আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়
থাকা অবস্থায় আপনার-আমার ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে হরণ করেছে। বিএনপি সরকার ঠিক একইভাবে
ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য নীলনকশা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক
পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে
চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার চৌরাস্তার মোড়ে এনসিপির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে ‘দেশ
গড়তে জুলাই জাগরণ’
শীর্ষক পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মসূচিতে রাজনৈতিক সংস্কার,
নিরপেক্ষ নির্বাচন, গণভোট বাস্তবায়ন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয়
সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয়
নেতারা।
পথসভায় প্রধান অতিথি
ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সভাপতিত্ব
করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা
করেন জেলা সদস্য সচিব আনাসগীর হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আলী রুকনুদ্দীন
যতন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,
পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা আর কোনো রাজনৈতিক দলের তাবেদার হবেন না। জনগণ যাদের রেড কার্ড
দেখিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তাদেরকে বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসক করে বসিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন
কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে
নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। অতীতে ভোটাধিকার হরণের যে অভিযোগ ছিল, সেই ধরনের পরিস্থিতি
যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে
তিনি বলেন, পুলিশ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থে
নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি প্রশাসনের দলীয়করণের সমালোচনা করে পেশাদারিত্ব
বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তরুণদের কর্মসংস্থানের
প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার
ব্যর্থ হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং সাংবিধানিক
প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে
সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের মৌলিক
সংস্কার জরুরি। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, সুশাসন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে
গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতীয়
সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে
হবে।
পথসভায় জানানো হয়, আসন্ন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি সারাদেশে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
এ সময় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাচনে জেলা আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবকে
দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন,
জবাবদিহিমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করে
এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে
নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
অন্যদের মধ্যে মুখ্য সংগঠক
ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান
জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান,
মুসাব্বির আহমদ, তানভীর সওয়ার শুভ্রসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং জেলা শাখার বিভিন্ন
পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : বিএনপি ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং নীলনকশা
.png)
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায়
থাকা অবস্থায় আপনার-আমার ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করে হরণ করেছে। বিএনপি সরকার ঠিক একইভাবে
ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং করার জন্য নীলনকশা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক
পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ।
সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেলে
চুয়াডাঙ্গা বড়বাজার চৌরাস্তার মোড়ে এনসিপির চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার উদ্যোগে ‘দেশ
গড়তে জুলাই জাগরণ’
শীর্ষক পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
কর্মসূচিতে রাজনৈতিক সংস্কার,
নিরপেক্ষ নির্বাচন, গণভোট বাস্তবায়ন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয়
সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয়
নেতারা।
পথসভায় প্রধান অতিথি
ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন। সভাপতিত্ব
করেন চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা
করেন জেলা সদস্য সচিব আনাসগীর হোসেন ও সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আলী রুকনুদ্দীন
যতন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন,
পুলিশ ভাইয়েরা, আপনারা আর কোনো রাজনৈতিক দলের তাবেদার হবেন না। জনগণ যাদের রেড কার্ড
দেখিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় এসে তাদেরকে বিভিন্ন দপ্তরের প্রশাসক করে বসিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন
কমিশনসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে
নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। অতীতে ভোটাধিকার হরণের যে অভিযোগ ছিল, সেই ধরনের পরিস্থিতি
যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য নির্বাচন ব্যবস্থাকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে
তিনি বলেন, পুলিশ, প্রশাসন ও গণমাধ্যমকে কোনো রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, জনগণের স্বার্থে
নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি প্রশাসনের দলীয়করণের সমালোচনা করে পেশাদারিত্ব
বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তরুণদের কর্মসংস্থানের
প্রসঙ্গ তুলে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, দেশের তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার
ব্যর্থ হয়েছে। যোগ্যতার ভিত্তিতে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং সাংবিধানিক
প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নিয়োগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে
সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের মৌলিক
সংস্কার জরুরি। রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহি, সুশাসন ও জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে
গণভোটের মাধ্যমে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সীমান্ত নিরাপত্তা, জাতীয়
সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে
হবে।
পথসভায় জানানো হয়, আসন্ন
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এনসিপি সারাদেশে সাংগঠনিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
এ সময় চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাচনে জেলা আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবকে
দলের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বক্তারা বলেন, বৈষম্যহীন,
জবাবদিহিমূলক ও জনগণকেন্দ্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করে
এনসিপির কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে
নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
অন্যদের মধ্যে মুখ্য সংগঠক
ডা. মাহমুদা মিতু এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম এমপি, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান
জুনায়েদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান,
মুসাব্বির আহমদ, তানভীর সওয়ার শুভ্রসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং জেলা শাখার বিভিন্ন
পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন