পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপপ্রচারের অভিযোগ
পানিসম্পদ
প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের একটি ফেক ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট
দল-মতের লোকদের ফেসবুক পেজ ও ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে এই ফেক ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে
বলে অভিযোগ। শুধুমাত্র দু-একটি স্থির ছবি দিয়ে ভিডিও তৈরি করে এ প্রচারণা
শুরু করা হয়েছে।বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন,
সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের নৈতিক
স্খলনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় এবার তার পাল্টা হিসেবে ফরহাদ হোসেন আজাদকে টার্গেট
করা হয়েছে। গত ২০ জুলাই ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী
নজরুল ইসলামকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতে এরই মধ্যে তাকে দল থেকে
বহিষ্কার করা হয়।বিএনপি
নেতাকর্মীরা বলছেন, ওই ঘটনায় ইমেজ সংকটে পড়া জামায়াতের নেতা-কর্মীরা এবার বিএনপির নেতা
ফরহাদ হোসেন আজাদকে টার্গেট করেছেন। আজাদের বিরুদ্ধে প্রচারিত ভিডিওতে একজন নারীর ছবি
দেখা গেলেও তার মুখমণ্ডল দেখা যায় না। স্থানীয় ফ্যাক্ট চেকের মাধ্যমেও ওই ভিডিওর সত্যতা
পাওয়া যায়নি।পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতা ইসমাইল
হোসেন বলেন, ফরহাদ হোসেন আজাদ ছাত্রদলের সোনালী অতীত। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতার
রাজনীতিকে কলঙ্কিত করতেই একটি চিহ্নিত মহল উঠেপড়ে লেগেছে।এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন
আজাদ বলেন,’রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত অপপ্রচার
চালানো হচ্ছে। এগুলো মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। কয়দিন আগে জামায়াতকে নিয়ে আমি বক্তব্য
দিয়েছিলাম। এই জন্য ওরা এ ধরনের নোরাংমি শুরু করেছে।‘তিনি আরও বলেন, ‘ছবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে
আমার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে এ ধরনের অপপ্রচার।‘ভাইরাল পোস্টে ব্যবহৃত ছবিটি পর্যালোচনা
করে দেখা যায়, এটি একটি কোলাজধর্মী ছবি। এতে একটি আপত্তিকর দৃশ্যের সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর
পৃথক একটি প্রতিকৃতি সংযুক্ত করা হয়েছে। ছবিটির বিভিন্ন অংশে আলো-ছায়া, মুখাবয়ব, শরীরের
অনুপাত এবং ডিজিটাল সম্পাদনার কিছু অসামঞ্জস্য লক্ষ্য করা যায়। তবে কেবল দৃশ্যগত বিশ্লেষণের
ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ ধরনের ছবি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)
বা উন্নত সম্পাদনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা সম্ভব বলে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা
উল্লেখ করছেন।সম্প্রতি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব,
জনপ্রতিনিধি এবং জনপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ফেক ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা
বিশ্বব্যাপী উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে
বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং জনমত প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের ডিজিটাল কারসাজি ক্রমশ
বাড়ছে।তথ্য-প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের পরামর্শ,
কোনো ভাইরাল ছবি বা ভিডিওকে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের
বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং প্রয়োজন হলে ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণের
মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করা উচিত। যাচাইহীন তথ্য প্রচার ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয়
প্রতিষ্ঠান সব ক্ষেত্রেই নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ