ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বাংলাদেশে কেউ নেতা হলে ৫ বছরে তার সম্পদ ৫০০ গুণ বেড়ে যায়

এ দেশে কেউ নেতা হলে ৫ বছরে তার সম্পদ পাঁচশ গুণ বেড়ে যায় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইসলামী জোট ক্ষমতায় এলে মা-বোনেরা রাস্তায় চলবে, শুধু আল্লাহকে ভয় করে। যারা রাস্তাঘাটে মা-বোনকে সম্মান করে না, আমরা ধরে নেব তারা নিজেদের মা-বাবাকেও সম্মান করে না।’জামায়াতে আমির বলেছেন, ‘দুর্নীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাব। দেশের দুর্নীতিবাজদের হাত মুড়িয়ে ব্যান্ডেজ করে অকার্যকর করে দেব। এ দেশে কেউ নেতা হলে পাঁচ বছরে তার সম্পদ পাঁচশ গুণ বেড়ে যায়–এই নীতি আমরা পরিবর্তন করব।’আজ সোমবার সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ শহরের ওয়াজির আলী স্কুল মাঠে ১০ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা কোনো জেলাকে প্রেসিডেন্টের জেলা, প্রধানমন্ত্রীর জেলা বা মন্ত্রীর জেলা হিসেবে দেখতে চাই না। আমাদের কাছে দেশের সব জেলা সমান গুরুত্ব পাবে। সব জেলায় সমান উন্নয়ন করা হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ গড়ে তুলব। এমন ব্যবস্থা করব, যাতে ডাক্তাররা মফস্বল এলাকায় থাকতে উৎসাহিত হন এবং মানুষ সেখানেই চিকিৎসাসেবা পায়।’ ঝিনাইদহের ঐতিহাসিক ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ঝিনাইদহের মাটি শহীদদের রক্তে রঞ্জিত। ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে এখানকার বহু মা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, বহু সন্তান হারিয়েছে তাদের বাবাকে। আমরা তাদের সেই ত্যাগের প্রতিশ্রুতি নিয়েই এসেছি।’শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো দলের বিজয় চাই না, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। আমাদের নেতাকর্মীরা হাসিমুখে ফাঁসির দড়ি গলায় পরেছে। আমরা সেই ত্যাগ বৃথা যেতে দেব না। আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়নি, এই সংগ্রাম চলবে।’অবকাঠামো উন্নয়নের অভাবের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, ‘ঝিনাইদহ থেকে যশোর যেতে হলে ভালো মানুষও অর্ধমৃত হয়ে যায়। রাষ্ট্রীয় তহবিলের টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার কারণে এসব উন্নয়ন হয়নি।’চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঝিনাইদহেও আগের তুলনায় চাঁদার পরিমাণ বেড়েছে। মনে রাখবেন, ভিক্ষা করা হারাম নয়, কিন্তু চাঁদাবাজি হারাম। এই চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হলে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিতে হবে।’ তিনি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার পাশাপাশি গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।বক্তব্য শেষে তিনি ঝিনাইদহের চারটি আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক তুলে দেন এবং তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের আমির আলী আজম মুহাম্মদ আবু বকরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের ১০ দলীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিচালক মোবারক হোসাইন, জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা এবং ১০ দলীয় জোট ও জামায়াতের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।সভা পরিচালনা করেন ঝিনাইদহ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল আউয়াল।জনসভায় যোগ দিতে দুপুর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে জামায়াত ও জোটের নেতাকর্মীরা ওয়াজির আলী স্কুল মাঠে জড়ো হন।এদিকে, রোববার রাত থেকে সভাস্থলে পুলিশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সোমবার পুলিশের পাশাপাশি জামায়াতের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দলও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।   এমএইছ/ধ্রুবকন্ঠ

বাংলাদেশে কেউ নেতা হলে ৫ বছরে তার সম্পদ ৫০০ গুণ বেড়ে যায়