১৩ পাচারকারী আটক, মূলহোতাসহ সিন্ডিকেটের সন্ধান
সেন্টমার্টিন
দ্বীপ-এর উত্তর-পশ্চিম সংলগ্ন গভীর সমুদ্র এলাকায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এক বিশেষ
অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্যসহ ১৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
কোস্ট
গার্ড সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৭ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার ভোর ৪টার দিকে
অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এসময় সন্দেহজনক একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৫
লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের ৯০০ বস্তা সিমেন্ট উদ্ধার করা হয়, যা শুল্ক ফাঁকি দিয়ে মায়ানমার-এ
পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। একই সঙ্গে পাচার কাজে ব্যবহৃত বোট ও ১৩ জনকে আটক
করা হয়।
পরবর্তীতে
আটক বোট মাঝি চাঁন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকাল ৫টায় কোস্ট গার্ড ও র্যাব-১৫
(সিপিসি-২) এর যৌথ অভিযানে উখিয়া উপজেলার বালুখালী এলাকা থেকে পাচার সিন্ডিকেটের অন্যতম
মূলহোতা মোঃ আজিম উল্লাহ (৪০) কে গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা
গেছে, আজিম উল্লাহ বালুখালীর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী
এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পাচারের সঙ্গে জড়িত। তিনি মায়ানমারে অবস্থানকারী এক ব্যক্তির
মাধ্যমে চাহিদা সংগ্রহ করে চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ ও হাতিয়া এলাকার কিছু অসাধু বোট মালিকের
সহায়তায় এসব পণ্য পাচার করতেন। এসব পণ্য মায়ানমারের নিষিদ্ধ সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান
আর্মি’র কাছে পৌঁছে দেওয়া হতো।
প্রাথমিক
জিজ্ঞাসাবাদে আরও জানা যায়, এই পাচার কার্যক্রমের বিনিময়ে তিনি মাদকদ্রব্য, বিদেশি
সিগারেটসহ অন্যান্য অবৈধ পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করতেন। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কোটি
কোটি টাকার অবৈধ লেনদেনের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দীর্ঘদিনের
গোয়েন্দা নজরদারির পর এই সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে পাচার সিন্ডিকেটের মূলহোতাকে আটক
করা সম্ভব হয়েছে। সংশ্লিষ্ট চক্রের অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত
রয়েছে।
এ
ঘটনায় জব্দকৃত সিমেন্ট, বোট এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন
রয়েছে।
বাংলাদেশ
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত
থাকবে।
এএমএন/ধ্রুবকন্ঠ