বিসিবির ভারতের মাটিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে কিছু মন্তব্য করেন তামিম। সিটি ক্লাব মাঠে জিয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,
হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ ও আর্থিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত,
'সবার মতো আমার কাছেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ সবকিছুর আগে। কিন্তু আপনার ভবিষ্যৎ,
সবকিছু চিন্তা করে…
আপনি যদি দেখেন,
আমাদের ৯০-৯৫ শতাংশ অর্থ কিন্তু আইসিসি থেকেই আসে। সবকিছু বিবেচনা করে যেটায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সহায়তা হবে,
সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।'
ইংরেজিতে এই কথাগুলো লেখা একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করেন বিসিবি পরিচালক নাজমুল।
'ফ্রেন্ডস' প্রাইভেসিতে করা ওই পোস্টে তিনি লেখেন,
'এইবার আরো একজন পরিক্ষিত (পরীক্ষিত) ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।'
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এর কয়েক ঘণ্টা পর নাজমুল
'ফ্রেন্ডস' প্রাইভেসিতে আরেকটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন,
মন্তব্যটি তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ থেকে করা এবং এটিকে অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়,
মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে,
মাননীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা (আসিফ নজরুল)
বিষয়টা আন্দাজ করতে পেরে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচসমূহ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরে বিসিবিকে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছেন। মাননীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পর্যন্ত সমর্থন করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টার সিদ্ধান্তকে। এমন এক পরিস্থিতিতে দেশের জনগনের
(জনগণের)
সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে ভারতীয়দের হয়ে ব্যাট করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জার্সিতে ১৫ হাজার রান করা এক লিজেন্ডারি ক্রিকেটার। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত। প্লিজ,
এই মন্তব্যকে অন্যভাবে নেবেন না।'
প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন আজ শুক্রবার জানিয়েছে, তারা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে চিঠি লিখেছে এবং সেখানে পরিচালক নাজমুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে,
'সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্য ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নজরে এসেছে। আমরা এতে স্তব্ধ,
বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ওপেনার,
দেশের হয়ে ১৬ বছর খেলা ক্রিকেটারকে নিয়ে একজন বোর্ড কর্মকর্তার এমন মন্তব্য চরম নিন্দনীয়। শুধু তামিমের মতো একজন বলেই নয়,
দেশের যে কোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক।'
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তামিমের সতীর্থদের অনেকে। ডানহাতি পেসার তাসকিন লিখেছেন,
এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর,
'ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। সেই ক্রিকেটে বড় অবদান রাখা সাবেক জাতীয় অধিনায়ক কে ঘিরে সাম্প্রতিক এক মন্তব্য অনেককেই ভাবিয়েছে। দেশের একজন সাবেক ক্রিকেটারকে উদ্দেশ্য করে এ ধরনের বক্তব্য দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সহায়ক নয় বলেই মনে করি। আশা করি,
সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল অবস্থান নেবে।'
মন্তব্যটিকে দেশের ক্রিকেট মহলের জন্য অপমানজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাঁহাতি ব্যাটার ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল লিখেছেন,
'সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের ক্রিকেট সমাজের প্রতি অপমানজনক। একজন ক্রিকেটারের প্রতি এমন আচরণ বোর্ডের দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ন্যূনতম সম্মানও দেওয়া হয়নি;
বরং তাকে জনসম্মুখে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা হয়েছে। এত বড় দায়িত্বে বসে কোথায় এবং কীভাবে কথা বলতে হয়,
তার বেসিক শিষ্টাচারও এ ধরনের মন্তব্যে দেখা যায়নি। আমি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিসিবিকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ জানুয়ারি ২০২৬
বিসিবির ভারতের মাটিতে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের জবাবে কিছু মন্তব্য করেন তামিম। সিটি ক্লাব মাঠে জিয়া আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন,
হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী ভবিষ্যৎ ও আর্থিক স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত,
'সবার মতো আমার কাছেও বাংলাদেশ ক্রিকেটের স্বার্থ সবকিছুর আগে। কিন্তু আপনার ভবিষ্যৎ,
সবকিছু চিন্তা করে…
আপনি যদি দেখেন,
আমাদের ৯০-৯৫ শতাংশ অর্থ কিন্তু আইসিসি থেকেই আসে। সবকিছু বিবেচনা করে যেটায় বাংলাদেশ ক্রিকেটের সহায়তা হবে,
সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।'
ইংরেজিতে এই কথাগুলো লেখা একটি ফটোকার্ড ফেসবুকে শেয়ার করেন বিসিবি পরিচালক নাজমুল।
'ফ্রেন্ডস' প্রাইভেসিতে করা ওই পোস্টে তিনি লেখেন,
'এইবার আরো একজন পরিক্ষিত (পরীক্ষিত) ভারতীয় দালাল এর আত্মপ্রকাশ বাংলার জনগণ দুচোখ ভরে দেখলো।'
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখে এর কয়েক ঘণ্টা পর নাজমুল
'ফ্রেন্ডস' প্রাইভেসিতে আরেকটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন,
মন্তব্যটি তার ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ থেকে করা এবং এটিকে অন্য কোনোভাবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়,
মোস্তাফিজুর রহমান ইস্যুতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ভারতে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে,
মাননীয় ক্রীড়া উপদেষ্টা (আসিফ নজরুল)
বিষয়টা আন্দাজ করতে পেরে আসন্ন টি-২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচসমূহ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় স্থানান্তরে বিসিবিকে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা করতে বলেছেন। মাননীয় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা পর্যন্ত সমর্থন করেছেন ক্রীড়া উপদেষ্টার সিদ্ধান্তকে। এমন এক পরিস্থিতিতে দেশের জনগনের
(জনগণের)
সেন্টিমেন্টের বাইরে গিয়ে ভারতীয়দের হয়ে ব্যাট করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের জার্সিতে ১৫ হাজার রান করা এক লিজেন্ডারি ক্রিকেটার। এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত অভিমত। প্লিজ,
এই মন্তব্যকে অন্যভাবে নেবেন না।'
প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের ক্রিকেটারদের সংগঠন আজ শুক্রবার জানিয়েছে, তারা বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের কাছে চিঠি লিখেছে এবং সেখানে পরিচালক নাজমুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি তাকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে,
'সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্য ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) নজরে এসেছে। আমরা এতে স্তব্ধ,
বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। বাংলাদেশের ইতিহাসের সফলতম ওপেনার,
দেশের হয়ে ১৬ বছর খেলা ক্রিকেটারকে নিয়ে একজন বোর্ড কর্মকর্তার এমন মন্তব্য চরম নিন্দনীয়। শুধু তামিমের মতো একজন বলেই নয়,
দেশের যে কোনো ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন মন্তব্য অগ্রহণযোগ্য ও পুরো ক্রিকেট সমাজের জন্য অপমানজনক।'
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদ ও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তামিমের সতীর্থদের অনেকে। ডানহাতি পেসার তাসকিন লিখেছেন,
এ ধরনের মন্তব্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের অগ্রগতির জন্য ক্ষতিকর,
'ক্রিকেট বাংলাদেশের প্রাণ। সেই ক্রিকেটে বড় অবদান রাখা সাবেক জাতীয় অধিনায়ক কে ঘিরে সাম্প্রতিক এক মন্তব্য অনেককেই ভাবিয়েছে। দেশের একজন সাবেক ক্রিকেটারকে উদ্দেশ্য করে এ ধরনের বক্তব্য দেশের ক্রিকেটের স্বার্থে সহায়ক নয় বলেই মনে করি। আশা করি,
সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল অবস্থান নেবে।'
মন্তব্যটিকে দেশের ক্রিকেট মহলের জন্য অপমানজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাঁহাতি ব্যাটার ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল লিখেছেন,
'সাবেক জাতীয় অধিনায়ক তামিম ইকবালকে নিয়ে বিসিবি পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের মন্তব্য সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং দেশের ক্রিকেট সমাজের প্রতি অপমানজনক। একজন ক্রিকেটারের প্রতি এমন আচরণ বোর্ডের দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। একজন সিনিয়র ক্রিকেটারকে ন্যূনতম সম্মানও দেওয়া হয়নি;
বরং তাকে জনসম্মুখে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করা হয়েছে। এত বড় দায়িত্বে বসে কোথায় এবং কীভাবে কথা বলতে হয়,
তার বেসিক শিষ্টাচারও এ ধরনের মন্তব্যে দেখা যায়নি। আমি এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং সংশ্লিষ্ট পরিচালকের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া ও তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি। বিসিবিকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।
এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন