পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে এর সঠিক প্রয়োগের লক্ষ্যে ‘এআই নেভিগেটর অটোমান’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অফিসের আয়োজনে এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘সেন্ড অ্যা লিটেল হোপ’-এর ‘এআই ফর অল’ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা কোডিং জ্ঞান ছাড়াই শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে শিক্ষা, গবেষণা ও দৈনন্দিন জীবনে এআই ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
সেমিনারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর। সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা বা প্রম্পট তৈরির মাধ্যমে এআই থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়ার কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি এআইয়ের নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার, প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব এবং এর ব্যবহারে সচেতনতার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্ট ও প্র্যাকটিক্যাল লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর প্রস্তুতির বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। কীনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ‘সেন্ড অ্যা লিটেল হোপ’-এর সিইও মুজাহিদুল ইসলাম।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, “পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। সব দিক থেকেই প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশ নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে আমরা পড়াশোনা, গবেষণা ও শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতে পারব এবং গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতে পারব। সারা বিশ্বে যত প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে, সবকিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়; তবে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে।”
কীনোট স্পিকার মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান বিশ্বের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এআই নেভিগেটরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পড়াশোনা, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজ আরও সহজ ও কার্যকর করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টিদের জন্যও ‘এআই কনফিডেন্স’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও দক্ষ মেন্টরদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো এআইকে ভয় না পেয়ে এর সঠিক ব্যবহার শেখা এবং পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়া।”
.png)
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ আগস্ট ২০২৬
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মক্ষেত্রে এর সঠিক প্রয়োগের লক্ষ্যে ‘এআই নেভিগেটর অটোমান’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কনভেনশন সেন্টারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অফিসের আয়োজনে এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘সেন্ড অ্যা লিটেল হোপ’-এর ‘এআই ফর অল’ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারের মূল উদ্দেশ্য ছিল কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা কোডিং জ্ঞান ছাড়াই শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে দক্ষ করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ উপযোগী ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করা। এতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে শিক্ষা, গবেষণা ও দৈনন্দিন জীবনে এআই ব্যবহারের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়।
সেমিনারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর। সঠিক ও কার্যকর নির্দেশনা বা প্রম্পট তৈরির মাধ্যমে এআই থেকে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাওয়ার কৌশল শেখানো হয়। পাশাপাশি এআইয়ের নৈতিক ও দায়িত্বশীল ব্যবহার, প্রযুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব এবং এর ব্যবহারে সচেতনতার বিষয়েও আলোচনা করা হয়।
শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবভিত্তিক প্রজেক্ট ও প্র্যাকটিক্যাল লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পরিবর্তনশীল কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর প্রস্তুতির বিষয়েও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান। কীনোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ‘সেন্ড অ্যা লিটেল হোপ’-এর সিইও মুজাহিদুল ইসলাম।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বলেন, “পৃথিবী এগিয়ে যাচ্ছে। সব দিক থেকেই প্রযুক্তি খাতে উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি দেশ নিজস্ব প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একটি বড় সুযোগ। এর মাধ্যমে আমরা পড়াশোনা, গবেষণা ও শিক্ষার বিভিন্ন বিষয় শেয়ার করতে পারব এবং গ্লোবাল সিটিজেন হিসেবে নিজেদের পরিচিত করতে পারব। সারা বিশ্বে যত প্রযুক্তি আবিষ্কার হচ্ছে, সবকিছুর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা সম্ভব নয়; তবে আমাদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে।”
কীনোট স্পিকার মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বর্তমান বিশ্বের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। এআই নেভিগেটরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের এআই ব্যবহারে দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পড়াশোনা, গবেষণা ও সৃজনশীল কাজ আরও সহজ ও কার্যকর করা সম্ভব।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষক ও ফ্যাকাল্টিদের জন্যও ‘এআই কনফিডেন্স’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রশিক্ষণ ও দক্ষ মেন্টরদের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা এআই ব্যবহার করে বিভিন্ন কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য হলো এআইকে ভয় না পেয়ে এর সঠিক ব্যবহার শেখা এবং পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়া।”
.png)
আপনার মতামত লিখুন