ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও কল্যাণের অঙ্গীকার বিএনপির

মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব এবং গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রকে রক্ষা ও সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে সেই ধারাবাহিকতার সর্বশেষ অধ্যায় উল্লেখ করে শহীদ ও আহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, কল্যাণ এবং পুনর্বাসনে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি।আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ঢাকার সোনারগাঁও হোটেলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ঘোষিত বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৬-এ এসব অঙ্গীকার তুলে ধরা হয়।ইশতেহারে বলা হয়, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৭৫ সালের সিপাহী-জনতার বিপ্লব ও ১৯৯০ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সেই রক্তার্জিত স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে রক্ষার ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান।ইশতেহারে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের তালিকা প্রণয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নিবিড় জরিপের মাধ্যমে প্রকৃত শহীদদের তালিকা চূড়ান্ত করে তাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও স্বীকৃতি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।  একই সঙ্গে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণে নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন এবং মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।ভাতা ব্যবস্থাপনাকে দুর্নীতি ও ত্রুটিমুক্ত করারও অঙ্গীকার করা হয়। বিএনপি দাবি করে, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস বিকৃত করেছে। এ অবস্থায় শিক্ষা কারিকুলামে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।এ ছাড়া আগ্রহী ও প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করা এবং মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় যোগ্য ও দক্ষ মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বধ্যভূমি ও গণকবর চিহ্নিত করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও সংরক্ষণের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়।জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের তালিকা প্রণয়ন করে নিজ নিজ এলাকায় তাদের নামে সরকারি স্থাপনার নামকরণ, শহীদ পরিবারকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বিএনপি। পাশাপাশি আন্দোলনে আহত ও পঙ্গু হওয়া ব্যক্তিদের সুচিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়।ইশতেহারে আরও বলা হয়, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের কল্যাণে একটি পৃথক বিভাগ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এই বিভাগ শহীদ ও আহতদের মামলার দ্রুত বিচার, সম্মানজনক জীবিকা এবং তাদের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নেবে।এরই সঙ্গে যোগ্যতা অনুযায়ী শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও করা হবে।  এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও কল্যাণের অঙ্গীকার বিএনপির