ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

স্কুল মাঠ দখল করে পাঠদানে ব্যাহত সিএনজি-অটোরিকশার স্ট্যান্ড

বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে একপাশে সিএনজি ও অটোরিকশার স্ট্যান্ড। অন্য পাশে রাখা হয়েছে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী। এভাবে স্কুল মাঠ দখল রাখায় গত কয়েক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে বিদ্যালয়ের কুচকাওয়াজ, খেলাধুলা ও জাতীয় সংগীত। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের মাঠের ওপর দিয়ে অনবরত সিএনজি-অটোরিকশা চলাচল করায় শব্দ দূষণে ব্যাহত হচ্ছে শ্রেণিকক্ষের পাঠদান। এ নিয়ে ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষক ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী ও ১১ জন শিক্ষক রয়েছেন। গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ মাঠটি অবৈধ সিএনজি ও অটোরিকশা স্ট্যান্ড, ভ্রাম্যমাণ হকারদের দোকানপাটে দখল হওয়ায় বন্ধ রয়েছে সহপাঠ শিক্ষাকার্যক্রম। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের ভবন ঘেঁষে বাজার হওয়ায় প্রতিদিন সকাল থেকেই বিদ্যালয়ের সামনে সৃষ্টি হয় তীব্র যানজট। যানবাহনের হর্ন, ভিড় এবং বাজারের কোলাহলে শ্রেণিকক্ষের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহনূর মরিয়ম বলেন, স্কুলের মাঠের এক পাশে বালু, রড ও পাথর। অন্য পাশে সিএনজি অটোরিকশার স্ট্যান্ড হওয়ায় আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। কুচকাওয়াজ ও জাতীয় সংগীত বন্ধ রয়েছে। আমাদের শ্রেণিকক্ষের অন্য প্রান্তে টয়লেট হওয়ায় আমরা সিএনজি-অটোরিকশার কারণে টয়লেটে যেতে বাধাগ্রস্ত হই। যানবাহনের শব্দ, হর্ন বাজানোর কারণে পড়ালেখা করতে পারি না।বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খায়রুল ইসলাম সরকার ও লাইলী আক্তার বলেন, স্কুলের মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে দখলে রয়েছে। সকালে বাচ্চাদের শারীরিক শিক্ষা ও সহপাঠ কার্যক্রম করানো যাচ্ছে না। এখন আবার নতুন করে মাঠে নির্মাণ সামগ্রী রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মাঠের ওপর দিয়ে দ্রুতগতিতে যানবাহন চলাচল করায় এরই মধ্যে কয়েকজন শিক্ষার্থী সিএনজি-অটোরিকশার ধাক্কায় গুরুতর আহত হয়েছে। আমরা চালকদের মাঠে যানবাহন রাখতে নিষেধ করলেও তারা শোনে না। আমরা দূর থেকে আসি, এজন্য ভয়ে কিছু বলি না।বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি সৈয়দ খলিলুর রহমান বাবুল বলেন, এটি একটি প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের সামনে মাত্র পাঁচ ফুট দূরেই সারিবদ্ধ করে সিএনজি-অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকে। শিক্ষার্থীরা যে রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে ঢোকার কথা, সেই পথটুকুও আর অবশিষ্ট নেই।  বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে রাখা অটো রিকশাচালক জসিম উদ্দিন বলেন, স্কুলের মাঠে অটোরিকশা রাখা ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমাদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থান নেই, তাই মাঠে রাখি।বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম মুন্সী বলেন, গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ের মাঠের পুরো অংশ দখল হয়ে আছে। আগে একটু জায়গা ফাঁকা ছিল। এখন সেখানে আবার নির্মাণ সামগ্রী বালু, পাথর, ইট ও অন্যান্য সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। বর্তমানে অ্যাসেম্বলি বন্ধ রয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যালয়ে সকালবেলার কুচকাওয়াজ, শারীরিক প্রশিক্ষণ, জাতীয় সংগীত উপস্থাপন এবং বিভিন্ন বয়স-ভিত্তিক খেলাধুলার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে আছে। চালকদের বারবার বললেও তারা কোনো কথা শুনছেন না।দেবিদ্বার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, বিদ্যালয়ের মাঠ দখল করে সিএনজি-অটো স্ট্যান্ড গড়ে উঠেছে, এটি একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি একটা স্থায়ী সমাধান করে দিবেন।   এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

স্কুল মাঠ দখল করে পাঠদানে ব্যাহত সিএনজি-অটোরিকশার স্ট্যান্ড