কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ‘ইন্ডাস্ট্রি ৫.০ ও স্কিলস ৫.০: আমরা কতটা প্রস্তুত?’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নরওয়ের ওয়েস্টার্ন নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস-এর অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস।
সেমিনারে বক্তারা যুগোপযোগী শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করেন।
মূল উপস্থাপক অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি ৫.০-এর চাহিদা পূরণে উচ্চশিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং একাডেমিয়া-শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলা জরুরি। প্রযুক্তি, ব্যবসা, সমাজবিজ্ঞান, নৈতিকতা ও টেকসই উন্নয়নকে সমন্বিত করে পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন করলে শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিশ্বে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে। পাশাপাশি বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, সক্রিয় শিক্ষণ, দলগত কাজ, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং নতুন ধারণা সৃষ্টির সক্ষমতা ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য অপরিহার্য।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি কার্যক্রম চালু হওয়া গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইন্ডাস্ট্রি ৫.০-এর যুগে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে ইনোভেশন হাব, গ্রিন ক্যাম্পাস, আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই) এবং তথ্যভিত্তিক মাননিশ্চয়তা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি ৫.০ ও স্কিলস ৫.০-এর বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষায় মৌলিক সংস্কার, শিল্পমুখী ও আন্তঃবিষয়ক পাঠ্যক্রম, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির আহ্বান জানাই।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি ৫.০-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধি, পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আন্তঃবিষয়ক শিক্ষার সংযোজন এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সময়ের দাবি। গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎকর্ষের কেন্দ্রে পরিণত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, 'বহুমাত্রিক পাঠ্যক্রম, মাননিশ্চয়তা, গবেষণা, পেশাদারিত্ব এবং একাডেমিয়া-শিল্পখাতের সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যৎমুখী উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নবপ্রবর্তিত পিএইচডি কর্মসূচি, একাডেমিক স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
.png)
বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ জুলাই ২০২৬
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে ‘ইন্ডাস্ট্রি ৫.০ ও স্কিলস ৫.০: আমরা কতটা প্রস্তুত?’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
আইকিউএসি’র পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নরওয়ের ওয়েস্টার্ন নরওয়ে ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস-এর অর্গানাইজেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস।
সেমিনারে বক্তারা যুগোপযোগী শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষা, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্প-একাডেমিয়ার সমন্বয় নিয়ে আলোচনা করেন।
মূল উপস্থাপক অধ্যাপক ড. আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি ৫.০-এর চাহিদা পূরণে উচ্চশিক্ষায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। আন্তঃবিষয়ক শিক্ষা, উদ্ভাবন এবং একাডেমিয়া-শিল্পখাতের মধ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা গড়ে তোলা জরুরি। প্রযুক্তি, ব্যবসা, সমাজবিজ্ঞান, নৈতিকতা ও টেকসই উন্নয়নকে সমন্বিত করে পাঠ্যক্রম পুনর্গঠন করলে শিক্ষার্থীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর বিশ্বে সফলভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবে। পাশাপাশি বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, সৃজনশীলতা, সক্রিয় শিক্ষণ, দলগত কাজ, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং নতুন ধারণা সৃষ্টির সক্ষমতা ভবিষ্যৎ বিশ্বের জন্য অপরিহার্য।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি কার্যক্রম চালু হওয়া গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ইন্ডাস্ট্রি ৫.০-এর যুগে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা, বিশ্লেষণী চিন্তাশক্তি, ডিজিটাল দক্ষতা, নেতৃত্ব এবং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে ইনোভেশন হাব, গ্রিন ক্যাম্পাস, আউটকাম-বেইজড এডুকেশন (ওবিই) এবং তথ্যভিত্তিক মাননিশ্চয়তা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি ৫.০ ও স্কিলস ৫.০-এর বাস্তবতায় উচ্চশিক্ষায় মৌলিক সংস্কার, শিল্পমুখী ও আন্তঃবিষয়ক পাঠ্যক্রম, গবেষণা, উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা তৈরির ওপর অধিক গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি মানসম্মত শিক্ষা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের গ্র্যাজুয়েট তৈরির আহ্বান জানাই।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি ৫.০-এর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা বৃদ্ধি, পাঠ্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আন্তঃবিষয়ক শিক্ষার সংযোজন এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা সময়ের দাবি। গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানসম্মত শিক্ষার মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে উৎকর্ষের কেন্দ্রে পরিণত করতে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।’
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, 'বহুমাত্রিক পাঠ্যক্রম, মাননিশ্চয়তা, গবেষণা, পেশাদারিত্ব এবং একাডেমিয়া-শিল্পখাতের সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যৎমুখী উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নবপ্রবর্তিত পিএইচডি কর্মসূচি, একাডেমিক স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান এবং বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষ অর্জনের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
.png)
আপনার মতামত লিখুন