ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল: বকশিশ বন্ধের প্রতিবাদে ট্রলিচালকদের বিক্ষোভ

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রোগীদের ট্রলি ঠেলার বিনিময়ে স্বজনদের কাছ থেকে বকশিশ বা টাকা নেওয়া বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ শনিবার হাসপাতালের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সেখানে কর্মরত স্বেচ্ছাসেবীরা।গতকাল শনিবার (০৮ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের কক্ষের সামনে ৩০-৩৫ জন স্বেচ্ছাসেবী এই কর্মসূচিতে অংশ নেন। প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী চলা এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে তাঁরা রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া অথবা তাঁদের জন্য নির্দিষ্ট ভাতার ব্যবস্থা করার দাবি জানান।হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি এই হাসপাতালে জনবল সংকটের কারণে দীর্ঘ দিন ধরে প্রায় ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবী কোনো বেতন ছাড়াই রোগীদের এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে আনা-নেওয়ার কাজ করে আসছিলেন। বিনিময়ে রোগীর স্বজনরা খুশি হয়ে তাঁদের ৫০ থেকে ১০০ টাকা করে বকশিশ দিতেন, যা দিয়ে তাঁদের সংসার চলত। তবে আজ সকালে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়েত নির্দেশ দেন যে, এখন থেকে ট্রলি ঠেলার বিনিময়ে কোনো টাকা নেওয়া যাবে না।অবস্থান কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া স্বেচ্ছাসেবী মফিজুল হক সাগর বলেন, “আমরা দীর্ঘ দিন ধরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়াই রোগীদের সেবা দিয়ে আসছি। রোগীর স্বজনরা ভালোবেসে যা দেন, তা দিয়েই আমাদের জীবন চলে। এখন যদি টাকা নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়, তবে আমরা চলব কী করে? আমাদের দাবি—হয় আগের মতো বকশিশ নিতে দেওয়া হোক, নয়তো হাসপাতালের পক্ষ থেকে ভাতার ব্যবস্থা করা হোক।”বেলা ১২টার দিকে কর্মসূচি শেষ করে স্বেচ্ছাসেবীরা পুনরায় কাজে ফিরে যান। তবে বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন সাফায়েত বলেন, “হাসপাতালে সেবার মান নিশ্চিত করতে আমরা রোগীদের কাছ থেকে কোনো প্রকার টাকা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে এটিও সত্য যে, হাসপাতালে যে পরিমাণ সাপোর্টিং স্টাফ প্রয়োজন, তা বর্তমানে নেই। আমরা এই সংকট নিরসনে এবং সামগ্রিক সমস্যার স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করছি।”  এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল: বকশিশ বন্ধের প্রতিবাদে ট্রলিচালকদের বিক্ষোভ