সরকারি
চাকরিজীবীদের নতুন
বেতন কাঠামো পুরো
মাত্রায় কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময়
নির্ধারণ করা
হয়েছে ২০২৬-২৭
অর্থবছরের প্রথম
দিন, অর্থাৎ আগামী
১ জুলাই। এর
আগে চলতি বছরের
১ জানুয়ারি থেকে
আংশিকভাবে নতুন
বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে
নবম জাতীয় বেতন
কমিশন।
গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে
রাষ্ট্রীয় অতিথি
ভবন যমুনায় ২৩
সদস্যবিশিষ্ট নবম
জাতীয় বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পেশ করা
হয়। কমিশনের প্রধান
জাকির আহমেদ খান
এর নেতৃত্বে প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময়
অর্থ উপদেষ্টা ড.
সালেহউদ্দিন আহমেদ,
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ
সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী,
অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের পূর্ণকালীন ও
খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বেতন
কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য
২০টি বেতন স্কেল
নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। নতুন কাঠামোয় বেতন বৃদ্ধির হার
হবে ১০০ থেকে
১৪৭ শতাংশ। এতে
সর্বনিম্ন (২০তম
গ্রেড) মূল বেতন
নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০
হাজার টাকা এবং
সর্বোচ্চ (প্রথম
গ্রেড) ১ লাখ
৬০ হাজার টাকা।
ভাতাসহ
ঢাকায় কর্মরত ২০তম
গ্রেডের একজন
কর্মচারীর মোট
বেতন দাঁড়াতে পারে
প্রায় ৪২ হাজার
টাকা। বর্তমানের মতোই
বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা
বহাল থাকবে।
অর্থ
উপদেষ্টা ড.
সালেহউদ্দিন আহমেদ
জানিয়েছেন, বেতন
কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর
তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে না।
বিভিন্ন কমিটির
যাচাই-বাছাই ও
প্রক্রিয়াগত কাজ
শেষে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হবে, যা সাধারণত তিন থেকে চার
মাস সময় নেয়।
এ লক্ষ্যে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে একটি
আলাদা কমিটি গঠন
করা হবে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪
লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং
৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের
জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় এক
লাখ ৩১ হাজার
কোটি টাকা। নতুন
বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয়
হবে আনুমানিক এক
লাখ ৬ হাজার
কোটি টাকা।
এ
লক্ষ্যে ২০২৫-২৬
অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে-স্কেলের জন্য পরিচালন ব্যয়
২২ হাজার কোটি
টাকা বাড়ানো হয়েছে,
যা আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে
ধরা হচ্ছে।
ভাতা ও পেনশনে বড় পরিবর্তন
নতুন প্রস্তাবনায় সরকারি
কর্মচারীদের বৈশাখী
ভাতা ২০ শতাংশ
থেকে বাড়িয়ে ৫০
শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। যাতায়াত ভাতা ১০ম থেকে
২০তম গ্রেড পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে,
যেখানে আগে এটি
ছিল ১১তম থেকে
২০তম গ্রেডে সীমাবদ্ধ।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে।
এ
ছাড়া ৭৫ বছরের
বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা
১০ হাজার টাকা
করার সুপারিশ করা
হয়েছে।
অন্যান্য সুপারিশ
কমিশনের প্রতিবেদনে আরও সুপারিশ করা
হয়েছে—
কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান
বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে
জীবনযাত্রার ব্যয়
বৃদ্ধি পেলেও বেতন
কাঠামো সময়োপযোগী হয়নি।
এই বাস্তবতায় সরকারি
কর্মচারীদের জীবনমান রক্ষায় বাস্তবসম্মত সুপারিশ করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের পর
দীর্ঘ ১২ বছর
পরে নবম জাতীয়
বেতন কমিশন গঠিত
হয়। নির্ধারিত সময়ের
আগেই কমিশন তাদের
প্রতিবেদন জমা
দিয়েছে এবং নির্ধারিত বাজেটের মাত্র
১৮ শতাংশ ব্যয়
করেই কাজ সম্পন্ন করেছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন
.png)
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ জানুয়ারি ২০২৬
সরকারি
চাকরিজীবীদের নতুন
বেতন কাঠামো পুরো
মাত্রায় কার্যকর হওয়ার সম্ভাব্য সময়
নির্ধারণ করা
হয়েছে ২০২৬-২৭
অর্থবছরের প্রথম
দিন, অর্থাৎ আগামী
১ জুলাই। এর
আগে চলতি বছরের
১ জানুয়ারি থেকে
আংশিকভাবে নতুন
বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করেছে
নবম জাতীয় বেতন
কমিশন।
গতকাল বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে
রাষ্ট্রীয় অতিথি
ভবন যমুনায় ২৩
সদস্যবিশিষ্ট নবম
জাতীয় বেতন কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পেশ করা
হয়। কমিশনের প্রধান
জাকির আহমেদ খান
এর নেতৃত্বে প্রতিবেদন হস্তান্তরের সময়
অর্থ উপদেষ্টা ড.
সালেহউদ্দিন আহমেদ,
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ
সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী,
অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদারসহ কমিশনের পূর্ণকালীন ও
খণ্ডকালীন সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
বেতন
কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য
২০টি বেতন স্কেল
নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। নতুন কাঠামোয় বেতন বৃদ্ধির হার
হবে ১০০ থেকে
১৪৭ শতাংশ। এতে
সর্বনিম্ন (২০তম
গ্রেড) মূল বেতন
নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে ২০
হাজার টাকা এবং
সর্বোচ্চ (প্রথম
গ্রেড) ১ লাখ
৬০ হাজার টাকা।
ভাতাসহ
ঢাকায় কর্মরত ২০তম
গ্রেডের একজন
কর্মচারীর মোট
বেতন দাঁড়াতে পারে
প্রায় ৪২ হাজার
টাকা। বর্তমানের মতোই
বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, যাতায়াতসহ অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা
বহাল থাকবে।
অর্থ
উপদেষ্টা ড.
সালেহউদ্দিন আহমেদ
জানিয়েছেন, বেতন
কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর
তাৎক্ষণিকভাবে বাস্তবায়ন শুরু হচ্ছে না।
বিভিন্ন কমিটির
যাচাই-বাছাই ও
প্রক্রিয়াগত কাজ
শেষে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হবে, যা সাধারণত তিন থেকে চার
মাস সময় নেয়।
এ লক্ষ্যে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে একটি
আলাদা কমিটি গঠন
করা হবে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ১৪
লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং
৯ লাখ পেনশনভোগী রয়েছেন। তাদের
জন্য সরকারের বার্ষিক ব্যয় প্রায় এক
লাখ ৩১ হাজার
কোটি টাকা। নতুন
বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ব্যয়
হবে আনুমানিক এক
লাখ ৬ হাজার
কোটি টাকা।
এ
লক্ষ্যে ২০২৫-২৬
অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পে-স্কেলের জন্য পরিচালন ব্যয়
২২ হাজার কোটি
টাকা বাড়ানো হয়েছে,
যা আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে
ধরা হচ্ছে।
ভাতা ও পেনশনে বড় পরিবর্তন
নতুন প্রস্তাবনায় সরকারি
কর্মচারীদের বৈশাখী
ভাতা ২০ শতাংশ
থেকে বাড়িয়ে ৫০
শতাংশ করার সুপারিশ করা হয়েছে। যাতায়াত ভাতা ১০ম থেকে
২০তম গ্রেড পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে,
যেখানে আগে এটি
ছিল ১১তম থেকে
২০তম গ্রেডে সীমাবদ্ধ।
পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসছে।
এ
ছাড়া ৭৫ বছরের
বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা
১০ হাজার টাকা
করার সুপারিশ করা
হয়েছে।
অন্যান্য সুপারিশ
কমিশনের প্রতিবেদনে আরও সুপারিশ করা
হয়েছে—
কমিশনপ্রধান জাকির আহমেদ খান
বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে
জীবনযাত্রার ব্যয়
বৃদ্ধি পেলেও বেতন
কাঠামো সময়োপযোগী হয়নি।
এই বাস্তবতায় সরকারি
কর্মচারীদের জীবনমান রক্ষায় বাস্তবসম্মত সুপারিশ করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের পর
দীর্ঘ ১২ বছর
পরে নবম জাতীয়
বেতন কমিশন গঠিত
হয়। নির্ধারিত সময়ের
আগেই কমিশন তাদের
প্রতিবেদন জমা
দিয়েছে এবং নির্ধারিত বাজেটের মাত্র
১৮ শতাংশ ব্যয়
করেই কাজ সম্পন্ন করেছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন