ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

ভয়াবহ বন্যায় চাটগাঁয় মানবিক বিপর্যয়: দাফনের জায়গাটুকুও নেই, ভেলায় ভাসছে লাশ



ভয়াবহ বন্যায় চাটগাঁয় মানবিক বিপর্যয়: দাফনের জায়গাটুকুও নেই, ভেলায় ভাসছে লাশ
ছবি: মোঃ সালমান ফারসী

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কারণে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। চারদিকে শুধু থৈ থৈ পানি। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ধর্মীয় উপাসনালয়সবকিছুই এখন পানির নিচে। এই চরম দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে বুকফাটা মর্মান্তিক দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃতদেহের শেষকৃত্য বা দাফন সম্পন্ন করার অক্ষমতা।

টানা বর্ষণ পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের কবরস্থানগুলো বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। লাশ দাফন করার মতো কোনো শুকনো বা উন্মুক্ত জায়গা অবশিষ্ট নেই। এই পরিস্থিতিতে চরম নিরুপায় হয়ে অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনের মরদেহ কলার গাছের তৈরি ভেলায় করে অজানার উদ্দেশ্যে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

শেষ বিদায়ের নির্মম এক অধ্যায় সরেজমিনে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি গত কয়েকদিনে এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল। এর মধ্যে স্বাভাবিক মৃত্যু কিংবা বন্যাজনিত কারণে যারা প্রাণ হারাচ্ছেন, তাদের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা পড়েছেন চরম বিপাকে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করার মতো কোনো শুকনো মাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা অশ্রুসজল চোখে জানান ​"আমাদের চোখের সামনে মানুষ মারা যাচ্ছে, কিন্তু তাদের কবর দেওয়ার মতো দুই গজ শুকনো মাটি কোথাও নেই। খাটিয়া কাঁধে নিয়ে হাঁটার মতো রাস্তাও পানির নিচে। অগত্যা বুক ফেটে গেলেও কলার গাছের ভেলা বানিয়ে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না। স্রষ্টা যেন আমাদের এই অবমাননা ক্ষমা করেন।"

বন্যার তীব্রতায় পুরো জেলা এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ওপর মৃতদেহের এই করুণ পরিণতি স্থানীয় মানুষের মানসিক অবস্থাকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ভেসে যাওয়া লাশগুলো পানির স্রোতে কোথায় গিয়ে ঠেকবে, কিংবা আদৌ তাদের শেষ ঠিকানা হবে কি না, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিকল্প উপায়ে লাশ দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। উঁচু কোনো স্থান বা ভাসমান কোনো প্ল্যাটফর্ম সাময়িকভাবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা ভেবে দেখার অনুরোধ করা হচ্ছে।

প্রকৃতির এই চরম রুদ্ররূপের সামনে মানুষ আজ কতটা অসহায়, চট্টগ্রামের এই কলার গাছের ভেলায় ভেসে যাওয়া লাশগুলো যেন তারই এক নির্মম জীবন্ত দলিল হয়ে রইল। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি এই মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : মানবিক লাশ দাফন চাটগাঁয়

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬


ভয়াবহ বন্যায় চাটগাঁয় মানবিক বিপর্যয়: দাফনের জায়গাটুকুও নেই, ভেলায় ভাসছে লাশ

প্রকাশের তারিখ : ১৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার কারণে এক নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। চারদিকে শুধু থৈ থৈ পানি। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ধর্মীয় উপাসনালয়সবকিছুই এখন পানির নিচে। এই চরম দুর্যোগের মধ্যে সবচেয়ে বুকফাটা মর্মান্তিক দৃশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে মৃতদেহের শেষকৃত্য বা দাফন সম্পন্ন করার অক্ষমতা।

টানা বর্ষণ পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের কবরস্থানগুলো বুকসমান পানিতে তলিয়ে গেছে। লাশ দাফন করার মতো কোনো শুকনো বা উন্মুক্ত জায়গা অবশিষ্ট নেই। এই পরিস্থিতিতে চরম নিরুপায় হয়ে অনেক পরিবার তাদের প্রিয়জনের মরদেহ কলার গাছের তৈরি ভেলায় করে অজানার উদ্দেশ্যে ভাসিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

শেষ বিদায়ের নির্মম এক অধ্যায় সরেজমিনে এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি গত কয়েকদিনে এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে যে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা পুরোপুরি অচল। এর মধ্যে স্বাভাবিক মৃত্যু কিংবা বন্যাজনিত কারণে যারা প্রাণ হারাচ্ছেন, তাদের মরদেহ নিয়ে স্বজনরা পড়েছেন চরম বিপাকে। ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন করার মতো কোনো শুকনো মাটি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয়রা অশ্রুসজল চোখে জানান ​"আমাদের চোখের সামনে মানুষ মারা যাচ্ছে, কিন্তু তাদের কবর দেওয়ার মতো দুই গজ শুকনো মাটি কোথাও নেই। খাটিয়া কাঁধে নিয়ে হাঁটার মতো রাস্তাও পানির নিচে। অগত্যা বুক ফেটে গেলেও কলার গাছের ভেলা বানিয়ে লাশ ভাসিয়ে দেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকছে না। স্রষ্টা যেন আমাদের এই অবমাননা ক্ষমা করেন।"

বন্যার তীব্রতায় পুরো জেলা এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন। শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর ওপর মৃতদেহের এই করুণ পরিণতি স্থানীয় মানুষের মানসিক অবস্থাকে আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। ভেসে যাওয়া লাশগুলো পানির স্রোতে কোথায় গিয়ে ঠেকবে, কিংবা আদৌ তাদের শেষ ঠিকানা হবে কি না, তা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।

স্থানীয় সামাজিক সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত বিকল্প উপায়ে লাশ দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। উঁচু কোনো স্থান বা ভাসমান কোনো প্ল্যাটফর্ম সাময়িকভাবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা ভেবে দেখার অনুরোধ করা হচ্ছে।

প্রকৃতির এই চরম রুদ্ররূপের সামনে মানুষ আজ কতটা অসহায়, চট্টগ্রামের এই কলার গাছের ভেলায় ভেসে যাওয়া লাশগুলো যেন তারই এক নির্মম জীবন্ত দলিল হয়ে রইল। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি বেসরকারি পর্যায়ের ত্রাণ তৎপরতার পাশাপাশি এই মানবিক সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত