'চাষি খেতে চালাইছে হাল,
তাঁতি বসে তাঁত
বোনে, জেলে ফেলে জাল-
বহুদূর প্রসারিত
এদের বিচিত্র কর্মভার
তারি 'পরে ভর
দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।'
বাংলার গ্রাম
এদেশের প্রাণ। কৃষক, জেলে, তাঁতি তাদের ঘামেই ঘুরে দেশের অর্থনীতির চাকা। অথচ দীর্ঘদিন
ধরেই এই গ্রামীণ জনপদ ছিল উন্নয়নের দিক থেকে অবহেলিত। সেই বাস্তবতা বদলে দিতে কাজ করে
যাচ্ছে কুমিল্লার ময়নামতির লাল মাটির পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন
একাডেমি (বার্ড)। যা সংক্ষেপে বার্ড নামেই পরিচিত।
সবুজ বনায়নে
ঘেরা বিস্তীর্ণ এই ক্যাম্পাসে প্রায় প্রতিদিনই পদচারণা হয় দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষার্থী
ও উন্নয়নকর্মীদের। প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের সমন্বয়ে বার্ড আজ দেশের গ্রামীণ
উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্বপ্নের সূচনা
দেশভাগ পরবর্তী
পূর্ব বাংলার গ্রামগুলো ছিল দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি।
কৃষি ছিল প্রথাগত, উৎপাদন কম, আর সামাজিক সংগঠনের ধারণা প্রায় অনুপস্থিত। এ বাস্তবতা
নাড়া দেয় উন্নয়ন চিন্তাবিদ ড. আখতার হামিদ খানকে। এই পরিস্থিতিতে আখতার হামিদ খান মনে
করেন শুধু সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন সম্ভব নয়; প্রয়োজন গবেষণা, প্রশিক্ষণ
এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব
পালনের পাশাপাশি তিনি গ্রামীণ সমাজের দারিদ্র্য কৃষকদের সমস্যা এবং উন্নয়নের ঘাটতি
খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন। গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য তাঁর উদ্যোগেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে
১৯৫৯ সালের ২৭ মে কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠিত হয় 'Comilla Rural Academy' যা পরে
'Bangladesh Academy for Rural Development' (বার্ড) নামে পরিচিতি পায়।
পথচলা ও কার্যক্রম
বার্ড সূচনালগ্ন
থেকেই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক মডেল উদ্ভাবন করে আসছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, নারী
ক্ষমতায়নসহ সমাজ উন্নয়নমূলক নানা ক্ষেত্রে এসব মডেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে এটি
একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয়
সরকার প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং উন্নয়নকর্মীদের
প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) কর্মকর্তাদের জন্য
আয়োজিত চার ও ছয় মাস মেয়াদী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স এবং দুই মাস মেয়াদী বিশেষ বুনিয়াদী
প্রশিক্ষণ কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর প্রায় ১৫০টি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার
মাধ্যমে বার্ড দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক
গবেষণা, প্রকল্প প্রণয়ন, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন এবং সরকারকে নীতি নির্ধারণে সহায়তা
প্রদান বার্ডের অন্যতম কার্যাবলী।
প্রশিক্ষণ ও
অভিজ্ঞতা
বার্ডের অন্যতম
কাজ হলো এর ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাস্তব
অভিজ্ঞতা অজর্নের সুযোগ পান।
ইন্টার্নরত
কয়েকজন শিক্ষার্থী ও একজন পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গিতে বার্ড ও তার কার্যাবলী-
বৃষ্টি আচার্য্য
ইন্টার্নরত
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লার ময়নামতি
পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কেবল একটি প্রশিক্ষণ
কেন্দ্র নয়, বরং এটি আমার জন্য ছিল জ্ঞানের এক উন্মুক্ত পাঠশালা। এখানে ইন্টার্ন হিসেবে
কাজ করার সময় আমি গবেষণার তাত্ত্বিক দিকগুলোর বাস্তব প্রয়োগ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ
পেয়েছি। বিশেষ করে বার্ডের কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের অধীনে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে গ্রামীণ সমবায়, ক্ষুদ্রঋণ, যুবকল্যান, নারী ক্ষমতায়ন
ও গ্রামীন উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি। অভিজ্ঞ মেন্টরদের অধীনে
তথ্য সংগ্রহ, ডেটা বিশ্লেষণ এবং পদ্ধতিগত রিপোর্ট তৈরির মাধ্যমে আমার পেশাদার দক্ষতা
বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যা
ও সম্ভাবনাগুলো বুঝতে পারা ছিল এই ইন্টার্নশিপের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দিনেশ বসু চাকমা
ইন্টার্নরত
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রথমত বার্ডে
ইন্টার্নশিপের সুযোগ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। বার্ডে ইন্টার্নের মাধ্যমে আমি আমার একাডেমিক
জীবনে শেখা কিছু বিষয় বাস্তবে প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছি। এর পাশাপাশি গবেষণায় প্রশ্ন
তৈরি করা, ডাটা কালেকশন কীভাবে করতে হয়, কীভাবে ডাটা বিশ্লেষণ করতে হয় তা শিখতে পেরেছি
এবং একটি গবেষণায় প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে বাস্তবিক ধারণা পেয়েছি।
আসাদুজ্জামান
নুর
ইন্টার্নরত
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
বার্ডে কাজ
শেখার জন্য অনেক সুযোগ। এখানে একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়ে আগ্রহী সে বিষয়েই কাজ করতে
পারে। যেমন কেউ গবেষণা করতে চাইলো সে গবেষণা করতে পারবে আবার কেউ চাইলেও মাঠ পর্যায়েও
কাজ করতে পারবে। আর আমি নিজে এখন গবেষণা করছি বাল্যবিবাহ নিয়ে যেটা আমি খুব উপভোগ করছি।
নুসরাত মাহি
ইন্টার্নরত
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
বার্ডে ইন্টার্ন
করে অনেক কিছু শিখতে পারছি। একজন মেন্টরের অধীনে থাকায় সবকিছুতেই সংশোধন আসছে। মাঠ
পর্যায়ে কাজ, গবেষণা, সেমিনার এগুলো আমরা স্বস্তঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছি।
এতে করে আমরা নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন কিছুর সাথে পরিচিত হতে পারছি। যা আমাদের
ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত করে তুলছে।
বার্ডের প্রশাসন
বিভাগের পরিচালক আইরীন পারভিন বার্ড নিয়ে তার মতামতে বলেন,
বার্ড ৬০ সালের
বেশি সময় যাবত পল্লী উন্নয়নের পথিকৃৎ হিসাবে কাজ করে আসছে। বার্ড উদ্ভাবিত বিভিন্ন
মডেল সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে। যা পল্লী এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়নে অবদান
রেখেছে। বার্ডের উল্লেখযোগ্য কার্যাবলীর মধ্যে অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে দেশে তরুণ প্রজন্মকে
পল্লী উন্নয়ন সংযুক্তি কর্মসূচি, অবহিতকরণ কার্যক্রম ও ইন্টার্নশিপ প্রদানের মাধ্যমে
গ্রামের সমস্যা সম্পর্কে জানা এবং এদেরকে পল্লী উন্নয়নে আগ্রহী করে তোলা। বার্ড বছরে
প্রায় ১৭০০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রায় ৫০ জনকে ইন্টার্নশিপ
প্রদান করে থাকে। আমার বিশ্বাস বার্ডের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীগণ
গ্রামকে নিভিরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে তারা পল্লী এলাকার উন্নয়নে
অবদান রাখতে উৎসাহী হবে।
ময়নামতির লাল
মাটির বুকজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বার্ড শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ
উন্নয়নের এক জীবন্ত প্রতীক। এখানে প্রতিদিনই বোনা হয় নতুন স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নই বদলে
দেয় গ্রামীণ মানুষের জীবন।
এএমএন/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ এপ্রিল ২০২৬
'চাষি খেতে চালাইছে হাল,
তাঁতি বসে তাঁত
বোনে, জেলে ফেলে জাল-
বহুদূর প্রসারিত
এদের বিচিত্র কর্মভার
তারি 'পরে ভর
দিয়ে চলিতেছে সমস্ত সংসার।'
বাংলার গ্রাম
এদেশের প্রাণ। কৃষক, জেলে, তাঁতি তাদের ঘামেই ঘুরে দেশের অর্থনীতির চাকা। অথচ দীর্ঘদিন
ধরেই এই গ্রামীণ জনপদ ছিল উন্নয়নের দিক থেকে অবহেলিত। সেই বাস্তবতা বদলে দিতে কাজ করে
যাচ্ছে কুমিল্লার ময়নামতির লাল মাটির পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন
একাডেমি (বার্ড)। যা সংক্ষেপে বার্ড নামেই পরিচিত।
সবুজ বনায়নে
ঘেরা বিস্তীর্ণ এই ক্যাম্পাসে প্রায় প্রতিদিনই পদচারণা হয় দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষার্থী
ও উন্নয়নকর্মীদের। প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও বাস্তব প্রয়োগের সমন্বয়ে বার্ড আজ দেশের গ্রামীণ
উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
স্বপ্নের সূচনা
দেশভাগ পরবর্তী
পূর্ব বাংলার গ্রামগুলো ছিল দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিচ্ছবি।
কৃষি ছিল প্রথাগত, উৎপাদন কম, আর সামাজিক সংগঠনের ধারণা প্রায় অনুপস্থিত। এ বাস্তবতা
নাড়া দেয় উন্নয়ন চিন্তাবিদ ড. আখতার হামিদ খানকে। এই পরিস্থিতিতে আখতার হামিদ খান মনে
করেন শুধু সরকারি প্রশাসনের মাধ্যমে গ্রামীণ উন্নয়ন সম্ভব নয়; প্রয়োজন গবেষণা, প্রশিক্ষণ
এবং স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব
পালনের পাশাপাশি তিনি গ্রামীণ সমাজের দারিদ্র্য কৃষকদের সমস্যা এবং উন্নয়নের ঘাটতি
খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন। গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য তাঁর উদ্যোগেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে
১৯৫৯ সালের ২৭ মে কুমিল্লায় প্রতিষ্ঠিত হয় 'Comilla Rural Academy' যা পরে
'Bangladesh Academy for Rural Development' (বার্ড) নামে পরিচিতি পায়।
পথচলা ও কার্যক্রম
বার্ড সূচনালগ্ন
থেকেই গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক মডেল উদ্ভাবন করে আসছে। কৃষি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, নারী
ক্ষমতায়নসহ সমাজ উন্নয়নমূলক নানা ক্ষেত্রে এসব মডেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে এটি
একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয়
সরকার প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং উন্নয়নকর্মীদের
প্রশিক্ষণ দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) কর্মকর্তাদের জন্য
আয়োজিত চার ও ছয় মাস মেয়াদী বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স এবং দুই মাস মেয়াদী বিশেষ বুনিয়াদী
প্রশিক্ষণ কোর্স অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর প্রায় ১৫০টি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনার
মাধ্যমে বার্ড দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক
গবেষণা, প্রকল্প প্রণয়ন, সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজন এবং সরকারকে নীতি নির্ধারণে সহায়তা
প্রদান বার্ডের অন্যতম কার্যাবলী।
প্রশিক্ষণ ও
অভিজ্ঞতা
বার্ডের অন্যতম
কাজ হলো এর ইন্টার্নশিপ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম। প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে বাস্তব
অভিজ্ঞতা অজর্নের সুযোগ পান।
ইন্টার্নরত
কয়েকজন শিক্ষার্থী ও একজন পরিচালকের দৃষ্টিভঙ্গিতে বার্ড ও তার কার্যাবলী-
বৃষ্টি আচার্য্য
ইন্টার্নরত
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
কুমিল্লার ময়নামতি
পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড) কেবল একটি প্রশিক্ষণ
কেন্দ্র নয়, বরং এটি আমার জন্য ছিল জ্ঞানের এক উন্মুক্ত পাঠশালা। এখানে ইন্টার্ন হিসেবে
কাজ করার সময় আমি গবেষণার তাত্ত্বিক দিকগুলোর বাস্তব প্রয়োগ খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ
পেয়েছি। বিশেষ করে বার্ডের কৃষি ও পরিবেশ বিভাগের অধীনে ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার মাধ্যমে গ্রামীণ সমবায়, ক্ষুদ্রঋণ, যুবকল্যান, নারী ক্ষমতায়ন
ও গ্রামীন উন্নয়নের মতো বিষয়গুলো সম্পর্কে ধারণা লাভ করেছি। অভিজ্ঞ মেন্টরদের অধীনে
তথ্য সংগ্রহ, ডেটা বিশ্লেষণ এবং পদ্ধতিগত রিপোর্ট তৈরির মাধ্যমে আমার পেশাদার দক্ষতা
বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে তাদের সমস্যা
ও সম্ভাবনাগুলো বুঝতে পারা ছিল এই ইন্টার্নশিপের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
দিনেশ বসু চাকমা
ইন্টার্নরত
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
প্রথমত বার্ডে
ইন্টার্নশিপের সুযোগ আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। বার্ডে ইন্টার্নের মাধ্যমে আমি আমার একাডেমিক
জীবনে শেখা কিছু বিষয় বাস্তবে প্রয়োগ করার সুযোগ পেয়েছি। এর পাশাপাশি গবেষণায় প্রশ্ন
তৈরি করা, ডাটা কালেকশন কীভাবে করতে হয়, কীভাবে ডাটা বিশ্লেষণ করতে হয় তা শিখতে পেরেছি
এবং একটি গবেষণায় প্রত্যেকটি বিষয় সম্পর্কে বাস্তবিক ধারণা পেয়েছি।
আসাদুজ্জামান
নুর
ইন্টার্নরত
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
বার্ডে কাজ
শেখার জন্য অনেক সুযোগ। এখানে একজন শিক্ষার্থী যে বিষয়ে আগ্রহী সে বিষয়েই কাজ করতে
পারে। যেমন কেউ গবেষণা করতে চাইলো সে গবেষণা করতে পারবে আবার কেউ চাইলেও মাঠ পর্যায়েও
কাজ করতে পারবে। আর আমি নিজে এখন গবেষণা করছি বাল্যবিবাহ নিয়ে যেটা আমি খুব উপভোগ করছি।
নুসরাত মাহি
ইন্টার্নরত
শিক্ষার্থী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
বার্ডে ইন্টার্ন
করে অনেক কিছু শিখতে পারছি। একজন মেন্টরের অধীনে থাকায় সবকিছুতেই সংশোধন আসছে। মাঠ
পর্যায়ে কাজ, গবেষণা, সেমিনার এগুলো আমরা স্বস্তঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে পারছি।
এতে করে আমরা নতুন জায়গা, নতুন মানুষ, নতুন কিছুর সাথে পরিচিত হতে পারছি। যা আমাদের
ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের জন্য শতভাগ প্রস্তুত করে তুলছে।
বার্ডের প্রশাসন
বিভাগের পরিচালক আইরীন পারভিন বার্ড নিয়ে তার মতামতে বলেন,
বার্ড ৬০ সালের
বেশি সময় যাবত পল্লী উন্নয়নের পথিকৃৎ হিসাবে কাজ করে আসছে। বার্ড উদ্ভাবিত বিভিন্ন
মডেল সারা দেশে বাস্তবায়িত হয়েছে। যা পল্লী এলাকার মানুষের জীবন মান উন্নয়নে অবদান
রেখেছে। বার্ডের উল্লেখযোগ্য কার্যাবলীর মধ্যে অন্যতম একটি কাজ হচ্ছে দেশে তরুণ প্রজন্মকে
পল্লী উন্নয়ন সংযুক্তি কর্মসূচি, অবহিতকরণ কার্যক্রম ও ইন্টার্নশিপ প্রদানের মাধ্যমে
গ্রামের সমস্যা সম্পর্কে জানা এবং এদেরকে পল্লী উন্নয়নে আগ্রহী করে তোলা। বার্ড বছরে
প্রায় ১৭০০ জন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রায় ৫০ জনকে ইন্টার্নশিপ
প্রদান করে থাকে। আমার বিশ্বাস বার্ডের ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীগণ
গ্রামকে নিভিরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পায় এবং ভবিষ্যতে তারা পল্লী এলাকার উন্নয়নে
অবদান রাখতে উৎসাহী হবে।
ময়নামতির লাল
মাটির বুকজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বার্ড শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ
উন্নয়নের এক জীবন্ত প্রতীক। এখানে প্রতিদিনই বোনা হয় নতুন স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্নই বদলে
দেয় গ্রামীণ মানুষের জীবন।
এএমএন/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন