ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলা



গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলা
ছবি: সংগৃহীত

আগের দিনের ঘটনার জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে হামলার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর, রাকসু ভবনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার পর বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পাঠরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন রাকসু জিএস আম্মারসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিকেল পৌনে ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক ছাত্রী। ওই ঘটনায় রাতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়।

বৈঠকে অভিযুক্তের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস, একই বিভাগের হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ওই ঘটনার জেরে আজ সোমবার দুপুরে প্রক্টর দপ্তরে আবারও বৈঠক বসে। বৈঠকে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ রাকসু শাখা শিবিরের কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখার পর প্রক্টর দপ্তরেই তাকে মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দিলে আনাসসহ অন্যরা সেখান থেকে চলে যান। 

এরপর বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে যান। রাকসুর দাবি, তারা সেখানে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিবকে মারধর করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, আহত নাজমুস সাকিব, শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, দপ্তর সম্পাদক মানাজির আহাসান, অর্থ সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী, সিনেট সদস্য ও শিবিরের ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি মোহাম্মদ ফাহিম রেজাসহ শিবির ও রাকসুর নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে নিয়ে যান। পরে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাঠকক্ষের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে তাদের মারধর করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় কাঠ, বাঁশ, রড, বেল্টসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করা হয়। বাধা দিতে গেলে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও অন্য শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’; ‘হাতে তালি শিবির, মুখে বলি  শিবির’; ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা এখানে (গ্রন্থাগার) পড়ছিলাম। হঠাৎ তারা অতর্কিতে সবাই রিডিং রুমে ঢুকে পড়ে। তারা যাকে পায়, তাকেই ছাত্রলীগ ট্যাগ দিতে থাকে।’

 

হেলাল উদ্দীন আরো বলেন, ‘অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দিকেও তারা হামলা করে। মতের পার্থক্য থাকলেই তাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। ছাত্রলীগ হলেও তাকে মেরে ফেলার অধিকার তো কারো নেই। বিচারের জন্য দেশে আইন রয়েছে।’ 

হামলার শিকার আনাস বলেন, ‘আজ (সোমবার) আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তারা আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাহউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে আমাকে মারা শুরু করে। তারপর আমাদের প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি করে। একপর্যায়ে আম্মার লোকজন নিয়ে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে। আমার শরীরে ২০০টিরও বেশি আঘাত করা হয়েছে।’

নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন দাবি করে আনাস  বলেন, ‘অতীতে আমার বন্ধুরা হয়তো ছাত্রলীগ করত, তাই কোনো এক জায়গায় তাদের সঙ্গে আমার ছবি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের কোনো ব্যানার-ফেস্টুনে আমার ছবি নেই।’

তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখানে শিবিরের কেউ ছিল না। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর শুনে দ্রুত এখানে আসি। এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।’

হামলার ভিডিও ফুটেজে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি মেহেদী।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু তারা কিছুই করেননি। আমাদের ওপর হামলার পর বাধ্য হয়ে আমাদের এখানে আসতে হয়েছে।’

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলার নিন্দা জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘যে নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঝামেলা শুরু, আমরা জেনেছি তাকে শিবিরের এক নেতা পছন্দ করতেন। এ কারণে একটি নারীঘটিত বিষয়কে গোপনে সমাধান না করে শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।’ 

রাহী বলেন আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের পবিত্র জায়গা লাইব্রেরিতে শিবিরের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে হামলা চালিয়েছে, তাদের ছাত্র সংসদের পদ ও ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।’

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


বিষয় : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ছাত্রশিবির গ্রন্থাগার

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬


গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রশিবিরের হামলা

প্রকাশের তারিখ : ২৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

আগের দিনের ঘটনার জেরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) ভবনে হামলার পর কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে অন্তত তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।

ঘটনার শিকার শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর, রাকসু ভবনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর হামলার পর বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে পাঠরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেন রাকসু জিএস আম্মারসহ শিবিরের নেতাকর্মীরা। বিকেল পৌনে ৬টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, রবিবার (২৬ জুলাই) প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সংস্কৃত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেন একই বিভাগের এক ছাত্রী। ওই ঘটনায় রাতে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়।

বৈঠকে অভিযুক্তের সঙ্গে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আনাস, একই বিভাগের হাসিব, সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এদিকে, ওই ঘটনার জেরে আজ সোমবার দুপুরে প্রক্টর দপ্তরে আবারও বৈঠক বসে। বৈঠকে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস এস এম সালমান সাব্বিরসহ রাকসু শাখা শিবিরের কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগ রয়েছে, তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখার পর প্রক্টর দপ্তরেই তাকে মারধর করা হয়। পরে প্রক্টর বিষয়টির সাময়িক সমাধান করে দিলে আনাসসহ অন্যরা সেখান থেকে চলে যান। 

এরপর বিকেল ৩টার দিকে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজন রাকসু ভবনে যান। রাকসুর দাবি, তারা সেখানে অতর্কিতে হামলা চালিয়ে তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বি এম নাজমুস সাকিবকে মারধর করেন। পরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নেন।

এর কিছুক্ষণ পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার, এজিএস সালমান সাব্বির, বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর, সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সিফাত আবু সালেহ, আহত নাজমুস সাকিব, শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মেহেদী সজীব, দপ্তর সম্পাদক মানাজির আহাসান, অর্থ সম্পাদক শামীম পাটোয়ারী, সিনেট সদস্য ও শিবিরের ক্যাম্পাস মনিটরিং কো-অর্ডিনেটর ফজলে রাব্বি মোহাম্মদ ফাহিম রেজাসহ শিবির ও রাকসুর নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষে নিয়ে যান। পরে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাঠকক্ষের ফটক দিয়ে ভেতরে ঢুকে তাদের মারধর করেন। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হামলার সময় কাঠ, বাঁশ, রড, বেল্টসহ বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করা হয়। বাধা দিতে গেলে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত কয়েকজন শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, পুলিশ ও অন্য শিক্ষার্থীরা আহতদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত মাহমুদুল হাসানকে অ্যাম্বুল্যান্সে তোলার সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ ও প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পর রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবার’; ‘হাতে তালি শিবির, মুখে বলি  শিবির’; ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। পরে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচার দাবিতে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন তারা।

হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে পাঠকক্ষে অধ্যয়নরত পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘আমরা এখানে (গ্রন্থাগার) পড়ছিলাম। হঠাৎ তারা অতর্কিতে সবাই রিডিং রুমে ঢুকে পড়ে। তারা যাকে পায়, তাকেই ছাত্রলীগ ট্যাগ দিতে থাকে।’

 

হেলাল উদ্দীন আরো বলেন, ‘অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের দিকেও তারা হামলা করে। মতের পার্থক্য থাকলেই তাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে মেরে ফেলতে চাচ্ছে। ছাত্রলীগ হলেও তাকে মেরে ফেলার অধিকার তো কারো নেই। বিচারের জন্য দেশে আইন রয়েছে।’ 

হামলার শিকার আনাস বলেন, ‘আজ (সোমবার) আমাদের প্রক্টর অফিসে ডাকা হয়। সেখানে তারা আমাকে ছাত্রলীগ ট্যাগ দেয়। সালাহউদ্দিন আম্মার লোকজন নিয়ে আমাকে মারা শুরু করে। তারপর আমাদের প্রক্টর অফিস থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তারপর আমরা সেখান থেকে লাইব্রেরিতে চলে আসি। এরপর অন্য কেউ হয়তো রাকসুর সামনে তাদের সঙ্গে হাতাহাতি করে। একপর্যায়ে আম্মার লোকজন নিয়ে লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে আমাকে মারধর করে। আমার শরীরে ২০০টিরও বেশি আঘাত করা হয়েছে।’

নিজেকে ছাত্রলীগের সাবেক কর্মী নন দাবি করে আনাস  বলেন, ‘অতীতে আমার বন্ধুরা হয়তো ছাত্রলীগ করত, তাই কোনো এক জায়গায় তাদের সঙ্গে আমার ছবি রয়েছে। তবে ছাত্রলীগের কোনো ব্যানার-ফেস্টুনে আমার ছবি নেই।’

তবে হামলার ঘটনায় ছাত্রশিবিরের জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ‘এখানে শিবিরের কেউ ছিল না। আমরা আমাদের ভাই রাকসু নেতাদের ওপর হামলার খবর শুনে দ্রুত এখানে আসি। এসে এই পরিস্থিতি দেখতে পাই।’

হামলার ভিডিও ফুটেজে শিবিরের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে কোনো মন্তব্য করেননি মেহেদী।

রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘আমাদের রাকসু ভবনে গিয়ে মারধর করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। প্রশাসনকে আমরা ছাত্রলীগের ওই নেতাকে পুলিশের হাতে দেওয়ার আহ্বান জানাই। কিন্তু তারা কিছুই করেননি। আমাদের ওপর হামলার পর বাধ্য হয়ে আমাদের এখানে আসতে হয়েছে।’

এদিকে, শিক্ষার্থীদের ওপর শিবিরের হামলার নিন্দা জানিয়ে শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘যে নারী শিক্ষার্থীকে নিয়ে ঝামেলা শুরু, আমরা জেনেছি তাকে শিবিরের এক নেতা পছন্দ করতেন। এ কারণে একটি নারীঘটিত বিষয়কে গোপনে সমাধান না করে শিবিরের সন্ত্রাসী বাহিনী বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়েছে।’ 

রাহী বলেন আরো বলেন, ‘আমরা আমাদের পবিত্র জায়গা লাইব্রেরিতে শিবিরের এ হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে হামলা চালিয়েছে, তাদের ছাত্র সংসদের পদ ও ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।’

এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



এনএম/ধ্রুবকন্ঠ



ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত