ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

আগের মতো আর দৌড়াতে পারি না: মির্জা ফখরুল



আগের মতো আর দৌড়াতে পারি না: মির্জা ফখরুল
ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের সময় কম দেওয়া হয়েছে তুলে ধরে ঠাকুরগাঁও- আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘খালি দৌড়ায় বেড়াতে হচ্ছে। আমার বয়স বেড়ে গেছে। আগের মতো আর দৌড়াতে পারি না, তারপরও দৌড়াচ্ছি। আমার একটা ভরসা আছে যে আমি মির্জা আলমগীর আপনাদের সামনে দাঁড়ালে আপনারা আমাকে একটা ভোট দেওয়ার চিন্তা করবেন। এটাই বোধ হয় আমার শেষ নির্বাচন।

আজ রবিবার ( ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেন। এদিন তিনি ওই ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া, বোর্ড অফিস মার্তগাঁও এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। পাশাপাশি তোজামুলের মিল-চাতালে আয়োজিত গণসংযোগ পথসভায় অংশ নিয়ে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেন

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রশাসন, পুলিশ, মিলিটারিতারা একটা নিরপেক্ষ ভোট চায়, সবাই চায়। তাহলে আমাদের একটা সুযোগ আসছে। এই সুযোগে আমরা সঠিকভাবে প্রত্যেকেই আমরা ভোটটা দিতে পারব। এবার কিন্তু একটা নতুন ব্যাপার আছে, এবার নৌকাটা নাই। নৌকাটা পালায় গেছে। ওই দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। তাদের বহুবার বলছিলাম, ভাই এত খারাপ কাজ করিয়েন না, তাহলে পালাবারও পথ পাবেন না। ঠিকই হেলিকপ্টারে চড়ে পালায় গেল। আর মাঝখান থেকে ওদের যত লোকজন ছিল, কর্মী ছিল, নেতা ছিল সবই বিপদে পড়ল। এমন নেতা আমরা চাই না, যে কর্মীকে বিপদে ফেলে পালায় যায়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো অনিয়ম, দুর্নীতির পথে হাঁটেননি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার বয়স হইছে আটাত্তর, চুলগুলা সব পাকে গেইছে। ৩৫ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে আছি। ভোটে হেরেছি, কিন্তু চলে যাই নাই। তাঁকে কি আপনি পছন্দ করবেন, যাঁকে এর আগে দেখেনই নাই। এখানে একটা লোক কি বলতে পারবেন যে মির্জা আলমগীর একটা কাজ করে পাঁচটা টাকা খাইছে, উল্টো আমরা বাবার সম্পত্তি বেচে রাজনীতি করছি। বুক ফুলিয়ে বলতে পারি যে আমি চুরি করি নাই, চুরি করি নাই। কারণে বুকটা টান করে আপনাদের সামনে আসছি। এই কারণে আপনাদের কাছে আমার একটা দাবিও আছে। আমরা আপনাদের কাছে একটা ভোট চাইতে পারি না? পারি কি না?’

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সামনে আরেকটা দল আসছে, কিন্তু ওরা মিথ্যা কথা বলছে। মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা কি ঠিক হবে? আমার মা-বোনেরা সবাই সহজ-সরল। তাঁদের কোরআন শিক্ষার নাম করে বলতেছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে। এটা হতে পারে? কোনো মার্কায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে?’

নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু লোক থাকবেই, দুষ্টামি করবেই। আমি মনে করি না, এবারের নির্বাচন কেউ বন্ধ করতে পারবে। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে যে ভোট আমরা এবার দিবই। সেটা কেউ ঠেকাতে পারবে না। আপনারা পাহারা রাখবেন যেন ভোটকেন্দ্রে কেউ গোলমাল না করতে পারে।

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের তোজামুলের চাতালে আয়োজিত এক সভায় মির্জা ফখরুল বক্তব্যে জানান, এই মাটির ওপর হিন্দু-মুসলিম সবার সমান অধিকার। দেশটা যেমন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের একার নয়, তেমনি এখানে কেউ কারও চেয়ে কমও নয়। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আমরা সবাই এই দেশের অংশীদার।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমার মা-বোনেরা, ভাইয়েরা অনেক সময় ভয় পান। ভোট দিলে অন্যরা আক্রমণ করবে কি না, বাড়িঘরে আক্রমণ করবে কি না, বাড়িটা পুড়ায় দিবে কি না? আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যাবেন। সরকার শুধু নয়, আর্মি-মিলিটারি, প্রশাসন এবং আমরা সবাই আপনাদের পাশে থাকব। অবশ্যই দায়িত্বটা নিয়েই আমি কথা বলছি।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : বিএনপি নির্বাচন মির্জা ফখরুল

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


আগের মতো আর দৌড়াতে পারি না: মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রচারের সময় কম দেওয়া হয়েছে তুলে ধরে ঠাকুরগাঁও- আসনে বিএনপির প্রার্থী দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘খালি দৌড়ায় বেড়াতে হচ্ছে। আমার বয়স বেড়ে গেছে। আগের মতো আর দৌড়াতে পারি না, তারপরও দৌড়াচ্ছি। আমার একটা ভরসা আছে যে আমি মির্জা আলমগীর আপনাদের সামনে দাঁড়ালে আপনারা আমাকে একটা ভোট দেওয়ার চিন্তা করবেন। এটাই বোধ হয় আমার শেষ নির্বাচন।

আজ রবিবার ( ফেব্রুয়ারি) ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের কাজীপাড়া এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় এসব কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি দিনভর ব্যস্ত সময় পার করেন। এদিন তিনি ওই ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া, বোর্ড অফিস মার্তগাঁও এলাকা প্রদক্ষিণ করেন। পাশাপাশি তোজামুলের মিল-চাতালে আয়োজিত গণসংযোগ পথসভায় অংশ নিয়ে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেন

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রশাসন, পুলিশ, মিলিটারিতারা একটা নিরপেক্ষ ভোট চায়, সবাই চায়। তাহলে আমাদের একটা সুযোগ আসছে। এই সুযোগে আমরা সঠিকভাবে প্রত্যেকেই আমরা ভোটটা দিতে পারব। এবার কিন্তু একটা নতুন ব্যাপার আছে, এবার নৌকাটা নাই। নৌকাটা পালায় গেছে। ওই দিল্লিতে গিয়ে বসে আছে। তাদের বহুবার বলছিলাম, ভাই এত খারাপ কাজ করিয়েন না, তাহলে পালাবারও পথ পাবেন না। ঠিকই হেলিকপ্টারে চড়ে পালায় গেল। আর মাঝখান থেকে ওদের যত লোকজন ছিল, কর্মী ছিল, নেতা ছিল সবই বিপদে পড়ল। এমন নেতা আমরা চাই না, যে কর্মীকে বিপদে ফেলে পালায় যায়।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কখনো অনিয়ম, দুর্নীতির পথে হাঁটেননি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার বয়স হইছে আটাত্তর, চুলগুলা সব পাকে গেইছে। ৩৫ বছর ধরে আপনাদের সঙ্গে আছি। ভোটে হেরেছি, কিন্তু চলে যাই নাই। তাঁকে কি আপনি পছন্দ করবেন, যাঁকে এর আগে দেখেনই নাই। এখানে একটা লোক কি বলতে পারবেন যে মির্জা আলমগীর একটা কাজ করে পাঁচটা টাকা খাইছে, উল্টো আমরা বাবার সম্পত্তি বেচে রাজনীতি করছি। বুক ফুলিয়ে বলতে পারি যে আমি চুরি করি নাই, চুরি করি নাই। কারণে বুকটা টান করে আপনাদের সামনে আসছি। এই কারণে আপনাদের কাছে আমার একটা দাবিও আছে। আমরা আপনাদের কাছে একটা ভোট চাইতে পারি না? পারি কি না?’

জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের সামনে আরেকটা দল আসছে, কিন্তু ওরা মিথ্যা কথা বলছে। মিথ্যা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করা কি ঠিক হবে? আমার মা-বোনেরা সবাই সহজ-সরল। তাঁদের কোরআন শিক্ষার নাম করে বলতেছে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে। এটা হতে পারে? কোনো মার্কায় ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে?’

নির্বাচন নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কিছু লোক থাকবেই, দুষ্টামি করবেই। আমি মনে করি না, এবারের নির্বাচন কেউ বন্ধ করতে পারবে। দেশের মানুষ জেগে উঠেছে যে ভোট আমরা এবার দিবই। সেটা কেউ ঠেকাতে পারবে না। আপনারা পাহারা রাখবেন যেন ভোটকেন্দ্রে কেউ গোলমাল না করতে পারে।

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের তোজামুলের চাতালে আয়োজিত এক সভায় মির্জা ফখরুল বক্তব্যে জানান, এই মাটির ওপর হিন্দু-মুসলিম সবার সমান অধিকার। দেশটা যেমন কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মানুষের একার নয়, তেমনি এখানে কেউ কারও চেয়ে কমও নয়। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে আমরা সবাই এই দেশের অংশীদার।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ‘আমার মা-বোনেরা, ভাইয়েরা অনেক সময় ভয় পান। ভোট দিলে অন্যরা আক্রমণ করবে কি না, বাড়িঘরে আক্রমণ করবে কি না, বাড়িটা পুড়ায় দিবে কি না? আমি আপনাদের নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে যাবেন। সরকার শুধু নয়, আর্মি-মিলিটারি, প্রশাসন এবং আমরা সবাই আপনাদের পাশে থাকব। অবশ্যই দায়িত্বটা নিয়েই আমি কথা বলছি।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত