ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শিশুর সঠিক বৃদ্ধিতে দৈনিক কত ক্যালরি প্রয়োজন জানুন



শিশুর সঠিক বৃদ্ধিতে দৈনিক কত ক্যালরি প্রয়োজন জানুন
ছবি: সংগৃহীত

একটি শিশুর দৈনন্দিন ক্যালরির প্রয়োজনীয়তা কোনো নির্দিষ্ট কনো ছাঁচে বাঁধা নয়। এটি মূলত তার বয়স, ওজন এবং শারীরিক কাঠামোর মতো মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে। তবে শুধু এই বাহ্যিক মাপকাঠিই যথেষ্ট নয়; শিশুর শরীর কত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তার প্রাকৃতিকভাবে ক্ষুধা লাগার ধরণ কেমন, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিটি শিশুর বিপাক প্রক্রিয়া ভিন্ন হয়। কেউ হয়তো অনেক চঞ্চল, আবার কেউ কিছুটা শান্তএই পার্থক্যের কারণেই ক্যালরির চাহিদাতেও ভিন্নতা আসে। তাই কেবল সাধারণ তালিকার ওপর নির্ভর না করে শিশুর শারীরিক সক্রিয়তা এবং রুচির দিকেও নজর দিতে হয়। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হলে তার সামগ্রিক বিকাশ এবং দৈনন্দিন শক্তির ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। সহজ কথায়, শিশুর স্বাস্থ্যের ধরণ বুঝেই তার খাদ্যতালিকা এবং শক্তির জোগান নিশ্চিত করা উচিত।

প্রতিটি শিশুর শরীরের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ভিন্ন থাকে। কোনো শিশু হয়তো প্রাকৃতিক ভাবেই বেশি সক্রিয়, আবার কেউ কিছুটা শান্ত প্রকৃতির। তাই গৎবাঁধা কোনো নিয়মের চেয়ে শিশুর শারীরিক বিকাশ এবং রুচির দিকে নজর রাখা জরুরি। একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে শিশুর নিয়মিত শারীরিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা সাজানো উচিত। মূলত সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই শিশুর সুস্থ বিকাশ সম্ভব।

শিশুর শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখা এবং বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি জোগাতে ক্যালরি অপরিহার্য। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশুদের শারীরিক বিকাশ, খেলাধুলা ও প্রাত্যহিক কাজের জন্য এই শক্তির প্রয়োজন হয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবেশগত তাপমাত্রা। শিশু যদি পর্যাপ্ত গরম পোশাকের অভাবে শীতলতায় ভোগে, তবে তার শরীরকে উষ্ণ রাখতে গিয়ে অকারণে প্রচুর ক্যালরি ব্যয় হয়ে যায়। এতে শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক পুষ্টির পাশাপাশি শিশুকে অনুকূল তাপমাত্রায় রাখাও তার শারীরিক গঠনের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মানবদেহে ক্যালরির খরচ ঘটে কয়েকটা খাতে-দেহ অভ্যন্তরে প্রধান প্রধান অঙ্গের কাজকর্ম সাধনে বেসিক মেটাবলিজম, দেহের তাপমাত্রা সুরক্ষা দিতে থার্মোরেগুলেশন, মাংসপেশি চালনার কাজে ও নতুন নতুন কোষকলা তৈরিতে শারীরিক বৃদ্ধি।

একটি শিশুর কত ক্যালরি দরকার

শিশুর শরীরের ক্যালরির চাহিদা মূলত তার প্রতি কেজি ওজনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। বয়সভেদে এই চাহিদাতেও ভিন্নতা আসে। যেমন—জন্ম থেকে এক বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি কেজিতে ১১০ থেকে ৮৫ কিলোক্যালরি প্রয়োজন। এক থেকে তিন বছর বয়সীদের জন্য এটি ৯৫ থেকে ৮৫ এবং তিন থেকে বারো বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ৮৫ থেকে ৬০ কিলোক্যালরি পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া বা প্রিম্যাচিওর শিশুদের বাড়তি যত্নের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১২০ কিলোক্যালরি প্রয়োজন হয়। তবে আশার কথা হলো, একজন সুস্থ নবজাতক প্রথম ছয় মাস কেবল মায়ের দুধ পান করেই তার প্রয়োজনীয় সবটুকু ক্যালরি ও পুষ্টি অনায়াসেই পেয়ে থাকে।

প্রথম বছরে শিশুর দরকার দৈনিক ১০০০ কিলোক্যালরি। পরে ১০০০ কিলোক্যালরির সঙ্গে বয়সের বছর যোগ করে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরির পরিমাণ জানা যাবে। যেমন দুই বছরের শিশুর দৈনিক ১০০২ কিলোক্যালরি, ৪ বছরের শিশুর দৈনিক ১০০৪ কিলোক্যালরি।

একটি শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার ক্যালরি চাহিদাতেও পরিবর্তন আসে। চার বছর পার হলে প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে শক্তির প্রয়োজনীয়তা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। নবজাতক অবস্থায় যেখানে প্রতি কেজিতে ১১০ থেকে ১২০ কিলোক্যালরি লাগত, বয়ঃসন্ধিকালে তা কমে প্রায় ৪০ কিলোক্যালরিতে দাঁড়ায়।

একটি বিশেষ বিষয় হলো অপুষ্ট শিশুর পুষ্টি পরিকল্পনা। এক্ষেত্রে বর্তমান ওজনের বদলে শিশুর উচ্চতা অনুযায়ী ক্যালরি হিসাব করা হয়, যাতে তার সঠিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

কোন খাবারে ক্যালরি কত থাকে

মানবদেহে শক্তির প্রাথমিক উৎস বা জোগানদাতা হলো প্রতিদিনের খাবার। পুষ্টিগুণ অনুযায়ী খাবারকে প্রধানত শর্করা, আমিষ এবং চর্বিএই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রতিটি উপাদানের শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি গ্রাম শর্করা আমিষ থেকে শরীর পায় কিলোক্যালরি শক্তি। অন্যদিকে, চর্বি বা স্নেহজাতীয় খাবার সবচেয়ে বেশি শক্তি যোগায়, যার প্রতি গ্রাম থেকে প্রায় কিলোক্যালরি পাওয়া যায়। সুস্থ থাকতে এই উপাদানগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন জরুরি।

অপুষ্ট শিশুদের ওজন বাড়াতে খাবারে অতিরিক্ত তেল বা মাখন যোগ করা কার্যকর। অন্যদিকে, স্থূলকায় শিশুদের ক্ষেত্রে চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। শিশুর শারীরিক অবস্থা বুঝে চর্বি বা ফ্যাটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা তার সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

মায়ের দুধ ও সুষম খাবারে ক্যালরি জোগানোর ধরন একই। যেমন ক্যালরির ৯-১৫ শতাংশ আসে আমিষ থেকে, ৩৫-৫৫ শতাংশ আসে শর্করা থেকে আর ৩৫-৪৫ ভাগ আসে চর্বি থেকে।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : শিশু বৃদ্ধি ক্যালরি

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬


শিশুর সঠিক বৃদ্ধিতে দৈনিক কত ক্যালরি প্রয়োজন জানুন

প্রকাশের তারিখ : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

একটি শিশুর দৈনন্দিন ক্যালরির প্রয়োজনীয়তা কোনো নির্দিষ্ট কনো ছাঁচে বাঁধা নয়। এটি মূলত তার বয়স, ওজন এবং শারীরিক কাঠামোর মতো মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর নির্ভর করে। তবে শুধু এই বাহ্যিক মাপকাঠিই যথেষ্ট নয়; শিশুর শরীর কত দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং তার প্রাকৃতিকভাবে ক্ষুধা লাগার ধরণ কেমন, সেটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রতিটি শিশুর বিপাক প্রক্রিয়া ভিন্ন হয়। কেউ হয়তো অনেক চঞ্চল, আবার কেউ কিছুটা শান্তএই পার্থক্যের কারণেই ক্যালরির চাহিদাতেও ভিন্নতা আসে। তাই কেবল সাধারণ তালিকার ওপর নির্ভর না করে শিশুর শারীরিক সক্রিয়তা এবং রুচির দিকেও নজর দিতে হয়। সঠিক পুষ্টি নিশ্চিত করতে হলে তার সামগ্রিক বিকাশ এবং দৈনন্দিন শক্তির ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। সহজ কথায়, শিশুর স্বাস্থ্যের ধরণ বুঝেই তার খাদ্যতালিকা এবং শক্তির জোগান নিশ্চিত করা উচিত।

প্রতিটি শিশুর শরীরের অভ্যন্তরীণ চাহিদা ভিন্ন থাকে। কোনো শিশু হয়তো প্রাকৃতিক ভাবেই বেশি সক্রিয়, আবার কেউ কিছুটা শান্ত প্রকৃতির। তাই গৎবাঁধা কোনো নিয়মের চেয়ে শিশুর শারীরিক বিকাশ এবং রুচির দিকে নজর রাখা জরুরি। একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে শিশুর নিয়মিত শারীরিক পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা সাজানো উচিত। মূলত সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমেই শিশুর সুস্থ বিকাশ সম্ভব।

শিশুর শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সচল রাখা এবং বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি জোগাতে ক্যালরি অপরিহার্য। বিশেষ করে বাড়ন্ত শিশুদের শারীরিক বিকাশ, খেলাধুলা ও প্রাত্যহিক কাজের জন্য এই শক্তির প্রয়োজন হয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবেশগত তাপমাত্রা। শিশু যদি পর্যাপ্ত গরম পোশাকের অভাবে শীতলতায় ভোগে, তবে তার শরীরকে উষ্ণ রাখতে গিয়ে অকারণে প্রচুর ক্যালরি ব্যয় হয়ে যায়। এতে শিশুর বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তিতে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। তাই সঠিক পুষ্টির পাশাপাশি শিশুকে অনুকূল তাপমাত্রায় রাখাও তার শারীরিক গঠনের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ।

মানবদেহে ক্যালরির খরচ ঘটে কয়েকটা খাতে-দেহ অভ্যন্তরে প্রধান প্রধান অঙ্গের কাজকর্ম সাধনে বেসিক মেটাবলিজম, দেহের তাপমাত্রা সুরক্ষা দিতে থার্মোরেগুলেশন, মাংসপেশি চালনার কাজে ও নতুন নতুন কোষকলা তৈরিতে শারীরিক বৃদ্ধি।

একটি শিশুর কত ক্যালরি দরকার

শিশুর শরীরের ক্যালরির চাহিদা মূলত তার প্রতি কেজি ওজনের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা হয়। বয়সভেদে এই চাহিদাতেও ভিন্নতা আসে। যেমন—জন্ম থেকে এক বছর বয়স পর্যন্ত প্রতি কেজিতে ১১০ থেকে ৮৫ কিলোক্যালরি প্রয়োজন। এক থেকে তিন বছর বয়সীদের জন্য এটি ৯৫ থেকে ৮৫ এবং তিন থেকে বারো বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ৮৫ থেকে ৬০ কিলোক্যালরি পর্যন্ত হতে পারে।

অন্যদিকে, সময়ের আগে জন্ম নেওয়া বা প্রিম্যাচিওর শিশুদের বাড়তি যত্নের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১২০ কিলোক্যালরি প্রয়োজন হয়। তবে আশার কথা হলো, একজন সুস্থ নবজাতক প্রথম ছয় মাস কেবল মায়ের দুধ পান করেই তার প্রয়োজনীয় সবটুকু ক্যালরি ও পুষ্টি অনায়াসেই পেয়ে থাকে।

প্রথম বছরে শিশুর দরকার দৈনিক ১০০০ কিলোক্যালরি। পরে ১০০০ কিলোক্যালরির সঙ্গে বয়সের বছর যোগ করে শিশুর জন্য প্রয়োজনীয় ক্যালরির পরিমাণ জানা যাবে। যেমন দুই বছরের শিশুর দৈনিক ১০০২ কিলোক্যালরি, ৪ বছরের শিশুর দৈনিক ১০০৪ কিলোক্যালরি।

একটি শিশুর বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার ক্যালরি চাহিদাতেও পরিবর্তন আসে। চার বছর পার হলে প্রতি কেজি ওজনের বিপরীতে শক্তির প্রয়োজনীয়তা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে। নবজাতক অবস্থায় যেখানে প্রতি কেজিতে ১১০ থেকে ১২০ কিলোক্যালরি লাগত, বয়ঃসন্ধিকালে তা কমে প্রায় ৪০ কিলোক্যালরিতে দাঁড়ায়।

একটি বিশেষ বিষয় হলো অপুষ্ট শিশুর পুষ্টি পরিকল্পনা। এক্ষেত্রে বর্তমান ওজনের বদলে শিশুর উচ্চতা অনুযায়ী ক্যালরি হিসাব করা হয়, যাতে তার সঠিক শারীরিক বিকাশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

কোন খাবারে ক্যালরি কত থাকে

মানবদেহে শক্তির প্রাথমিক উৎস বা জোগানদাতা হলো প্রতিদিনের খাবার। পুষ্টিগুণ অনুযায়ী খাবারকে প্রধানত শর্করা, আমিষ এবং চর্বিএই তিন ভাগে ভাগ করা যায়। প্রতিটি উপাদানের শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, প্রতি গ্রাম শর্করা আমিষ থেকে শরীর পায় কিলোক্যালরি শক্তি। অন্যদিকে, চর্বি বা স্নেহজাতীয় খাবার সবচেয়ে বেশি শক্তি যোগায়, যার প্রতি গ্রাম থেকে প্রায় কিলোক্যালরি পাওয়া যায়। সুস্থ থাকতে এই উপাদানগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ বণ্টন জরুরি।

অপুষ্ট শিশুদের ওজন বাড়াতে খাবারে অতিরিক্ত তেল বা মাখন যোগ করা কার্যকর। অন্যদিকে, স্থূলকায় শিশুদের ক্ষেত্রে চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। শিশুর শারীরিক অবস্থা বুঝে চর্বি বা ফ্যাটের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা তার সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।

মায়ের দুধ ও সুষম খাবারে ক্যালরি জোগানোর ধরন একই। যেমন ক্যালরির ৯-১৫ শতাংশ আসে আমিষ থেকে, ৩৫-৫৫ শতাংশ আসে শর্করা থেকে আর ৩৫-৪৫ ভাগ আসে চর্বি থেকে।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত