ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

জবির ছাত্রী হলে চুরি, দায়সারা বক্তব্য প্রশাসনের



জবির ছাত্রী হলে চুরি, দায়সারা বক্তব্য প্রশাসনের

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলে একটি কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া মালামাল। এদিকে, সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকলেও তা নিয়ে হল প্রশাসনের ভূমিকা এবং বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রত্যাশিত সহযোগিতা না দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী আফসানা মিমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর হলের ১৪০৩ নম্বর কক্ষ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ চুরি হয়। এর পরদিন ৮ অক্টোবর একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থী এশার আলমারি থেকে দুই হাজার টাকার বেশি খোয়া যায়। ঘটনার পর হল প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামালের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মিমি জানান, ৬ অক্টোবর রাতে ল্যাপটপটি ব্যাগে ভরে বিছানার মাথার কাছে রেখেছিলেন তিনি। পরদিন দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কক্ষে ছিলেন না। ওই সময়ের মধ্যেই ল্যাপটপটি চুরি হয়েছে বলে ধারণা তাঁর। ৮ অক্টোবর সকালে একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থীর টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনা জানার পর খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুরে ক্লাস থেকে ফিরে নিজের ব্যাগে ল্যাপটপটি পাননি তিনি। পরে পুরো ফ্লোরে খোঁজ করেও সেটির সন্ধান মেলেনি।

ঘটনার পর হল প্রভোস্ট ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বলে দাবি করেন মিমি। পরে তাঁদের জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরাই অচল। মিমি বলেন, “আমার ল্যাপটপ ও সহপাঠীর টাকা চুরি হওয়ার পর আমরা হল কর্তৃপক্ষের কাছে যাই। কিন্তু দুই-তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর তারা জানায়, ফ্লোরের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরাই নষ্ট। তারা দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একটা ফ্লোরে ৮০-৯০ জন মেয়ে থাকে। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে সিসিটিভি নষ্ট, অথচ তারা খেয়াল করেনি। হল কর্তৃপক্ষের এই অসাবধানতার কারণে আমার যে ক্ষতি হয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চাই।”

এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট আঞ্জুমান আরা আরটিভিকে বলেন, “দুই দিন আগে ইঁদুরে সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে ফেলায় সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। আর শিক্ষার্থী ঠিক কবে ল্যাপটপ হারিয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তাঁর বান্ধবীর টাকা খুঁজতে গিয়ে তিনি ল্যাপটপটি নেই বলে দেখতে পান।”

প্রভোস্ট আরও বলেন, “হলে ওঠার আগেই শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনো কিছু হারিয়ে গেলে এর দায়ভার হল প্রশাসন নেবে না। আমরা কয়েকবার ওই কক্ষের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এ ঘটনায় রোববার একটি সভা ডেকেছি। কক্ষে কে বা কারা আসা-যাওয়া করেন, তা তো আমাদের জানা থাকে না।”

হলের নিরাপত্তা জোরদারে প্রবেশপথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রভোস্ট বলেন, “এ ব্যবস্থা চালু করলে বাইরে থেকে অতিথি আনতে না পারার কারণে শিক্ষার্থীরা আবার আপত্তি তুলতে পারেন। আমরা চেষ্টা করছি, শিক্ষার্থী তাঁর টিউশনির কষ্টের টাকা দিয়ে কেনা ল্যাপটপটি খুঁজে বের করতে।”

উল্লেখ্য, চুরির ঘটনায় হলের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়মিত তদারকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায় হলের শিক্ষার্থীরা।

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬


জবির ছাত্রী হলে চুরি, দায়সারা বক্তব্য প্রশাসনের

প্রকাশের তারিখ : ১১ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) একমাত্র ছাত্রী হল নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী হলে একটি কক্ষ থেকে ল্যাপটপ ও নগদ টাকা চুরির অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও উদ্ধার হয়নি চুরি যাওয়া মালামাল। এদিকে, সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরা অচল থাকলেও তা নিয়ে হল প্রশাসনের ভূমিকা এবং বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী। তাঁদের অভিযোগ, ঘটনার পর প্রত্যাশিত সহযোগিতা না দিয়ে দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।

ভুক্তভোগী আফসানা মিমি বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, গত ৭ অক্টোবর হলের ১৪০৩ নম্বর কক্ষ থেকে প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি ল্যাপটপ চুরি হয়। এর পরদিন ৮ অক্টোবর একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থী এশার আলমারি থেকে দুই হাজার টাকার বেশি খোয়া যায়। ঘটনার পর হল প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামালের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

মিমি জানান, ৬ অক্টোবর রাতে ল্যাপটপটি ব্যাগে ভরে বিছানার মাথার কাছে রেখেছিলেন তিনি। পরদিন দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত কক্ষে ছিলেন না। ওই সময়ের মধ্যেই ল্যাপটপটি চুরি হয়েছে বলে ধারণা তাঁর। ৮ অক্টোবর সকালে একই কক্ষের আরেক শিক্ষার্থীর টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনা জানার পর খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে দুপুরে ক্লাস থেকে ফিরে নিজের ব্যাগে ল্যাপটপটি পাননি তিনি। পরে পুরো ফ্লোরে খোঁজ করেও সেটির সন্ধান মেলেনি।

ঘটনার পর হল প্রভোস্ট ও প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানাতে গেলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় বলে দাবি করেন মিমি। পরে তাঁদের জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট ফ্লোরের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরাই অচল। মিমি বলেন, “আমার ল্যাপটপ ও সহপাঠীর টাকা চুরি হওয়ার পর আমরা হল কর্তৃপক্ষের কাছে যাই। কিন্তু দুই-তিন ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর তারা জানায়, ফ্লোরের চারটি সিসিটিভি ক্যামেরাই নষ্ট। তারা দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। একটা ফ্লোরে ৮০-৯০ জন মেয়ে থাকে। সেখানে এক সপ্তাহ ধরে সিসিটিভি নষ্ট, অথচ তারা খেয়াল করেনি। হল কর্তৃপক্ষের এই অসাবধানতার কারণে আমার যে ক্ষতি হয়েছে, আমি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চাই।”

এ বিষয়ে হলের প্রভোস্ট আঞ্জুমান আরা আরটিভিকে বলেন, “দুই দিন আগে ইঁদুরে সিসিটিভি ক্যামেরার তার কেটে ফেলায় সেগুলো অচল হয়ে পড়ে। আর শিক্ষার্থী ঠিক কবে ল্যাপটপ হারিয়েছেন, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না। তাঁর বান্ধবীর টাকা খুঁজতে গিয়ে তিনি ল্যাপটপটি নেই বলে দেখতে পান।”

প্রভোস্ট আরও বলেন, “হলে ওঠার আগেই শিক্ষার্থীদের জানিয়ে দেওয়া হয়, কোনো কিছু হারিয়ে গেলে এর দায়ভার হল প্রশাসন নেবে না। আমরা কয়েকবার ওই কক্ষের শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। এ ঘটনায় রোববার একটি সভা ডেকেছি। কক্ষে কে বা কারা আসা-যাওয়া করেন, তা তো আমাদের জানা থাকে না।”

হলের নিরাপত্তা জোরদারে প্রবেশপথে ফিঙ্গারপ্রিন্ট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রভোস্ট বলেন, “এ ব্যবস্থা চালু করলে বাইরে থেকে অতিথি আনতে না পারার কারণে শিক্ষার্থীরা আবার আপত্তি তুলতে পারেন। আমরা চেষ্টা করছি, শিক্ষার্থী তাঁর টিউশনির কষ্টের টাকা দিয়ে কেনা ল্যাপটপটি খুঁজে বের করতে।”

উল্লেখ্য, চুরির ঘটনায় হলের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সিসিটিভি ক্যামেরার নিয়মিত তদারকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারে কার্যকর তদন্তের পাশাপাশি নিরাপত্তাব্যবস্থার ত্রুটি চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানায় হলের শিক্ষার্থীরা।


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত