ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গোলাগুলির ঘটনায় মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নোয়াখালী বেগমগঞ্জের চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে ঘটে যাওয়া গোলাগুলির ঘটনায় মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. আবুল হোসেন নামের এক ভুক্তভোগী।শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যা প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তাকে ও তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ঘটনার ইন্ধনদাতা হিসেবে সাজিয়ে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হয়েছে।লিখিত বক্তব্যে মো. আবুল হোসেন জানান, গত ৭ আগস্ট রাতে চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে একদল অজ্ঞাত ব্যক্তি গোলাগুলি চালায়। মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরিহিত দুই সশস্ত্র ব্যক্তি হকার্স মার্কেটের হোটেলের সামনে অবস্থানরত দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ছে। এই ঘটনায় পরবর্তীতে হকার্স মার্কেট সমিতির সহ-সভাপতি ইয়াছিন সেন্টু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।আবুল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনা শেষ হতে না হতেই তার বড় ভাই আবুল কাশেম সাংবাদিকদের কাছে দেওয়া বক্তব্যে তাকে এবং তার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়কে ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন। কাশেমের এই দাবিকে পুরোপুরি মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট উল্লেখ করে তিনি এর তীব্র প্রতিবাদ জানান।আবুল কাশেম ওরপে হকার্স কাশেমের বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, ধর্ষণসহ একাধিক মামলার অভিযোগ তুলে ধরে তার সহোদর ভাই আবুল হোসেন বলেন, কাশেমের অপরাধের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রতিবাদ করার কারণেই তিনি আমার বাসায় কয়েকবার হামলা চালায় এবং আমাকে ও আমার ছেলেকে মামলা দিয়ে নানাভাবে হয়রানি করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে আবুল কাশেমের ছেলে, ইয়াসিন আরাফাত বলেন, আমরা আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করব যে ঘটনা ঘটেছে তা নিঃসন্দে একটি অপ্রীতিকর ঘটনা। আমরা আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি। যদি নিরপেক্ষ তদন্তে আমি বা আমার পরিবারের কোনো সদস্যদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে রাষ্ট্রের দেওয়া যেকোনো শাস্তি মেনে নেব। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হয়রানি করার অপরাধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।হৃদয় আরও উল্লেখ করেন, ২০১৬ সাল থেকে পারিবারিক জমিজমা ও ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কাশেম ক্রমাগত তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছে। ২০১৭ সালে তার বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনা ঘটিয়ে উল্টো কাশেম নিজেই বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন, যা পরবর্তীতে তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হলে আদালত থেকে তিনি খালাস পান। এছাড়া ২০২১ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইনে ১৪টি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হলেও নিরপেক্ষ তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে তিনি খালাস পান।সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরো বলেন, গত ২ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কাশেম ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট এবং দোকান ও যাতায়াতের রাস্তা দখলের চেষ্টা করে। পরবর্তীতে প্রশাসন ও যৌথ বাহিনীর সহায়তায় অবৈধ দখলদারিত্বমুক্ত করা হলেও কাশেম তার অপরাধ ঢাকতে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার চালিয়ে আসছে।  এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে গোলাগুলির ঘটনায় মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন