ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

নকল আর হবে না, ঠিকমতো লেখাপড়া করতে হবে: সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী



নকল আর হবে না, ঠিকমতো লেখাপড়া করতে হবে: সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে নকলের সংস্কৃতি পরিহার করে সবাইকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী চাঁদপুর- (কচুয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘নকল আর হবে না, ঠিকমতো লেখাপড়া করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর- (কচুয়া) উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক এই শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি জাতির অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো শিক্ষা। শিক্ষার পরিবেশ যদি নকল, অনিয়ম অসততার মাধ্যমে কলুষিত হয়, তাহলে সেই জাতি কখনও টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না।’ 

এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হলে নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। নকলের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ফলাফল অর্জন করা গেলেও তা ভবিষ্যৎ জীবনে কোনও কাজে আসে না।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক, শিক্ষক প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর- আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন এহছানুল হক মিলন। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। এই সময় তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনরাবৃত্তি করেন। 

তিনি আরও বলেন, আমি চাই কচুয়ার শিক্ষার্থীরা শুধু জেলায় নয়, জাতীয় পর্যায়েও সুনাম অর্জন করুক। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এহছানুল হক মিলন তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘জনগণের আস্থা ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করাই হবে তার প্রধান দায়িত্ব’।

কেনো বর্তমানে এহছানুল হক মিলনকে সবাই ভয় পাচ্ছে?

সময়টা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দিকে, যখন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন এহসানুল হক মিলন ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত কঠোর ও কঠোর নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। যার ফলে শিক্ষার্থীরা তাকে ভয় পেত। তিনি নিজ উদ্যোগে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পরীক্ষা কেন্দ্রে হানা দিয়ে নকল ধরতেন। পরীক্ষার হলে নকলের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান নীতি ছিল, ফলে নকলবাজদের বড় শাস্তির মুখোমুখি হতে হতো, যা তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ তৈরি করেছিল। হঠাৎ করে তার হেলিকপ্টার নামত, যার কারনে নকলবাজদের পালানোর সুযোগ থাকত না।

ছবিঃ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পরীক্ষা কেন্দ্রে হানা।

তিনি নিজে পরিক্ষার হলে এসে নকল খুঁজতেন এবং নকল পেলে সাথে সাথে কঠোর ব্যবস্থা নিতেন। এতে নকলবাজদের মধ্যে আতঙ্ক ছরিয়ে পড়ত। তখন প্রশ্ন ফাঁস শূনোতে নেমে এসেছিল। তার সময়ে পাসের হার কম ছিল, তবে যারা পাস করত তারা ছিল সুশিক্ষিত।

তার এই কার্যক্রমের কারনে তখন এসএসসি এবং এইছএসসিতে পাসের হাত ৪৫ এর উপর যেত না। নকলের ভাইরাসটা সরে যায়, সকল শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে ফিরে আসে। যার কারনে এখনো মানুষ বলে নকল করে পাস করা যাবে না এহছানুল হক মিলন আসলে।

তবে এই কঠোরতার দামও তাকে দিতে হয়েছে। আওয়ামীলীগের আমলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, হয়রানি কোনো কিছুই বাদ যায় নি। তবে আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখে মানুষ বলে এহছানুল হক মিলন যদি আবার আসে নকল সকলের জম হয়ে যাবে। যারা নকল করে পাস করতে চায় তাদের জন্য তিনি হচ্ছেন আতঙ্ক।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এহসানুল হক মিলনের এক বক্তব্য আলচিত সেটি হচ্ছে, ‘তো আমি নকল প্রতিরোধ করার জন্য নিজ পকেটের পয়সা দিয়ে হেলিকপ্টার রেন্ট করলাম’।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : নকল সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী চাঁদপুর-১ এহছানুল হক মিলন

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


নকল আর হবে না, ঠিকমতো লেখাপড়া করতে হবে: সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে নকলের সংস্কৃতি পরিহার করে সবাইকে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী চাঁদপুর- (কচুয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এহছানুল হক মিলন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ‘নকল আর হবে না, ঠিকমতো লেখাপড়া করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মেধা পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চাঁদপুর- (কচুয়া) উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি দলীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক এই শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘একটি জাতির অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হলো শিক্ষা। শিক্ষার পরিবেশ যদি নকল, অনিয়ম অসততার মাধ্যমে কলুষিত হয়, তাহলে সেই জাতি কখনও টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না।’ 

এহছানুল হক মিলন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘পরীক্ষায় ভালো ফল করতে হলে নিয়মিত পড়াশোনার বিকল্প নেই। নকলের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ফলাফল অর্জন করা গেলেও তা ভবিষ্যৎ জীবনে কোনও কাজে আসে না।

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক, শিক্ষক প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিদ্যালয়গুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সুষ্ঠু পরীক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নেয়া হবে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর- আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে জয় লাভ করেন এহছানুল হক মিলন। জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন। এই সময় তিনি এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি পুনরাবৃত্তি করেন। 

তিনি আরও বলেন, আমি চাই কচুয়ার শিক্ষার্থীরা শুধু জেলায় নয়, জাতীয় পর্যায়েও সুনাম অর্জন করুক। এজন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

এহছানুল হক মিলন তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘জনগণের আস্থা ভালোবাসার মর্যাদা রক্ষা করাই হবে তার প্রধান দায়িত্ব’।

কেনো বর্তমানে এহছানুল হক মিলনকে সবাই ভয় পাচ্ছে?

সময়টা ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের দিকে, যখন বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী থাকাকালীন এহসানুল হক মিলন ছিলেন শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। তিনি অত্যন্ত কঠোর ও কঠোর নকলমুক্ত পরীক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন। যার ফলে শিক্ষার্থীরা তাকে ভয় পেত। তিনি নিজ উদ্যোগে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পরীক্ষা কেন্দ্রে হানা দিয়ে নকল ধরতেন। পরীক্ষার হলে নকলের বিরুদ্ধে তার কঠোর অবস্থান নীতি ছিল, ফলে নকলবাজদের বড় শাস্তির মুখোমুখি হতে হতো, যা তখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ তৈরি করেছিল। হঠাৎ করে তার হেলিকপ্টার নামত, যার কারনে নকলবাজদের পালানোর সুযোগ থাকত না।

ছবিঃ হেলিকপ্টার ব্যবহার করে পরীক্ষা কেন্দ্রে হানা।

তিনি নিজে পরিক্ষার হলে এসে নকল খুঁজতেন এবং নকল পেলে সাথে সাথে কঠোর ব্যবস্থা নিতেন। এতে নকলবাজদের মধ্যে আতঙ্ক ছরিয়ে পড়ত। তখন প্রশ্ন ফাঁস শূনোতে নেমে এসেছিল। তার সময়ে পাসের হার কম ছিল, তবে যারা পাস করত তারা ছিল সুশিক্ষিত।

তার এই কার্যক্রমের কারনে তখন এসএসসি এবং এইছএসসিতে পাসের হাত ৪৫ এর উপর যেত না। নকলের ভাইরাসটা সরে যায়, সকল শিক্ষার্থী পড়ার টেবিলে ফিরে আসে। যার কারনে এখনো মানুষ বলে নকল করে পাস করা যাবে না এহছানুল হক মিলন আসলে।

তবে এই কঠোরতার দামও তাকে দিতে হয়েছে। আওয়ামীলীগের আমলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা, হয়রানি কোনো কিছুই বাদ যায় নি। তবে আজকের শিক্ষা ব্যবস্থা দেখে মানুষ বলে এহছানুল হক মিলন যদি আবার আসে নকল সকলের জম হয়ে যাবে। যারা নকল করে পাস করতে চায় তাদের জন্য তিনি হচ্ছেন আতঙ্ক।

বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় এহসানুল হক মিলনের এক বক্তব্য আলচিত সেটি হচ্ছে, ‘তো আমি নকল প্রতিরোধ করার জন্য নিজ পকেটের পয়সা দিয়ে হেলিকপ্টার রেন্ট করলাম’।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত