই ডিস্টার্ব করে। ফলে পুরো প্রসেসিং টাই নষ্ট করে দেয়। আর কারেন্ট একবার চলে গেলে আবার কারেন্ট ব্যাক করার ২-৩ ঘন্টার মাঝেও ওয়াইফাই আসেনা। যেটা এই যুগে এসে চরম একটা দুর্ভোগ এর বিষয়।


এই সমস্যা শুধু শিক্ষার্থীদের এমন নয়, শিক্ষকেরাও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা জানায় নিয়মিত অনলাইন মিটিং থাকে, ইন্টারনেটের কম গতির কারণে প্রচুর সমস্যার মুখে পড়তে হয়। প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত গতি দূরের কথা ঠিকমতো কানেকশন পাওয়া যায়না। এতে স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানা খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।


তিনি বলেন, ইন্টারনেটের স্পিড অত্যন্ত নাজুক। আমরা অনেক সময় অনলাইনে মিটিং করি, সেটা কোনক্রমেই করা সম্ভব হচ্ছে না। আরেকটা বিষয় হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও খুবই দুর্বল, বিশেষ করে গ্রামীণফোনের। আমরা যখন অনলাইনে কোনো কিছু করতে যাই, আমাদের অভ্যন্তরীণ যে ওয়াইফাই সেটি ব্যবহার করাও সম্ভব হয় না, আবার গ্রামীণফোনেও যদি সুইচ করি, সেখানেও একই অবস্থা। এই দুইটা জিনিসকে ইমপ্রুভ করার জন্য আমাদের একটু উদ্যোগ নেওয়া দরকার।


এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী বলেন, বাকৃবি বিডিআরইএন (BdREN)- এর মাধ্যমে ইউজিসি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ডউইথ ৪ গিগাবাইট, যা দেশের অল্প কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত অনেক রাউটার লো-কনফিগারেশনের হওয়ায় একটি কক্ষ থেকে কয়েকটি কক্ষ দূরে গেলে সিগন্যাল পাওয়া যায় না। 


সার্ভার রুমের সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে সার্ভার রুমের একটি ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় ডিভাইসটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাকআপ সাপোর্ট দিতে পারছে না। বিশেষ করে মধ্যরাতে লোডশেডিং হলে এ সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। ফলে রাত ১২টা বা ১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না এবং কখনো কখনো সকাল পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, সমস্যাটি সমাধানে ঢাকার সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এসে ডিভাইসটি পরীক্ষা করবে। প্রয়োজন হলে ডিভাইসটির ব্যাকআপ ব্যবস্থা বা পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে আমরা কাজ করছি।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬


কচ্ছপ গতিতে চলছে বাকৃবির ইন্টারনেট, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে ধীরগতির ওয়াই-ফাই সংযোগ ও দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। ক্ষণে ক্ষণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন, আবার থাকলেও অনেক সময় পর্যাপ্ত গতি থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিদ্যুৎ চলে গেলে দুই-তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ওয়াই-ফাই না আসার অভিযোগ রয়েছে।


ফলে অনলাইন ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। সামান্য বৃষ্টিতে আসতে না আসতে অনেক সময় ‘নো ইন্টারনেট’ দেখায় বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। বিভিন্ন হল প্রভোস্টদের জানালেও মিলছে না কোনো কার্যকর সমাধান। 


শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবখানে ইন্টারনেট কানেকশন মোটামুটি পায়। কিন্তু কানেশন খুব দূর্বল। ঠিকমতো অনলাইনভিত্তিক শিক্ষার কার্যক্রম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে তো চলে যায়না। এ ইন্টারনেট দিয়ে ফেসবুকে ন্যুনতম একটা মেসেজও করা যায় না। অপেক্ষা করা লাগে বেশ কিছু সময়। এভাবে কি চলা যায়? একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে নেট আসতে আসতে ৪-৫ ঘণ্টা পর হয়ে যায়। 


এ নিয়ে হলের শিক্ষার্থীরা বার বার অভিযোগ দিলে সমাধানের আশ্বাস জানালেও স্থায়ী সমাধান এখনো মেলেনি। এমনকি মোবাইল নেটওয়ার্কেও দারুণ সমস্যা করে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। হলের মধ্যে গ্রামীণফোন, এয়ারটেল সিমের নেট খুব একটা পায়না বলে অভিযোগ জানায়। একেতো ওয়াই-ফাই ইন্টারনেট সুবিধা ঠিক মতো নিতে পারছে না, অন্যদিকে মোবাইল নেটওয়ার্কেও চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা। 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ছেলেদের ৯টি ও মেয়েদের ৬টি আবাসিক হলের প্রতিটিতে দেওয়া হয়েছে ওয়াইফাই সুবিধা। দামিদামি রাউটার থাকলেও ইন্টারনেটের গতি খুবই কম। আবাসিক হলে শিক্ষার্থীরা ইন্টারনেটে নিজের প্রয়োজনীয় কাজগুলো সম্পন্ন করেন। কিন্তু ধীর গতির ইন্টারনেটের কারণে কোন কিছুই ঠিক মতো করতে পারছেন না তারা। 


এই নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সম্রাট বলেন, হলের ব্লকের ওয়াইফাইগুলোর অবস্থা খুবই জঘন্য। কিছু সময় ভালো থাকে, আবার স্পীড চলে যায়। মাঝেমধ্যে আবার একেবারেই ওয়াইফাই থাকেইনা। দেখা যাচ্ছে অনলাইনে কোনো একটা এক্সাম লিংকে বা প্রয়োজনীয় কোনো জায়গায় ঢুকলে হুট করে ওয়াইফাই ডিস্টার্ব করে। ফলে পুরো প্রসেসিং টাই নষ্ট করে দেয়। আর কারেন্ট একবার চলে গেলে আবার কারেন্ট ব্যাক করার ২-৩ ঘন্টার মাঝেও ওয়াইফাই আসেনা। যেটা এই যুগে এসে চরম একটা দুর্ভোগ এর বিষয়।


এই সমস্যা শুধু শিক্ষার্থীদের এমন নয়, শিক্ষকেরাও নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তারা জানায় নিয়মিত অনলাইন মিটিং থাকে, ইন্টারনেটের কম গতির কারণে প্রচুর সমস্যার মুখে পড়তে হয়। প্রয়োজনের সময় পর্যাপ্ত গতি দূরের কথা ঠিকমতো কানেকশন পাওয়া যায়না। এতে স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানা খোদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক।


তিনি বলেন, ইন্টারনেটের স্পিড অত্যন্ত নাজুক। আমরা অনেক সময় অনলাইনে মিটিং করি, সেটা কোনক্রমেই করা সম্ভব হচ্ছে না। আরেকটা বিষয় হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও খুবই দুর্বল, বিশেষ করে গ্রামীণফোনের। আমরা যখন অনলাইনে কোনো কিছু করতে যাই, আমাদের অভ্যন্তরীণ যে ওয়াইফাই সেটি ব্যবহার করাও সম্ভব হয় না, আবার গ্রামীণফোনেও যদি সুইচ করি, সেখানেও একই অবস্থা। এই দুইটা জিনিসকে ইমপ্রুভ করার জন্য আমাদের একটু উদ্যোগ নেওয়া দরকার।


এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী বলেন, বাকৃবি বিডিআরইএন (BdREN)- এর মাধ্যমে ইউজিসি থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ইন্টারনেট সুবিধা পাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যান্ডউইথ ৪ গিগাবাইট, যা দেশের অল্প কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যতম। ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে ওয়াই-ফাই সিগন্যাল দুর্বল হওয়ার বিষয়টি দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত অনেক রাউটার লো-কনফিগারেশনের হওয়ায় একটি কক্ষ থেকে কয়েকটি কক্ষ দূরে গেলে সিগন্যাল পাওয়া যায় না। 


সার্ভার রুমের সমস্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সম্প্রতি ভোল্টেজের ওঠানামার কারণে সার্ভার রুমের একটি ডিভাইসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় ডিভাইসটি তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাকআপ সাপোর্ট দিতে পারছে না। বিশেষ করে মধ্যরাতে লোডশেডিং হলে এ সমস্যা বেশি দেখা দিচ্ছে। ফলে রাত ১২টা বা ১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না এবং কখনো কখনো সকাল পর্যন্ত ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হচ্ছে।


তিনি আরও বলেন, সমস্যাটি সমাধানে ঢাকার সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিমের সঙ্গে ইতোমধ্যে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা এসে ডিভাইসটি পরীক্ষা করবে। প্রয়োজন হলে ডিভাইসটির ব্যাকআপ ব্যবস্থা বা পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিষয়টি দ্রুত সমাধানে আমরা কাজ করছি।


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত