সাওবান (রা.)-থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) একদিন ফজরের নামাজের পর আমাদের কাছে এসে বললেন, ‘গত
রাতে আমার প্রতিপালক আমার কাছে সর্বোত্তম রূপে আগমন করেছেন এবং বলেছেন, ‘হে মুহাম্মদ!
তুমি কি জানো, ঊর্ধ্বজগতের সম্মানিত পরিষদ (মালায়ে আলা) কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে?’
আমি বললাম, ‘না, হে আমার রব।’ তখন তিনি আমার কাঁধে তাঁর হাত রাখলেন। ফলে আমি আসমান
ও জমিনের মধ্যবর্তী সবকিছু যেন প্রত্যক্ষ করতে লাগলাম।
এরপর আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, হে
আমার রব! তারা ‘কাফফারা (গুনাহ মোচনের উপায়) এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে এমন আমলসমূহ নিয়ে
আলোচনা করছে।’ তিনি বললেন, ‘মর্যাদা বৃদ্ধি করে এমন কাজগুলো হলো, ‘ক্ষুধার্তকে আহার
করানো, মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষ ঘুমিয়ে থাকাকালে রাতে নামাজ
আদায় করা।’
আর কাফফারাস্বরূপ আমল হলো,
‘কষ্টসাধ্য হলেও উত্তমভাবে অজু করা, জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য পায়ে হেঁটে মসজিদের
দিকে অগ্রসর হওয়া এবং নামাজ শেষে মসজিদে অবস্থান করা।’
এরপর তিনি বললেন, ‘হে মুহাম্মদ,
তুমি বলো, তোমার কথা শোনা হবে। তুমি প্রার্থনা করো, তোমাকে প্রদান করা হবে।’ আমি বললাম,
‘হে আমার রব! আমাকে শিক্ষা দিন।’
তখন তিনি বললেন, এভাবে বলো,
‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সৎকর্ম সম্পাদনের তাওফিক চাই, মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার
শক্তি চাই এবং দরিদ্রদের ভালোবাসার তাওফিক চাই। আমি আপনার কাছে আমার জন্য ক্ষমা ও দয়া
প্রার্থনা করি। আপনি যদি কোনো জাতিকে পরীক্ষায় নিপতিত করতে চান, তবে আমাকে সেই পরীক্ষায়
পতিত করার আগেই আপনার সান্নিধ্যে তুলে নিন।
এরপর আল্লাহ তাঁকে পাওয়ার সহজ
একটি দোয়া শিখিয়ে দেন। দোয়াটি হলো-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ، وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَعَمَلًا يُبَلِّغُنِي حُبَّكَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি
আসআলুকা হুব্বাকা, ওয়া হুব্বা মান ইউহিব্বুকা, ওয়া আমালান ইউবাল্লিগুনি হুব্বাকা।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার
ভালোবাসা চাই, এবং যে আপনাকে ভালোবাসে, তার ভালোবাসা চাই। আর এমন আমল করার তৌফিক চাই,
যা আমাকে আপনার ভালোবাসায় পৌঁছে দেয়। (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩২৩৫, মুসনাদে আহমাদ,
হাদিস নং : ২২১৬২)
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : ভালোবাসা আল্লাহ তায়ালা
.png)
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৮ এপ্রিল ২০২৬
সাওবান (রা.)-থেকে বর্ণিত,
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) একদিন ফজরের নামাজের পর আমাদের কাছে এসে বললেন, ‘গত
রাতে আমার প্রতিপালক আমার কাছে সর্বোত্তম রূপে আগমন করেছেন এবং বলেছেন, ‘হে মুহাম্মদ!
তুমি কি জানো, ঊর্ধ্বজগতের সম্মানিত পরিষদ (মালায়ে আলা) কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করছে?’
আমি বললাম, ‘না, হে আমার রব।’ তখন তিনি আমার কাঁধে তাঁর হাত রাখলেন। ফলে আমি আসমান
ও জমিনের মধ্যবর্তী সবকিছু যেন প্রত্যক্ষ করতে লাগলাম।
এরপর আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, হে
আমার রব! তারা ‘কাফফারা (গুনাহ মোচনের উপায়) এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে এমন আমলসমূহ নিয়ে
আলোচনা করছে।’ তিনি বললেন, ‘মর্যাদা বৃদ্ধি করে এমন কাজগুলো হলো, ‘ক্ষুধার্তকে আহার
করানো, মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষ ঘুমিয়ে থাকাকালে রাতে নামাজ
আদায় করা।’
আর কাফফারাস্বরূপ আমল হলো,
‘কষ্টসাধ্য হলেও উত্তমভাবে অজু করা, জামাতে নামাজ আদায়ের জন্য পায়ে হেঁটে মসজিদের
দিকে অগ্রসর হওয়া এবং নামাজ শেষে মসজিদে অবস্থান করা।’
এরপর তিনি বললেন, ‘হে মুহাম্মদ,
তুমি বলো, তোমার কথা শোনা হবে। তুমি প্রার্থনা করো, তোমাকে প্রদান করা হবে।’ আমি বললাম,
‘হে আমার রব! আমাকে শিক্ষা দিন।’
তখন তিনি বললেন, এভাবে বলো,
‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে সৎকর্ম সম্পাদনের তাওফিক চাই, মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকার
শক্তি চাই এবং দরিদ্রদের ভালোবাসার তাওফিক চাই। আমি আপনার কাছে আমার জন্য ক্ষমা ও দয়া
প্রার্থনা করি। আপনি যদি কোনো জাতিকে পরীক্ষায় নিপতিত করতে চান, তবে আমাকে সেই পরীক্ষায়
পতিত করার আগেই আপনার সান্নিধ্যে তুলে নিন।
এরপর আল্লাহ তাঁকে পাওয়ার সহজ
একটি দোয়া শিখিয়ে দেন। দোয়াটি হলো-
اللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ حُبَّكَ، وَحُبَّ مَنْ يُحِبُّكَ، وَعَمَلًا يُبَلِّغُنِي حُبَّكَ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা ইন্নি
আসআলুকা হুব্বাকা, ওয়া হুব্বা মান ইউহিব্বুকা, ওয়া আমালান ইউবাল্লিগুনি হুব্বাকা।
অর্থ : হে আল্লাহ! আমি আপনার
ভালোবাসা চাই, এবং যে আপনাকে ভালোবাসে, তার ভালোবাসা চাই। আর এমন আমল করার তৌফিক চাই,
যা আমাকে আপনার ভালোবাসায় পৌঁছে দেয়। (তিরমিজি, হাদিস নং : ৩২৩৫, মুসনাদে আহমাদ,
হাদিস নং : ২২১৬২)
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন