ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

সাধু-সন্ন্যাসী ও বাউলদের পদচারণায় মুখর মহাস্থানগড়

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়ে শুরু হয়েছে জমজমাট বৈশাখী মেলা। বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২০২৬) হযরত শাহ সুলতান বলখী (র.)-এর মাজার প্রাঙ্গণকে ঘিরে বসা এই মেলায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সাধু-সন্ন্যাসী, বাউল, ফকির ও হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে প্রাচীন পুন্ড্রনগর।মেলায় ঘুরে দেখা গেছে, মাজারসংলগ্ন এলাকায় বাউল ও ফকিরেরা দলবেঁধে গান পরিবেশন করছেন। মারফতি, জারি, সারি ও মুর্শিদি গানের সুরে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের আবহাওয়া। অনেক সাধু-সন্ন্যাসী অস্থায়ী আস্তানা গেড়ে কয়েকদিন ধরে এখানে অবস্থান করছেন।স্থানীয় ঐতিহ্য অনুসারে, বহু বছর ধরে বৈশাখের শেষ বৃহস্পতিবার এই মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কথিত আছে, ফকির মজনু শাহ মহাস্থানগড়ের এই মাজারকে কেন্দ্র করেই ইংরেজদের বিরুদ্ধে ফকির বিদ্রোহ পরিচালনা করেছিলেন। সেই বিদ্রোহের স্মৃতিকে ধরে রাখতেই প্রতি বছর এই বৈশাখী উৎসব পালিত হয়। এ কারণে দেশ-বিদেশ থেকে (ভারতসহ) প্রচুর সাধু-সন্ন্যাসী ও ফকির এখানে সমবেত হন।নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা ফকির হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, “গুরুর ভক্তি ও আধ্যাত্মিক সাধনার টানে আমরা দলবেঁধে এসেছি। এখানকার পরিবেশ খুবই আধ্যাত্মিক।”মেলায় শুধু আধ্যাত্মিকতাই নয়, বাণিজ্যও জমে উঠেছে। খেলনা, মাটির তৈজসপত্র, মিষ্টান্ন, গৃহস্থালি পণ্য ও লোকজ সামগ্রীর দোকানে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে কটকটির ব্যবসা এ সময় বেশ জমজমাট হয়। স্থানীয় কটকটি ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, “এই সময়ে একদিনেই কয়েক কোটি টাকার কটকটি বিক্রি হয়। বছরের অন্য সময়ের চেয়ে এখন ব্যবসা অনেক ভালো।”শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান জানান, মেলায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পাঁচ শতাধিক পুলিশ সদস্য সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাদা পোশাকেও নজরদারি চলছে।   এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

সাধু-সন্ন্যাসী ও বাউলদের পদচারণায় মুখর মহাস্থানগড়