ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

সম্পর্কের বাঁধন রক্ষায় ‘ডিউটি সেক্স’: নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনেকের কাছেই বিষয়টি একটু অবাক করার মতো। মনের ইচ্ছে না থাকলেও শুধু সম্পর্কের খাতিরে বা দায়িত্ববোধ থেকে অনেক দম্পতিই যৌনতায় অংশ নেন, যাকে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ডিউটি সেক্স’। তবে এই অনীহার পেছনেও কি কোনো সুদূরপ্রসারী জৈবিক বা বিবর্তনগত কারণ রয়েছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সম্প্রতি এক অভিনব গবেষণা চালিয়েছেন গবেষকরা।​গবেষণার নেপথ্য ভাবনাগবেষণার প্রধান লেখক এফ. সিড ডুগান এই বিষয়ে আলোকপাত করে বলেন, “আমাদের বিবর্তনীয় ইতিহাসে এই আচরণের পেছনে কী ধরনের প্রজননগত সুবিধা লুকিয়ে ছিল? আমি জানতে চেয়েছিলাম ডিউটি সেক্সের কোনো চূড়ান্ত বা চূড়ান্ত কার্যকারিতা আছে কি না, এবং থাকলে তা কী।”​পূর্বের গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা, সঙ্গীর অনুভূতি রক্ষা করা, নিজেদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব কমানো কিংবা সঙ্গীর কাছ থেকে দূরে সরে যাওয়ার আশঙ্কা রোধ করতেই মূলত মানুষ এই ধরনের যৌনতায় জড়িয়ে পড়ে। তবে সাম্প্রতিক এই গবেষণায় এর বিবর্তনগত উপকারিতা খোঁজার চেষ্টা করা হয়েছে।​কাদের ওপর এই গবেষণা চালানো হলো?১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী মোট ২৫২ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়। যার মধ্যে ১৭৬ জন নারী এবং ৭৬ জন পুরুষ ছিলেন। বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারীই ছিলেন heterosexual (বিষমকামী) এবং তাদের সম্পর্কের স্থায়িত্ব ছিল সদ্য শুরু হওয়া থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৮৪ মাস পর্যন্ত।​অংশগ্রহণকারীরা বয়স, লিঙ্গ, শিক্ষা, যৌন অভিযোজন, সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং যৌন সক্রিয়তার বিভিন্ন দিক নিয়ে একটি বিস্তারিত জরিপে অংশ নেন। পাশাপাশি, সম্পর্ক সুরক্ষায় তারা কতবার দায়িত্ববোধ থেকে যৌনতায় অংশ নেন, তা মূল্যায়ন করতে একটি প্রশ্নমালার জবাবও দেন।​যা উঠে এসেছে ফলাফলেগবেষণায় দেখা গেছে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে যখনই সঙ্গীর অন্য কোথাও জড়িয়ে পড়ার বা পরকীয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়, তখনই মানুষ এই ‘ডিউটি সেক্স’-এর আশ্রয় নেয়। গবেষকদের মতে, সঙ্গীকে হারানোর বা সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি টের পেলে এটি এক ধরনের সহজাত ও বিবর্তিত আচরণ হিসেবে কাজ করে, যা সঙ্গীকে দূরে চলে যাওয়া থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।​তবে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্যও উঠে এসেছে এই গবেষণায়। দেখা গেছে, সম্পর্কের স্থায়িত্বের সঙ্গে নারী বা পুরুষ—উভয়ের ক্ষেত্রেই ডিউটি সেক্সের ফ্রিকোয়েন্সির (বারান্দা বা হার) কোনো সম্পর্ক নেই। এছাড়া, পুরুষদের যৌন আকাঙ্ক্ষা সাধারণত বেশি বলে প্রচলিত ধারণা থাকলেও, এই গবেষণায় দেখা গেছে পুরুষ ও নারী উভয়ই সমান হারে ডিউটি সেক্স-এ অংশ নেন।​সীমাবদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ ভাবনাগবেষণার সঙ্গে যুক্ত গবেষকরা এর কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেছেন। যেমন—সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি ছিল অংশগ্রহণকারীদের নিজেদের দেওয়া তথ্যের (self-reported) ওপর নির্ভরশীল, নমুনার আকার ছিল ছোট এবং অংশগ্রহণকারীরা মূলত তরুণ ও প্রাথমিক সম্পর্কের পর্যায়ে ছিলেন।​তবে সবকিছুর পরেও এই গবেষণার লেখকরা একে একটি বিবর্তনীয় কাঠামোর মধ্যে ফেলার ওপর জোর দিয়েছেন। তাদের মতে, “যে আচরণগুলোকে কেবলই বাধ্যবাধকতাপূর্ণ মনে হয়, তা আসলে সঙ্গীকে হারানোর ঝুঁকি মোকাবেলায় এক ধরনের কৌশলগত প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এটি সম্পর্ক রক্ষায় যৌন আচরণের ভূমিকা নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণার এক নতুন দ্বার উন্মোচন করল।”  এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

সম্পর্কের বাঁধন রক্ষায় ‘ডিউটি সেক্স’: নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য