নবদম্পতির ঘরে মাদক পাঠিয়ে পুলিশ ডাকলেন সাবেক প্রেমিক
জম্মু ও কাশ্মীরের গান্দেরবাল জেলায় এক
নববিবাহিত পোলট্রি খামারির বাড়িতে মাদকের পার্সেল পাঠিয়ে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টার
অভিযোগে তার স্ত্রীর প্রাক্তন প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মাদক পাচারের
বিরুদ্ধে পুলিশের সাম্প্রতিক কড়া পদক্ষেপের মাঝেই এই চাঞ্চল্যকর ষড়যন্ত্রের কথা
প্রকাশ্যে আসে।চলতি মাসের শুরুতে পুলিশের কাছে গোপন সূত্রে খবর
আসে যে, গান্দেরবাল জেলায় মাদকের একটি বড় চালান পাঠানো হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে
পোস্ট অফিস থেকে একটি পার্সেল আটক করে পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে
পার্সেলটি খোলা হলে তার ভেতর থেকে ৪ কিলোগ্রাম কোকেন, ৮০ গ্রাম গাঁজা এবং কিছু
সাইকোট্রপিক ড্রাগ উদ্ধার করা হয়। পার্সেলটি প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার দূরে
উত্তরপ্রদেশের কানপুর থেকে কুরিয়ার করা হয়েছিল।এরপর পুলিশ পার্সেলের উদ্দিষ্ট প্রাপক ওই খামারির
বাড়িতে পৌঁছায়। খামারি পুলিশকে জানান, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ করা এক
ব্যক্তি তাকে পোলট্রি ফিডের নমুনা পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তাই তিনি সেই
পার্সেলেরই অপেক্ষা করছিলেন। পার্সেলের ভেতরে থাকা মাদক সম্পর্কে তার বিন্দুমাত্র
ধারণা ছিল না। তবে তিনি পুলিশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, চলতি
বছরের শুরুতে সৌদি আরবের একটি ফোন নম্বর থেকে তাকে কল করে বর্তমান স্ত্রীর সাথে
বিয়ের ব্যাপারে নিষেধ করা হয়েছিল।এই তথ্যের সূত্র ধরে তদন্তের মোড় ঘুরে যায়।
পুলিশ ওই খামারির স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং শ্রীনগরের জয়নাকোট এলাকার বাসিন্দা
তারিক আহমেদ সোফি নামে এক ব্যক্তির সন্ধান পায়। পুলিশ জানতে পারে, সোফি ওই নারীর
প্রাক্তন প্রেমিক এবং সে-ই খামারিকে মাদক মামলায় ফাঁসানোর এই ছক কষেছিল। গত ৯
আগস্ট সোফিকে এনডিপিএস আইনের আওতায় গ্রেপ্তার করা হয়।জেরায় সোফি স্বীকার করেছে যে, কানপুরের বাসিন্দা
ও বর্তমানে সৌদি আরবে বসবাসকারী তার বন্ধু আরীবকে দিয়ে সে এই পার্সেলটি পাঠিয়েছিল।
খুব সতর্কতার সাথে সে সরাসরি পুলিশকে খবর না দিয়ে অন্য লোক মারফত পার্সেলটির
ব্যাপারে পুলিশকে তথ্য দিয়েছিল। পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে আরীব কীভাবে এই বিপুল
পরিমাণ মাদক সংগ্রহ করেছিল এবং এই ষড়যন্ত্র বা পার্সেলের ভেতরের মাদক সম্পর্কে সে
আদৌ অবগত ছিল কি না।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ