নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে হিট সাব-প্রজেক্ট ১৩০৮১ এর আওতায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
হিট সাব-প্রজেক্ট (পিন-১৩০৮১) প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. রাকেব-উল-ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদি মাহমুদুল হাসানসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও মৎস্যজীবীরা অংশ নেন।
সেমিনারে মা ইলিশ সংরক্ষণের গুরুত্ব, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনসচেতনতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
লিফলেটে বলা হয়, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। মা ইলিশকে ২২ দিন ডিম ছাড়ার সুযোগ দিয়ে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়। লিফলেটে আরও উল্লেখ করা হয়, আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
সেমিনারে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদি মাহমুদুল হাসান বলেন, “বাংলাদেশের জন্য টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মা ইলিশের সংরক্ষণ। আজকে যদি আমরা সব মা ইলিশ বা জাটকা ধরে ফেলি, তাহলে কালকের জন্য সেগুলো থাকবে না। মা ইলিশের যখন ডিম পাড়ার অবস্থা হয়, তখন আমরা যদি তাদের ধরে ফেলি, তাহলে ডিম থেকে বাচ্চা উৎপন্ন হবে না। ফলে টেকসই উন্নয়ন হবে না। টেকসই উন্নয়ন মানে হলো, খুব দ্রুত আজকের উন্নতি করতে গিয়ে যাতে পরের উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আবার একবারে কোনো মাছ না ধরলে ক্যারিং ক্যাপাসিটি জনিত সমস্যা সৃষ্টি হবে। নদী বা সমুদ্রের ক্যারিং ক্যাপাসিটি যদি পুরোপুরি মাছ দিয়ে ভরে যায়, তাহলে এদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। আর প্রতিযোগিতা বেড়ে গেলে এরা আর বড় হবে না এবং মারা যাবে। ফলে আমাদেরও আয় হবে না। এজন্য পরিবেশগতভাবে ভারসাম্য থাকার প্রয়োজন পড়ে।”
জেলেদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলেদের উন্নতি হলে দেশের উন্নতি হবে। বাংলাদেশে কৃষিবিজ্ঞানীরা কাজ করছেন বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে কৃষিবিপ্লব না হলে বিপুল জনগণ না খেয়ে থাকত। আর এই কৃষিবিপ্লব হওয়ার কারণে আমরা খেয়ে-পরে ভালো আছি।”
সেমিনারে নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ মা ইলিশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা এবং মা ইলিশ সংরক্ষণে মৎস্যজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. রাকেব-উল-ইসলাম দেশে ইলিশ এর উৎপাদন কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা করেন এবং অনলাইনে ইলিশ এর ডিম বিক্রি বন্ধ করা ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে ইলিশ আহরন বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
সেমিনারে অংশ নেওয়া মৎস্যজীবীরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার ক্ষেত্রে জেলেদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ সময় অভিযান চলাকালে প্রকৃত জেলেদের সবাইকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা এবং তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
.png)
শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৬ অক্টোবর ২০২৬
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) মা ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য ও সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের উদ্যোগে হিট সাব-প্রজেক্ট ১৩০৮১ এর আওতায় ‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
হিট সাব-প্রজেক্ট (পিন-১৩০৮১) প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. রাকেব-উল-ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদি মাহমুদুল হাসানসহ বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ও মৎস্যজীবীরা অংশ নেন।
সেমিনারে মা ইলিশ সংরক্ষণের গুরুত্ব, প্রজনন মৌসুমে ইলিশ আহরণ বন্ধ রাখা এবং ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে জনসচেতনতা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
লিফলেটে বলা হয়, ৮ থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ২২ দিন ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে সারা দেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। মা ইলিশকে ২২ দিন ডিম ছাড়ার সুযোগ দিয়ে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হয়। লিফলেটে আরও উল্লেখ করা হয়, আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, অনধিক পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
সেমিনারে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদি মাহমুদুল হাসান বলেন, “বাংলাদেশের জন্য টেকসই উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে মা ইলিশের সংরক্ষণ। আজকে যদি আমরা সব মা ইলিশ বা জাটকা ধরে ফেলি, তাহলে কালকের জন্য সেগুলো থাকবে না। মা ইলিশের যখন ডিম পাড়ার অবস্থা হয়, তখন আমরা যদি তাদের ধরে ফেলি, তাহলে ডিম থেকে বাচ্চা উৎপন্ন হবে না। ফলে টেকসই উন্নয়ন হবে না। টেকসই উন্নয়ন মানে হলো, খুব দ্রুত আজকের উন্নতি করতে গিয়ে যাতে পরের উন্নয়নের সুযোগ নষ্ট না হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আবার একবারে কোনো মাছ না ধরলে ক্যারিং ক্যাপাসিটি জনিত সমস্যা সৃষ্টি হবে। নদী বা সমুদ্রের ক্যারিং ক্যাপাসিটি যদি পুরোপুরি মাছ দিয়ে ভরে যায়, তাহলে এদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাবে। আর প্রতিযোগিতা বেড়ে গেলে এরা আর বড় হবে না এবং মারা যাবে। ফলে আমাদেরও আয় হবে না। এজন্য পরিবেশগতভাবে ভারসাম্য থাকার প্রয়োজন পড়ে।”
জেলেদের আর্থসামাজিক উন্নয়নের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “জেলেদের উন্নতি হলে দেশের উন্নতি হবে। বাংলাদেশে কৃষিবিজ্ঞানীরা কাজ করছেন বলেই দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে কৃষিবিপ্লব না হলে বিপুল জনগণ না খেয়ে থাকত। আর এই কৃষিবিপ্লব হওয়ার কারণে আমরা খেয়ে-পরে ভালো আছি।”
সেমিনারে নোয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ মা ইলিশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি ও প্রজনন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা, সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা এবং মা ইলিশ সংরক্ষণে মৎস্যজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. রাকেব-উল-ইসলাম দেশে ইলিশ এর উৎপাদন কমে যাওয়ার বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা করেন এবং অনলাইনে ইলিশ এর ডিম বিক্রি বন্ধ করা ও নিষিদ্ধ জাল দিয়ে ইলিশ আহরন বন্ধ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
সেমিনারে অংশ নেওয়া মৎস্যজীবীরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যা ও দাবির কথা তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার ক্ষেত্রে জেলেদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ সময় অভিযান চলাকালে প্রকৃত জেলেদের সবাইকে সরকারি প্রণোদনার আওতায় আনা এবং তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তাঁরা।
.png)
আপনার মতামত লিখুন