দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্প সমুহ বাস্তবায়নে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলা পিআই অফিসের পরিবর্তনের হাওয়া দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। জনগনও বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর কার্যকর সুফল পেতে শুরু করেছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের অধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসগুলো ছিলো সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পকেটের দুর্যোগ প্রশমনের হাতিয়ার মাত্র। নামে বেনামে কাবিটা কাবিখা ও টিআর প্রকল্পের নামে যেখানে প্রকল্প থাকতো শুধু কাগজে কলমে, বাস্তবে সেইসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো নজীর পাওয়া যেতো না। এমনকি বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও কবরস্থানের নামেও প্রকল্প দেখিয়ে সেগুলো লুটপাট করা হয়েছে। তথ্য নিয়ে দেখা গেছে তৎকালীন সময়ে ৯০ ভাগ প্রকল্পই ছিলো অস্তিত্বহীন ও ভূয়া।
বিগত ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের আমল থেকেই ভুয়া প্রকল্পের নামে লুটপাটের এই ধারার পরিবর্তন হতে শুরু করে। রাজনৈতিক চাপ মুক্ত থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাগন সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যাবহার ও গ্রামীন জনগনের জন্যে কল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়নে মনোযোগি হতে থাকেন। বর্তমান সরকারের সময়েও এই ধারা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব নাহিদুজ্জামান। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে কাবিটা কাবিখা ও টিআর মিলে ২টি পর্যায়ে ৩৩২ টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে যার সবগুলোই দৃশ্যমান এবং জনগন সরাসরি এই প্রকল্পগুলোর সুফল ভোগ করছে বলে জানিয়েছেন উপকারভোগি সর্ব সাধারন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জনবহুল গ্রামীন রাস্তা সিসিকরন, হেরিং বন্ড রাস্তা নির্মান, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা সংস্কার।
সাধারনত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সরাসরি তত্বাবধানে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের প্রস্তাবনা আসে উপজেলাধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলো থেকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্যে প্রকল্প প্রস্তাব গ্রহন করা হয়ে থাকে। কিন্ত কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রস্তাবিত পিআইসি বা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিআর প্রকল্পগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কমিটি প্রদত্ত পিআইসির মাধ্যেমে বাস্তবায়িত হলেও সেগুলোতেও ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন থাকে।
জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব নাহিদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিরুপনে আগে ছবি নেওয়া হয় ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে আর্থিক বরাদ্দ অনুসারে অনুমোদনের জন্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হয়ে থাকে। অনুমোদিত প্রকল্পসমুহ বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রকল্পের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রায় ৫০% কাজ সম্পন্ন হলে আমি নিজে সশরীরে পরিদর্শন করি ও ফটোগ্রাফ গ্রহন করে ৫০% বিল ছাড় করা হয়। অবশিষ্ট কাজ প্রস্তাবিত নকশা অনুসারে সম্পন্ন করলে এবং পরিদর্শনের পর কাজের মানের বিষয়ে সন্তষ্ট হলেই কেবল অবশিষ্ট বিল পরিশোধ করা হয়ে থাকে, তার আগে নয়। এক্ষেত্রে কোনো রকম ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
প্রদত্ত তালিকা ধরে অনুসন্ধান করে জানা গেছে কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্প গুলোর বাস্তবায়নের হার শতভাগ হলেও টিআর প্রকল্পগুলোর প্রস্তাবিত কাজ সম্পন্নের হার ৯০%। এর কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, কবরস্থান সংস্কারে প্রদত্ত টিআর প্রকল্পগুলোতে প্রস্তাবিত কাজের বাইরেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজনীয় অন্য কাজে এই টাকা ব্যবহার করে থাকে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় না থাকলেও প্রকল্পের কিছু টাকা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কিছু অগ্রাধিকার প্রয়োজনে ব্যাবহার করে ফলে টিআর বাস্তবায়নের হার কিছুটা কম মনে হলেও তা প্রতিষ্ঠানের কাজেই ব্যাবহার হয়ে থাকে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : জলঢাকা উন্নয়ন গ্রামীন অবকাঠামো পিআই অফিস
.png)
শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ জুলাই ২০২৬
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয়ের অধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়িত গ্রামীন অবকাঠামো উন্নয়ন ও সংস্কার প্রকল্প সমুহ বাস্তবায়নে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলা পিআই অফিসের পরিবর্তনের হাওয়া দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। জনগনও বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর কার্যকর সুফল পেতে শুরু করেছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ত্রান ও দুর্যোগ মন্ত্রনালয়ের অধীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসগুলো ছিলো সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের পকেটের দুর্যোগ প্রশমনের হাতিয়ার মাত্র। নামে বেনামে কাবিটা কাবিখা ও টিআর প্রকল্পের নামে যেখানে প্রকল্প থাকতো শুধু কাগজে কলমে, বাস্তবে সেইসব প্রকল্প বাস্তবায়নের কোনো নজীর পাওয়া যেতো না। এমনকি বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা ও কবরস্থানের নামেও প্রকল্প দেখিয়ে সেগুলো লুটপাট করা হয়েছে। তথ্য নিয়ে দেখা গেছে তৎকালীন সময়ে ৯০ ভাগ প্রকল্পই ছিলো অস্তিত্বহীন ও ভূয়া।
বিগত ইন্টেরিম গভর্নমেন্টের আমল থেকেই ভুয়া প্রকল্পের নামে লুটপাটের এই ধারার পরিবর্তন হতে শুরু করে। রাজনৈতিক চাপ মুক্ত থেকে কাজ করার সুযোগ পেয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাগন সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যাবহার ও গ্রামীন জনগনের জন্যে কল্যাণমুখী প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়নে মনোযোগি হতে থাকেন। বর্তমান সরকারের সময়েও এই ধারা অব্যাহত আছে বলে জানিয়েছেন জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব নাহিদুজ্জামান। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের মাধ্যমে কাবিটা কাবিখা ও টিআর মিলে ২টি পর্যায়ে ৩৩২ টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে যার সবগুলোই দৃশ্যমান এবং জনগন সরাসরি এই প্রকল্পগুলোর সুফল ভোগ করছে বলে জানিয়েছেন উপকারভোগি সর্ব সাধারন। প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে জনবহুল গ্রামীন রাস্তা সিসিকরন, হেরিং বন্ড রাস্তা নির্মান, মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা সংস্কার।
সাধারনত উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সরাসরি তত্বাবধানে বাস্তবায়িত এসব প্রকল্পের প্রস্তাবনা আসে উপজেলাধীন ইউনিয়ন পরিষদগুলো থেকে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্যে প্রকল্প প্রস্তাব গ্রহন করা হয়ে থাকে। কিন্ত কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্পগুলো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রস্তাবিত পিআইসি বা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে টিআর প্রকল্পগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কমিটি প্রদত্ত পিআইসির মাধ্যেমে বাস্তবায়িত হলেও সেগুলোতেও ইউনিয়ন পরিষদের অনুমোদন থাকে।
জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা জনাব নাহিদুজ্জামান বলেন, প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা নিরুপনে আগে ছবি নেওয়া হয় ও প্রস্তাবিত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করে আর্থিক বরাদ্দ অনুসারে অনুমোদনের জন্যে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে পাঠানো হয়ে থাকে। অনুমোদিত প্রকল্পসমুহ বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়ে প্রকল্পের কার্যাদেশ প্রদান করা হয়ে থাকে। প্রায় ৫০% কাজ সম্পন্ন হলে আমি নিজে সশরীরে পরিদর্শন করি ও ফটোগ্রাফ গ্রহন করে ৫০% বিল ছাড় করা হয়। অবশিষ্ট কাজ প্রস্তাবিত নকশা অনুসারে সম্পন্ন করলে এবং পরিদর্শনের পর কাজের মানের বিষয়ে সন্তষ্ট হলেই কেবল অবশিষ্ট বিল পরিশোধ করা হয়ে থাকে, তার আগে নয়। এক্ষেত্রে কোনো রকম ছাড় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।
প্রদত্ত তালিকা ধরে অনুসন্ধান করে জানা গেছে কাবিটা ও কাবিখা প্রকল্প গুলোর বাস্তবায়নের হার শতভাগ হলেও টিআর প্রকল্পগুলোর প্রস্তাবিত কাজ সম্পন্নের হার ৯০%। এর কারন অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, মাদরাসা, কবরস্থান সংস্কারে প্রদত্ত টিআর প্রকল্পগুলোতে প্রস্তাবিত কাজের বাইরেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজনীয় অন্য কাজে এই টাকা ব্যবহার করে থাকে। প্রকল্প প্রস্তাবনায় না থাকলেও প্রকল্পের কিছু টাকা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কিছু অগ্রাধিকার প্রয়োজনে ব্যাবহার করে ফলে টিআর বাস্তবায়নের হার কিছুটা কম মনে হলেও তা প্রতিষ্ঠানের কাজেই ব্যাবহার হয়ে থাকে বলে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন