ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রীতি কবি


  ধ্রব ডেস্ক
ধ্রব ডেস্ক
প্রকাশ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রীতি কবি
আজ ১লা সেপ্টেম্বর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক ওসমানীর জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রীতি কবি ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক ওমায়ের আহমেদ শাওন। এ বিষয়ে তিনি সোশ্যাল প্লাটফর্মে একটি পোস্ট করেছেন। সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো- শুভ জন্মদিন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক। আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক সকল সেক্টর কমান্ডার প্রধান মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, যিনি জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী নামে অধিক পরিচিত। তিনি ১লা সেপ্টেম্বর ১৯১৮ সালে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে) থেকে অসাধারণ কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক পাস করেন। সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে তিনি প্রথম স্থান লাভ করেন৷ এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ব্রিটিশ সরকার এম. এ. জি. ওসমানীকে প্রাইওটোরিয়া পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করে। ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রথম সেনাপ্রধান (১৯৭১-১৯৭২) ছিলেন। তাছাড়াও ১৯৩৯-১৯৪৭ ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ১৯৪৭–১৯৬৭ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদ জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ★ প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ★ ৯/১৪ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ★ ইপিআর ★ প্রধান সেনাপতি মুক্তিবাহিনী (এপ্রিল ১৯৭১- এপ্রিল ১৯৭২) ১৯৭০ সালে কাগমারী আন্দোলনে যখন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী মাওলানা ভাসানী স্বাধীনতার ডাক দেন তখন ওসমানী উজ্জীবিত হয়েছিলেন। তখন থেকে বিশ্বাস করেছিলেন, এদেশ স্বাধীন হবে। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মাওলানা ভাসাণীর আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তারপর এক পর্যায়ে পাকিস্তানে গিয়ে কারাবরণ করেন। ততক্ষণে পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করতে দেশের আপামর জনগণের অংশগ্রহণে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আওয়ামীলীগের প্রায় ৬৫ জন উর্ধ্বতন নেতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করলে তিনি ১১ টি সেক্টরকে ঢেলে সাজান। এবং মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান এর বারংবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল জোরদার হলে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে ১লা মে ১৯৭৪ সালে তিনি সংসদ সদস্য, মন্ত্রিত্ব এবং আওয়ামী লীগ সদস্য পদ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২৯ আগস্ট ১৯৭৫ সালে মোশতাক আহমেদের অনুরোধে সে সময়কার মন্ত্রিসভায় তিনি অবৈতনিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আমাদের জাতির গর্ব জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। স্বাধীনতার এই মহানায়কের ১০৭ তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো। তাঁর রুহের মাগফেরাতের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


মুক্তিযুদ্ধের মহানায়কের জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রীতি কবি

প্রকাশের তারিখ : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

featured Image
আজ ১লা সেপ্টেম্বর। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক ওসমানীর জন্মদিন। তাঁর জন্মদিনে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রীতি কবি ও গণমাধ্যম বিশ্লেষক ওমায়ের আহমেদ শাওন। এ বিষয়ে তিনি সোশ্যাল প্লাটফর্মে একটি পোস্ট করেছেন। সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো- শুভ জন্মদিন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক। আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক সকল সেক্টর কমান্ডার প্রধান মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানী, যিনি জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী নামে অধিক পরিচিত। তিনি ১লা সেপ্টেম্বর ১৯১৮ সালে সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৩৪ সালে সিলেট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে) থেকে অসাধারণ কৃতিত্বের সাথে ম্যাট্রিক পাস করেন। সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে তিনি প্রথম স্থান লাভ করেন৷ এই অসাধারণ কৃতিত্বের জন্য ব্রিটিশ সরকার এম. এ. জি. ওসমানীকে প্রাইওটোরিয়া পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে সম্মানিত করে। ১৯৩৮ সালে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর প্রথম সেনাপ্রধান (১৯৭১-১৯৭২) ছিলেন। তাছাড়াও ১৯৩৯-১৯৪৭ ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনী ও ১৯৪৭–১৯৬৭ পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ পদ জেনারেল হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ★ প্রথম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ★ ৯/১৪ পাঞ্জাব রেজিমেন্ট ★ ইপিআর ★ প্রধান সেনাপতি মুক্তিবাহিনী (এপ্রিল ১৯৭১- এপ্রিল ১৯৭২) ১৯৭০ সালে কাগমারী আন্দোলনে যখন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী মাওলানা ভাসানী স্বাধীনতার ডাক দেন তখন ওসমানী উজ্জীবিত হয়েছিলেন। তখন থেকে বিশ্বাস করেছিলেন, এদেশ স্বাধীন হবে। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে মাওলানা ভাসাণীর আদর্শে উজ্জীবীত হয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। তারপর এক পর্যায়ে পাকিস্তানে গিয়ে কারাবরণ করেন। ততক্ষণে পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরোধ করতে দেশের আপামর জনগণের অংশগ্রহণে যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আওয়ামীলীগের প্রায় ৬৫ জন উর্ধ্বতন নেতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ না করে ভারতে আশ্রয় গ্রহণ করলে তিনি ১১ টি সেক্টরকে ঢেলে সাজান। এবং মুক্তিযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার শপথ নেন। ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমান এর বারংবার অনুরোধের প্রেক্ষিতে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তৎকালীন সিলেট-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ, অভ্যন্তরীণ নৌ যোগাযোগ, জাহাজ ও বিমান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের বাকশাল জোরদার হলে একদলীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিরোধিতা করে ১লা মে ১৯৭৪ সালে তিনি সংসদ সদস্য, মন্ত্রিত্ব এবং আওয়ামী লীগ সদস্য পদ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে ২৯ আগস্ট ১৯৭৫ সালে মোশতাক আহমেদের অনুরোধে সে সময়কার মন্ত্রিসভায় তিনি অবৈতনিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আমাদের জাতির গর্ব জেনারেল মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী। স্বাধীনতার এই মহানায়কের ১০৭ তম জন্মবার্ষিকীতে বিনম্র শ্রদ্ধা রইলো। তাঁর রুহের মাগফেরাতের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করছি।

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত