কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এই ঘটনা সমঝোতা করা হয়।
৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত আটটার বাসে কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে উভয় পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা হলেন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরেফিন মেহেদী এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে এবং সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসের ফিরার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে আরেফিন মেহেদী ও আবু বকরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ক্যাম্পাসে এসে বাস থেকে নামার পর আরেফিন মেহেদী আবু বকরের কাছে তার পরিচয় জানতে চাই। এসময় আবু বকর নিজের পরিচয় জানালে আরেফিন তাকে থাপ্পড় দেয় বলে অভিযোগ করেন আবু বকর। পরে উভয় শিক্ষার্থীর বিভাগ এবং হলের শিক্ষার্থীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে তৈরি হয়।
এক পর্যায়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আরেফিন মেহেদী আবু বকরের কাছে ক্ষমা চাইতে যান। এ সময় আবু বকরও আরেফিনের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় আবু বকরকে মারা জন্য তাড়া করে আরেফিন মেহেদীর হলের শিক্ষার্থীরা। এবং আবু বকর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে বিজয়-২৪ হলে গিয়ে আশ্রয় নেন।
ঘটনার পর উভয় শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উভয় পক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শোনার পর আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতায় মীমাংসা করা হয়।
আবু বকর বলেন, “আমি বাসের জানালার পাশে বসলে আরেফিন ভাই আমার পাশে এসে বসেন। তার বসতে অসুবিধা হওয়ায় তিনি আমাকে একটু সরে বসতে বলেন। আমি সরে বসে তাকে জায়গা করে দিই। বাস থেকে নামার পর তিনি আমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি পরিচয় দিই। পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আমার কান বরাবর চড় মারেন। পরে তিনি আমার কাছে ক্ষমা চাইতে এলে আমিও ক্ষমা চেয়ে তাকে ধাক্কা দিই।”
আরেফিন মেহেদী বলেন, “বাসে ওঠার পর সিট ফাঁকা থাকায় আমি আবু বকরের পাশে বসি। তবে আবু বকর অতিরিক্ত জায়গা নিয়ে বসায় আমার বসতে অসুবিধা হচ্ছিল। এ সময় তাকে একটু সরে বসতে বললেও সে সরে বসেনি। পরে বাস থেকে নামার সময় আবু বকর আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যান। এরপর বাস থেকে নেমে আমি তার পরিচয় জানতে চাই এবং তাকে একটি ধাক্কা দিই। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে আবু বকরের কাছে ক্ষমা চাইতে গেলে সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।”
সার্বিক বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আবু বকর ছিদ্দিক মাসুম বলেন, “বাসে বসাকে কেন্দ্র করে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরোধ তৈরি হয়। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান করেছি। উভয় পক্ষই সুষ্ঠুভাবে বিষয়টির সমাধানে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না করার কথাও তারা জানিয়েছেন।”
.png)
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টর অফিসে উভয় পক্ষের উপস্থিতিতে এই ঘটনা সমঝোতা করা হয়।
৯ সেপ্টেম্বর (বুধবার) রাত আটটার বাসে কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসে ফেরার সময় ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে উভয় পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীরা হলেন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরেফিন মেহেদী এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আবু বকর।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে এবং সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কুমিল্লা শহর থেকে ক্যাম্পাসের ফিরার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের সিটে বসাকে কেন্দ্র করে আরেফিন মেহেদী ও আবু বকরের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে ক্যাম্পাসে এসে বাস থেকে নামার পর আরেফিন মেহেদী আবু বকরের কাছে তার পরিচয় জানতে চাই। এসময় আবু বকর নিজের পরিচয় জানালে আরেফিন তাকে থাপ্পড় দেয় বলে অভিযোগ করেন আবু বকর। পরে উভয় শিক্ষার্থীর বিভাগ এবং হলের শিক্ষার্থীরাও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে তৈরি হয়।
এক পর্যায়ে নিজের ভুল বুঝতে পেরে আরেফিন মেহেদী আবু বকরের কাছে ক্ষমা চাইতে যান। এ সময় আবু বকরও আরেফিনের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাকে ধাক্কা দেয়। ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে আবারও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এসময় আবু বকরকে মারা জন্য তাড়া করে আরেফিন মেহেদীর হলের শিক্ষার্থীরা। এবং আবু বকর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে বিজয়-২৪ হলে গিয়ে আশ্রয় নেন।
ঘটনার পর উভয় শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে উভয় পক্ষ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শোনার পর আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি সমঝোতায় মীমাংসা করা হয়।
আবু বকর বলেন, “আমি বাসের জানালার পাশে বসলে আরেফিন ভাই আমার পাশে এসে বসেন। তার বসতে অসুবিধা হওয়ায় তিনি আমাকে একটু সরে বসতে বলেন। আমি সরে বসে তাকে জায়গা করে দিই। বাস থেকে নামার পর তিনি আমার পরিচয় জানতে চাইলে আমি পরিচয় দিই। পরিচয় দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি আমার কান বরাবর চড় মারেন। পরে তিনি আমার কাছে ক্ষমা চাইতে এলে আমিও ক্ষমা চেয়ে তাকে ধাক্কা দিই।”
আরেফিন মেহেদী বলেন, “বাসে ওঠার পর সিট ফাঁকা থাকায় আমি আবু বকরের পাশে বসি। তবে আবু বকর অতিরিক্ত জায়গা নিয়ে বসায় আমার বসতে অসুবিধা হচ্ছিল। এ সময় তাকে একটু সরে বসতে বললেও সে সরে বসেনি। পরে বাস থেকে নামার সময় আবু বকর আমাকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যান। এরপর বাস থেকে নেমে আমি তার পরিচয় জানতে চাই এবং তাকে একটি ধাক্কা দিই। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়ে আবু বকরের কাছে ক্ষমা চাইতে গেলে সে আমাকে ধাক্কা দিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যান।”
সার্বিক বিষয়ে সহকারী প্রক্টর আবু বকর ছিদ্দিক মাসুম বলেন, “বাসে বসাকে কেন্দ্র করে ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে লোক প্রশাসন বিভাগের এক শিক্ষার্থীর বিরোধ তৈরি হয়। আমরা উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি সমাধান করেছি। উভয় পক্ষই সুষ্ঠুভাবে বিষয়টির সমাধানে সম্মত হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না করার কথাও তারা জানিয়েছেন।”
.png)
আপনার মতামত লিখুন