সেনাবাহিনীর
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ‘গুম ও নির্যাতনের’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের
মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
চেয়ারম্যান
বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ
আজ সোমবার প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া)
আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর। তাঁর বাবা প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের
চৌধুরী বিএনপির নেতা ছিলেন।
একাত্তরে
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
আপিল
বিভাগে সে রায় বহাল থাকায় ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর রাতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বাবার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রায় একযুগ পরে এসে সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তাঁর
সাক্ষ্য গ্রহণের আগে এ মামলায় সূচনা বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল
ইসলাম।
সাক্ষ্যে
নিজের পরিচয় তুলে ধরে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আমি একজন রাজনীতিবিদ। গত ১৭ বছরে গুমের যে সংস্কৃতি চলেছে আমি তার একজন।
তিনি
বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট আমাকে গুম করা হয়। গুম থাকা অবস্থায় আমি দিন-রাতে
পার্থক্য বুঝতে পারতাম না। দিন গুনতাম খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি আসলে বুঝতাম, নতুন দিন
শুরু হয়েছে। দুপুর ও রাতের খাবারে থাকত ভাত, এক পিস মাছ অথবা এক পিস মুরগি, সঙ্গে
কিছু সবজি। একদিন বিরিয়ানি দেওয়া হলে আমি বুঝতে পারি, সেটি ঈদের দিন ছিল।
সাক্ষ্যে হুম্মাম বলেন, প্রথম দুই মাস
একটি পেরেক দিয়ে দেয়ালে দাগ দিয়ে দিনের হিসাব রাখতাম। দুই মাস পর হিসাব রাখা বন্ধ
করে দেই। পেরেকটি জানালার কোনায়
পেয়েছিলাম।
বন্দি
থাকা কক্ষের দেয়ালে অনেক কিছু লেখা ছিল উল্লেখ করে এই সাক্ষী ট্রাইব্যুনালকে বলেন,
এসব লেখা থেকে বুঝতে পারি, আমার আগে যারা বন্দি ছিলেন, সেগুলো তাদের লেখা। একজন
লিখেছিলেন, ‘আপনাকে কতদিন এখানে রাখা হবে, তা কেউ আপনাকে বলবে না।’
হুম্মাম
বলেন, আমি যে কক্ষে ছিলাম, তার দৈর্ঘ্য ১৫ থেকে ১৮ ফুট। প্রস্থ ৮ থেকে ১০ ফুট। আমি
দেয়ালের এক কোনে আমার ইনিশিয়াল (এইচকিউসি) ও গুম হওয়ার তারিখ পেরেক দিয়ে লিখে
রেখেছিলাম।
নির্যাতনের
বর্ণনায় তিনি বলেন, গুম থাকাকালে মাঝেমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারধর করা হতো। আমার
বাবার রাজনীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। আমি আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করি কি না,
বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে কি না, এসব বিষয়ে বারবার
জিজ্ঞাসা করা হতো।
গুম
অবস্থা থেকে যেদিন ছাড়া পান, সেদিনের বর্ণনা তুলে ধরে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন,
একদিন ভোররাতে কিছু লোক আমার সেলে প্রবেশ করে এবং আমাকে তিন স্তরে ব্লাইন্ডফোল্ড
(চোখ বাঁধা) করা হয়। পরে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সেল থেকে বের করে একটি মাইক্রোবাসে তোলা
হয়। অনেকক্ষণ গাড়ি চলার পর জিগজ্যাগ (আঁকাবাঁকা পথ) অনুভব করতে পারি। আনুমানিক ২০
মিনিট গাড়ি চলার পর একজন ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ভয় পাচ্ছি কি না। আমি বলি,
ভয় পাচ্ছি না। তখন আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয় কেন ভয় পাচ্ছি না। জবাবে আমি
বলেছিলাম, যদি মেরে ফেলেন তাহলে আব্বার সাথে দেখা হবে, আর যদি ছেড়ে দেন তাহলে
আম্মার সাথে দেখা হবে। অনেকক্ষন গাড়ি চলার পর গাড়িটা থেমে যায় এবং আমাকে গাড়ি থেকে
নামানো হয়। ফুটপাতে বসিয়ে আমার হ্যান্ডকাফ খুলে দেওয়া হয়। তারা আমার ব্লাইন্ডফোল্ড
(চোখের বাঁধন) খুলে দিতে দিতে বলে আমি যেন তিন মিনিট চোখ বন্ধ করে রাখি। যদি চোখ
খুলি তাহলে সমস্যা হবে। তারপর গাড়িটির দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ পাই এবং গাড়িটি চলে
যায়। আমি চোখ খুলে গাড়িটিকে চলে যেতে দেখি।
এরপর
অনেক্ষণ তিনি সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে বুঝতে পারেন জায়গাটি ধানমন্ডি ৭/এ এলাকা, যা
তাঁর বাসা থেকে তিন রাস্তা দূরে। সেখান থেকে হেঁটে বাসার ফেরেন। বাসায় ঢুকতে
যাওয়ার সময় গার্ড তাঁকে চিনতে না পারায় ঢুকতে দিচ্ছিল না উল্লেখ করে বিএনপির এই
সংসদ সদস্য প্রার্থী ট্রাইব্যুনালকে বলেন, বাড়িতে থাকা পোষা কুকুর চিনতে পারায়
দাড়োয়ান গেট খুলে দেয়। বাড়িতে ঢুকে জানতে পারি আমার আম্মা এই বাসায় থাকেন না। তিনি
গুলশানে আমার বড় ভাইয়ের বাসায় থাকেন। আমি গাড়িতে করে গুলশানে বড় ভাইয়ের বাসায় যাই।
আম্মার সাথে দেখা হওয়ার পর জানতে পারি আরো দুজন মীর আরমান এবং ব্রিগ্রেডিয়ার
আজমিকেও শুম করা হয়েছে।
হুম্মাম
কাদের চৌধুরী বলেন, আমাকে আটক করার সময় সিটিআইবির ডিরেক্টর ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম।
ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন জেনারেল আকবর। আমাকে যখন মুক্তি দেওয়া হয়, তখন ডিজিএফআইয়ের
প্রধান ছিলেন জেনারেল আবেদিন।
২০১৭
সালের ২ মার্চ তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় জানিয়ে এই ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনাসহ যারা গুমের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের
সবার শাস্তি দাবি করেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সামরিক ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ
সিদ্দিকসহ সহ মামলার মোট আসামি ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারগারে
রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিক, সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিক ও সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) মেজর জেনারেল
শেখ মো. সরওয়ার হোসেন। সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের আগে এই তিন আসামিকে
ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়।
শেখ
হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছাড়া পলাতক বাকি ৮ আসামি হলেন- ডিজিএফআই’র সাবেক
মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন, ডিজিএফআই’র সাবেক
মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদিন, ডিজিএফআই’র সাবেক
মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, ডিজিএফআই’র সাবেক
মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী,
ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ডিজিএফআই’র
সিটিআইবির সাবেক পরিচালক ও সাবেক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম,
ডিজিএফআই’র সিটিআইবির সাবেক পরিচালক ও জের জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও অবসরপ্রাপ্ত
লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মখছুরুল হক।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
সেনাবাহিনীর
জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) ‘গুম ও নির্যাতনের’ ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের
মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।
চেয়ারম্যান
বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ
আজ সোমবার প্রথম সাক্ষ্য দিয়েছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া)
আসনে বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীর। তাঁর বাবা প্রয়াত সালাউদ্দিন কাদের
চৌধুরী বিএনপির নেতা ছিলেন।
একাত্তরে
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
আপিল
বিভাগে সে রায় বহাল থাকায় ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর রাতে সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বাবার মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রায় একযুগ পরে এসে সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। তাঁর
সাক্ষ্য গ্রহণের আগে এ মামলায় সূচনা বক্তব্য দেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল
ইসলাম।
সাক্ষ্যে
নিজের পরিচয় তুলে ধরে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, আমি একজন রাজনীতিবিদ। গত ১৭ বছরে গুমের যে সংস্কৃতি চলেছে আমি তার একজন।
তিনি
বলেন, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট আমাকে গুম করা হয়। গুম থাকা অবস্থায় আমি দিন-রাতে
পার্থক্য বুঝতে পারতাম না। দিন গুনতাম খাবার দেখে। খাবারের জন্য রুটি আসলে বুঝতাম, নতুন দিন
শুরু হয়েছে। দুপুর ও রাতের খাবারে থাকত ভাত, এক পিস মাছ অথবা এক পিস মুরগি, সঙ্গে
কিছু সবজি। একদিন বিরিয়ানি দেওয়া হলে আমি বুঝতে পারি, সেটি ঈদের দিন ছিল।
সাক্ষ্যে হুম্মাম বলেন, প্রথম দুই মাস
একটি পেরেক দিয়ে দেয়ালে দাগ দিয়ে দিনের হিসাব রাখতাম। দুই মাস পর হিসাব রাখা বন্ধ
করে দেই। পেরেকটি জানালার কোনায়
পেয়েছিলাম।
বন্দি
থাকা কক্ষের দেয়ালে অনেক কিছু লেখা ছিল উল্লেখ করে এই সাক্ষী ট্রাইব্যুনালকে বলেন,
এসব লেখা থেকে বুঝতে পারি, আমার আগে যারা বন্দি ছিলেন, সেগুলো তাদের লেখা। একজন
লিখেছিলেন, ‘আপনাকে কতদিন এখানে রাখা হবে, তা কেউ আপনাকে বলবে না।’
হুম্মাম
বলেন, আমি যে কক্ষে ছিলাম, তার দৈর্ঘ্য ১৫ থেকে ১৮ ফুট। প্রস্থ ৮ থেকে ১০ ফুট। আমি
দেয়ালের এক কোনে আমার ইনিশিয়াল (এইচকিউসি) ও গুম হওয়ার তারিখ পেরেক দিয়ে লিখে
রেখেছিলাম।
নির্যাতনের
বর্ণনায় তিনি বলেন, গুম থাকাকালে মাঝেমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারধর করা হতো। আমার
বাবার রাজনীতির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতো। আমি আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করি কি না,
বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে কি না, এসব বিষয়ে বারবার
জিজ্ঞাসা করা হতো।
গুম
অবস্থা থেকে যেদিন ছাড়া পান, সেদিনের বর্ণনা তুলে ধরে হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন,
একদিন ভোররাতে কিছু লোক আমার সেলে প্রবেশ করে এবং আমাকে তিন স্তরে ব্লাইন্ডফোল্ড
(চোখ বাঁধা) করা হয়। পরে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে সেল থেকে বের করে একটি মাইক্রোবাসে তোলা
হয়। অনেকক্ষণ গাড়ি চলার পর জিগজ্যাগ (আঁকাবাঁকা পথ) অনুভব করতে পারি। আনুমানিক ২০
মিনিট গাড়ি চলার পর একজন ব্যক্তি আমাকে জিজ্ঞাসা করেন, ভয় পাচ্ছি কি না। আমি বলি,
ভয় পাচ্ছি না। তখন আমাকে পাল্টা প্রশ্ন করা হয় কেন ভয় পাচ্ছি না। জবাবে আমি
বলেছিলাম, যদি মেরে ফেলেন তাহলে আব্বার সাথে দেখা হবে, আর যদি ছেড়ে দেন তাহলে
আম্মার সাথে দেখা হবে। অনেকক্ষন গাড়ি চলার পর গাড়িটা থেমে যায় এবং আমাকে গাড়ি থেকে
নামানো হয়। ফুটপাতে বসিয়ে আমার হ্যান্ডকাফ খুলে দেওয়া হয়। তারা আমার ব্লাইন্ডফোল্ড
(চোখের বাঁধন) খুলে দিতে দিতে বলে আমি যেন তিন মিনিট চোখ বন্ধ করে রাখি। যদি চোখ
খুলি তাহলে সমস্যা হবে। তারপর গাড়িটির দরজা বন্ধ হওয়ার আওয়াজ পাই এবং গাড়িটি চলে
যায়। আমি চোখ খুলে গাড়িটিকে চলে যেতে দেখি।
এরপর
অনেক্ষণ তিনি সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে থেকে বুঝতে পারেন জায়গাটি ধানমন্ডি ৭/এ এলাকা, যা
তাঁর বাসা থেকে তিন রাস্তা দূরে। সেখান থেকে হেঁটে বাসার ফেরেন। বাসায় ঢুকতে
যাওয়ার সময় গার্ড তাঁকে চিনতে না পারায় ঢুকতে দিচ্ছিল না উল্লেখ করে বিএনপির এই
সংসদ সদস্য প্রার্থী ট্রাইব্যুনালকে বলেন, বাড়িতে থাকা পোষা কুকুর চিনতে পারায়
দাড়োয়ান গেট খুলে দেয়। বাড়িতে ঢুকে জানতে পারি আমার আম্মা এই বাসায় থাকেন না। তিনি
গুলশানে আমার বড় ভাইয়ের বাসায় থাকেন। আমি গাড়িতে করে গুলশানে বড় ভাইয়ের বাসায় যাই।
আম্মার সাথে দেখা হওয়ার পর জানতে পারি আরো দুজন মীর আরমান এবং ব্রিগ্রেডিয়ার
আজমিকেও শুম করা হয়েছে।
হুম্মাম
কাদের চৌধুরী বলেন, আমাকে আটক করার সময় সিটিআইবির ডিরেক্টর ছিলেন তৌহিদুল ইসলাম।
ডিজিএফআইয়ের প্রধান ছিলেন জেনারেল আকবর। আমাকে যখন মুক্তি দেওয়া হয়, তখন ডিজিএফআইয়ের
প্রধান ছিলেন জেনারেল আবেদিন।
২০১৭
সালের ২ মার্চ তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয় জানিয়ে এই ঘটনার জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী
শেখ হাসিনাসহ যারা গুমের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গুমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের
সবার শাস্তি দাবি করেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী।
সাবেক
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সামরিক ও নিরাপত্তা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ
সিদ্দিকসহ সহ মামলার মোট আসামি ১৩ জন। তাঁদের মধ্যে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করে কারগারে
রাখা হয়েছে। তাঁরা হলেন- ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান সিদ্দিক, সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) ব্রিগেডিয়ার
জেনারেল আহমেদ তানভীর মাজাহার সিদ্দিক ও সাবেক পরিচালক (সিটিআইবি) মেজর জেনারেল
শেখ মো. সরওয়ার হোসেন। সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্য গ্রহণের আগে এই তিন আসামিকে
ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়।
শেখ
হাসিনা ও তারিক আহমেদ সিদ্দিক ছাড়া পলাতক বাকি ৮ আসামি হলেন- ডিজিএফআই’র সাবেক
মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. আকবর হোসেন, ডিজিএফআই’র সাবেক
মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদিন, ডিজিএফআই’র সাবেক
মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. সাইফুল আলম, ডিজিএফআই’র সাবেক
মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ তাবরেজ শামস চৌধুরী,
ডিজিএফআই’র সাবেক মহাপরিচালক ও অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল হামিদুল হক, ডিজিএফআই’র
সিটিআইবির সাবেক পরিচালক ও সাবেক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ তৌহিদুল উল ইসলাম,
ডিজিএফআই’র সিটিআইবির সাবেক পরিচালক ও জের জেনারেল কবীর আহাম্মদ ও অবসরপ্রাপ্ত
লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মখছুরুল হক।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন