ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

নজরুলকে কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না: বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক



নজরুলকে কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না: বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক
সংগৃহীত




নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর সাহিত্যের মাধ্যমে বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিলেন। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে নজরুলের পদচারণা ছিলনা। অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি একজন সার্বজনীন সাহিত্যিকের আসনে উন্নীত হয়েছিলেন।


নজরুলকে জানতে হলে তার দর্শনকে আমাদের ভালোভাবে জানতে হবে। আমরা এ মহান কবির মানবতাবাদকে ধারণ করে একটি উদারনৈতিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাবো। উপাচার্য আরও বলেন, জাতীয় কবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নজরুল বর্ষ ঘোষণার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কবির গান, কবিতা ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ প্রসারিত হচ্ছে। বক্তব্যে নজরুল বর্ষের সফলতা কামনা করে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।



সেমিনারের কি-নোট স্পিকার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা সাধারণত তাঁকে বিদ্রোহী, সাম্যের কিংবা মানবতার কবি হিসেবে চিহ্নিত করি। এগুলো তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলেও নজরুলের সৃষ্টিশীলতার পরিসর এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত। নজরুলকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর সাহিত্যভাবনা, সৃজনশীলতার স্বাতন্ত্র্য, ভাষার ব্যবহার এবং সাহিত্যের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন। নজরুল বাংলা সাহিত্যে এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যখন সাহিত্যের একটি নির্দিষ্ট ধারা বেশ প্রভাবশালী ছিল। কিন্তু নজরুল তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে সেই প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন ভাষা, প্রকাশভঙ্গি এবং নতুন বিষয়বস্তুর সংযোজন ঘটিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতায় যে বৈচিত্র দেখা যায়, তা বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত রীতিকে নতুনভাবে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ফলে নজরুলকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই।


তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়েও নজরুলের সাহিত্যভাবনার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। সমাজে যখন বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা কিংবা কর্তৃত্বের প্রশ্ন সামনে আসে, তখন নজরুলের সাহিত্য আমাদের নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। নজরুলের সাহিত্যকে বিভিন্ন আঙ্গিকে পাঠ ও বিশ্লেষণ করতে পারলেই তাঁর সৃষ্টির নতুন নতুন মাত্রা উন্মোচিত হবে।


নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। সেমিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষক ড. আবুহেনা আবদুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল বর্ষ উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. শিবলুর রহমান। এ সময় নোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬


নজরুলকে কোনো নির্দিষ্ট পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না: বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক

প্রকাশের তারিখ : ০৫ নভেম্বর ২০২৬

featured Image




নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) নজরুল বর্ষ ২০২৬-২০২৭ উদযাপন উপলক্ষে সেমিনার ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর ২০২৬) নোবিপ্রবি বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমিন অডিটোরিয়ামে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর সাহিত্যের মাধ্যমে বিপুল উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছিলেন। সাহিত্যের এমন কোনো শাখা নেই যেখানে নজরুলের পদচারণা ছিলনা। অসাম্প্রদায়িক চেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে তিনি একজন সার্বজনীন সাহিত্যিকের আসনে উন্নীত হয়েছিলেন।


নজরুলকে জানতে হলে তার দর্শনকে আমাদের ভালোভাবে জানতে হবে। আমরা এ মহান কবির মানবতাবাদকে ধারণ করে একটি উদারনৈতিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে এগিয়ে যাবো। উপাচার্য আরও বলেন, জাতীয় কবিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে নজরুল বর্ষ ঘোষণার জন্য আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কবির গান, কবিতা ও সাহিত্যচর্চার সুযোগ প্রসারিত হচ্ছে। বক্তব্যে নজরুল বর্ষের সফলতা কামনা করে প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী।



সেমিনারের কি-নোট স্পিকার বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আজম বলেন, কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আমরা সাধারণত তাঁকে বিদ্রোহী, সাম্যের কিংবা মানবতার কবি হিসেবে চিহ্নিত করি। এগুলো তাঁর সাহিত্যিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলেও নজরুলের সৃষ্টিশীলতার পরিসর এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত। নজরুলকে যথাযথভাবে বুঝতে হলে তাঁর সাহিত্যভাবনা, সৃজনশীলতার স্বাতন্ত্র্য, ভাষার ব্যবহার এবং সাহিত্যের নন্দনতত্ত্ব নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা প্রয়োজন। নজরুল বাংলা সাহিত্যে এমন এক সময়ে আবির্ভূত হয়েছিলেন, যখন সাহিত্যের একটি নির্দিষ্ট ধারা বেশ প্রভাবশালী ছিল। কিন্তু নজরুল তাঁর সাহিত্যকর্মের মধ্য দিয়ে সেই প্রচলিত কাঠামোর বাইরে গিয়ে নতুন ভাষা, প্রকাশভঙ্গি এবং নতুন বিষয়বস্তুর সংযোজন ঘটিয়েছেন। তাঁর কবিতা, গান, গল্প, প্রবন্ধ ও সাংবাদিকতায় যে বৈচিত্র দেখা যায়, তা বাংলা সাহিত্যের প্রচলিত রীতিকে নতুনভাবে আমাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। ফলে নজরুলকে কোনো একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দেখার সুযোগ নেই।


তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়েও নজরুলের সাহিত্যভাবনার প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। সমাজে যখন বৈষম্য, অসহিষ্ণুতা কিংবা কর্তৃত্বের প্রশ্ন সামনে আসে, তখন নজরুলের সাহিত্য আমাদের নতুন করে চিন্তা করার সুযোগ তৈরি করে দেয়। নজরুলের সাহিত্যকে বিভিন্ন আঙ্গিকে পাঠ ও বিশ্লেষণ করতে পারলেই তাঁর সৃষ্টির নতুন নতুন মাত্রা উন্মোচিত হবে।


নজরুল বর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. গাজী মো. মহসিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন। সেমিনারে আলোচক হিসেবে ছিলেন সাহিত্যিক ও নজরুল গবেষক ড. আবুহেনা আবদুল আউয়াল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন নজরুল বর্ষ উদ্যাপন কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. শিবলুর রহমান। এ সময় নোবিপ্রবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত