ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

কুবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন



কুবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন
কুবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেনের বিরুদ্ধে হুমকি, অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন  র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদ।


আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন গত ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ১০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। হলে ওঠার পর থেকে তার উগ্র আচরণ ও অশোভন ব্যবহারের কারণে ব্যাচমেট ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমিরের বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।


পরে গত ১৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমির হোসেন তার সহপাঠী অপূর্ব দেবনাথকে সঙ্গে নিয়ে হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে যান। সেখানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো জানানো হলে তিনি সেগুলো অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং ‘নিজেদের সম্মান হারাবেন না, আপনাদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী নই’ বলে সেখান থেকে বের হয়ে যান বলে আবেদনে দাবি করা হয়।


আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রুম থেকে বের হওয়ার পর আমির তার সিনিয়র সরোয়ার হাসান রিয়াদকে ফোন করে হুমকি দেন। এর পরদিন অন্তু দাশকে একটি ভার্চুয়াল নম্বর থেকে ফোন করে আমির হোসেনের বড় ভাই পরিচয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ আগস্ট কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অন্তু দাশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরবর্তীতে গত ২৩ আগস্ট আমির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই অভিযোগপত্রে থাকা অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেন অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদ। তাদের দাবি, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, বিজয়-২৪ হল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।



এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিম বলেন, ‘তাদের আবেদনপত্রটা আমি পেয়েছি। অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং আরেকজন শিক্ষক এই বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই দিন সময় চেয়েছেন। তারা অপারগ হলে আমরা পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেব।’



প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট বিজয়-২৪ হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেনকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মোহাম্মদ হাসান ও সরোয়ার হোসেন রিয়াদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন আমির হোসেন।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬


কুবিতে র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন

প্রকাশের তারিখ : ২৭ আগস্ট ২০২৬

featured Image


কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেনের বিরুদ্ধে হুমকি, অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চেয়ে লিখিত আবেদন করেছেন  র‍্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্ত একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদ।


আবেদনে অভিযোগ করা হয়, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেন গত ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয়-২৪ হলের ১০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন। হলে ওঠার পর থেকে তার উগ্র আচরণ ও অশোভন ব্যবহারের কারণে ব্যাচমেট ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা আমিরের বিভাগের সিনিয়র শিক্ষার্থীদের অবহিত করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।


পরে গত ১৬ আগস্ট রাত সাড়ে ১২টার দিকে আমির হোসেন তার সহপাঠী অপূর্ব দেবনাথকে সঙ্গে নিয়ে হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে যান। সেখানে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো জানানো হলে তিনি সেগুলো অস্বীকার করেন। একপর্যায়ে তিনি সিনিয়র শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলেন এবং ‘নিজেদের সম্মান হারাবেন না, আপনাদের সঙ্গে এসব বিষয়ে কথা বলতে আগ্রহী নই’ বলে সেখান থেকে বের হয়ে যান বলে আবেদনে দাবি করা হয়।


আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রুম থেকে বের হওয়ার পর আমির তার সিনিয়র সরোয়ার হাসান রিয়াদকে ফোন করে হুমকি দেন। এর পরদিন অন্তু দাশকে একটি ভার্চুয়াল নম্বর থেকে ফোন করে আমির হোসেনের বড় ভাই পরিচয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ আগস্ট কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানায় অন্তু দাশ একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


পরবর্তীতে গত ২৩ আগস্ট আমির হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। ওই অভিযোগপত্রে থাকা অভিযোগগুলোকে ‘মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেন অন্তু দাশ, মো. হাসান ও সরোয়ার হাসান রিয়াদ। তাদের দাবি, ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়, বিজয়-২৪ হল এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।



এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ আবদুল হাকিম বলেন, ‘তাদের আবেদনপত্রটা আমি পেয়েছি। অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং আরেকজন শিক্ষক এই বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই দিন সময় চেয়েছেন। তারা অপারগ হলে আমরা পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেব।’



প্রসঙ্গত, গত ১৬ আগস্ট বিজয়-২৪ হলের ৩১৩ নম্বর কক্ষে অর্থনীতি বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমির হোসেনকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গত ২৩ আগস্ট একই বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অন্তু দাশ, মোহাম্মদ হাসান ও সরোয়ার হোসেন রিয়াদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দেন আমির হোসেন।


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত