ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

সেতু আছে তবে সংযোগ সড়ক নেই : দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কালীগঙ্গা নদীর ওপর বৈকুণ্ঠপুরে নির্মিত কংক্রিটের সেতুটি কয়েক ডজন গ্রামের মানুষের কয়েক দশকের বিচ্ছিন্নতা ঘোচানোর কথা ছিল। কিন্তু কাজ শেষ হওয়ার তিন বছর পেরিয়ে গেলেও ৪২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল কাঠামোটি এখন অলস দাঁড়িয়ে আছে। সংযোগ সড়ক না থাকায় এটি কোনো কাজেই আসছে না স্থানীয়দের। ৩৬৫ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি এখন স্থানীয়দের কাছে উন্নয়নের বদলে হতাশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুর দুই পাশে অন্তত ৩০টি গ্রামের মানুষ এখনো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। মোটরসাইকেল, ভ্যান ও রিকশাও পার করতে হচ্ছে নৌকায় করে।বালিয়াধা গ্রামের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘যে পথ পাড়ি দিতে কয়েক মিনিট লাগার কথা ছিল, সড়ক না থাকায় এখন কয়েক ঘণ্টা সময় নষ্ট হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে আমাদের প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই সেতুর কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালে মূল সেতুর কাজ শেষ হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় আটকে যায় সংযোগ সড়কের নির্মাণ কাজ। প্রায় ৬ দশমিক ২০ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য ১২ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণে বিলম্ব হওয়ায় জমির দখল পায়নি কর্তৃপক্ষ।মানিকগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ বি এম খোরশেদ আলম জানান, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ঠিকাদাররা সংযোগ সড়কের কাজ শুরু করতে পারেননি। তবে বর্তমানে প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের চেক হস্তান্তর করা হলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে।অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ইতোমধ্যেই ৭১ জন ভূমি মালিককে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯ জন ক্ষতিপূরণের জন্য আবেদন করেছেন। বাকিরা আবেদন করলেই দ্রুত চেক ইস্যু করা হবে।‘  এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

সেতু আছে তবে সংযোগ সড়ক নেই : দুর্ভোগে ৩০ গ্রামের মানুষ