গাইবান্ধা, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫: গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শামীম কায়সার লিংকনের বিরুদ্ধে '১/১১-এর সময় দলের বিরুদ্ধে অবস্থান', 'সংস্কারপন্থী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা' এবং 'দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপস্থিতির' অভিযোগ তুলে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা দফায় দফায় গণমিছিল, মানববন্ধন, রাস্তা অবরোধ ও অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে বলছেন, শামীম কায়সার লিংকনের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা দলীয় আদর্শের পরিপন্থী এবং ক্ষতিকর। তাঁরা দৃঢ়ভাবে মনে করেন, তাঁকে এই আসনে দলের প্রার্থী করা কোনোভাবেই উচিত হবে না।
জানা গেছে, এই বিরোধিতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি দলের হাইকমান্ড বরাবর ৬৩ জন নেতা-কর্মীর স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে লিংকনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও মারাত্মক কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে:
১/১১-এর সময়ে দলের বিরোধিতা: অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময়ে শামীম কায়সার লিংকন বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপপ্রচার চালিয়েছিলেন।
ছাত্রদল ভেঙে সংস্কারপন্থীদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা: ওই সংকটকালে তিনি ছাত্রদলকে বিভক্ত করে তথাকথিত সংস্কারপন্থীদের পক্ষে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন, যা দলের সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য মারাত্মক ক্ষতি করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন: অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সে সময় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপস্থিতি: নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ২০১৮ সালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের সময়েও তিনি দলের ডাকে সাড়া না দিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। শুধু তাই নয়, গত ১৫-১৬ বছর ধরে গোবিন্দগঞ্জে অবস্থান না করে তিনি ঢাকা ও মালয়েশিয়ায় চাকরি-বাণিজ্য করে 'আরামে জীবনযাপন' করেছেন। এর ফলস্বরূপ, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত একজন ব্যক্তিকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের নীতি-নির্দেশনার গুরুতর ব্যত্যয় ঘটবে। এর ফলে দীর্ঘ দিনের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা নিরুৎসাহিত হবেন এবং দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে নিশ্চিত জয়ী আসনটিও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় নেতা জানান, "দীর্ঘ দিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে বহিরাগত ও নিষ্ক্রিয় কাউকে নমিনেশন দেওয়া হলে গোবিন্দগঞ্জ বিএনপির অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়বে। দলীয় শক্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে হলে ত্যাগীদের অবশ্যই মর্যাদা দিতে হবে।"
স্থানীয় নেতারা মনে করেন, যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে মামলা, হামলা, নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দিলে গাইবান্ধা-৪ আসনটি পুনরুদ্ধার করা নিশ্চিত হবে। সামগ্রিকভাবে, গোবিন্দগঞ্জ বিএনপির একটি বড় অংশ শামীম কায়সার লিংকনকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোর বিরোধিতা করছে। এই পরিস্থিতিতে এখন দলের হাইকমান্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়— তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আগ্রহ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
.png)
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ নভেম্বর ২০২৫
গাইবান্ধা, ২৪ নভেম্বর, ২০২৫: গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী শামীম কায়সার লিংকনের বিরুদ্ধে '১/১১-এর সময় দলের বিরুদ্ধে অবস্থান', 'সংস্কারপন্থী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা' এবং 'দীর্ঘ ১৫ বছর আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপস্থিতির' অভিযোগ তুলে তাঁর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় বিএনপির রাজনীতি। বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা দফায় দফায় গণমিছিল, মানববন্ধন, রাস্তা অবরোধ ও অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁদের অসন্তোষ প্রকাশ করছেন।
স্থানীয় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা প্রকাশ্যে বলছেন, শামীম কায়সার লিংকনের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা দলীয় আদর্শের পরিপন্থী এবং ক্ষতিকর। তাঁরা দৃঢ়ভাবে মনে করেন, তাঁকে এই আসনে দলের প্রার্থী করা কোনোভাবেই উচিত হবে না।
জানা গেছে, এই বিরোধিতার অংশ হিসেবে সম্প্রতি দলের হাইকমান্ড বরাবর ৬৩ জন নেতা-কর্মীর স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র পাঠানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে লিংকনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ও মারাত্মক কিছু অভিযোগ আনা হয়েছে:
১/১১-এর সময়ে দলের বিরোধিতা: অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ওয়ান-ইলেভেনের কঠিন সময়ে শামীম কায়সার লিংকন বিএনপি এবং জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। সে সময় তিনি দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও অপপ্রচার চালিয়েছিলেন।
ছাত্রদল ভেঙে সংস্কারপন্থীদের পক্ষে নেওয়ার চেষ্টা: ওই সংকটকালে তিনি ছাত্রদলকে বিভক্ত করে তথাকথিত সংস্কারপন্থীদের পক্ষে নেওয়ার দায়িত্বে ছিলেন, যা দলের সাংগঠনিক কাঠামোর জন্য মারাত্মক ক্ষতি করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়।
দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে নির্বাচন: অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেন। এই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে সে সময় তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপস্থিতি: নেতা-কর্মীরা অভিযোগ করেছেন, ২০১৮ সালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচনের সময়েও তিনি দলের ডাকে সাড়া না দিয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন। শুধু তাই নয়, গত ১৫-১৬ বছর ধরে গোবিন্দগঞ্জে অবস্থান না করে তিনি ঢাকা ও মালয়েশিয়ায় চাকরি-বাণিজ্য করে 'আরামে জীবনযাপন' করেছেন। এর ফলস্বরূপ, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো রাজনৈতিক মামলা নেই বলে অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেন।
অভিযোগকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, নিষ্ক্রিয় ও বিতর্কিত একজন ব্যক্তিকে এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হলে দলের নীতি-নির্দেশনার গুরুতর ব্যত্যয় ঘটবে। এর ফলে দীর্ঘ দিনের ত্যাগী নেতা-কর্মীরা নিরুৎসাহিত হবেন এবং দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এর ফলে নিশ্চিত জয়ী আসনটিও হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় নেতা জানান, "দীর্ঘ দিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতা-কর্মীদের বাদ দিয়ে বহিরাগত ও নিষ্ক্রিয় কাউকে নমিনেশন দেওয়া হলে গোবিন্দগঞ্জ বিএনপির অস্তিত্বই সংকটের মুখে পড়বে। দলীয় শক্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে হলে ত্যাগীদের অবশ্যই মর্যাদা দিতে হবে।"
স্থানীয় নেতারা মনে করেন, যাঁরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রামে মামলা, হামলা, নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করেছেন, তাঁদের মধ্য থেকে মনোনয়ন দিলে গাইবান্ধা-৪ আসনটি পুনরুদ্ধার করা নিশ্চিত হবে। সামগ্রিকভাবে, গোবিন্দগঞ্জ বিএনপির একটি বড় অংশ শামীম কায়সার লিংকনকে মনোনয়ন দেওয়ার ঘোর বিরোধিতা করছে। এই পরিস্থিতিতে এখন দলের হাইকমান্ড কী সিদ্ধান্ত নেয়— তা নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আগ্রহ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
.png)
আপনার মতামত লিখুন