শিক্ষিকাকে অশালীন প্রস্তাব: পুলিশ হেফাজতে মাদরাসা শিক্ষক
যশোরে নারী শিক্ষিকাকে অশালীন
প্রস্তাব, কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে একটি মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা
ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত
অভিযোগ দিয়েছেন। পরে
অভিযুক্ত শিক্ষককে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম ইশতিয়াক হোসেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার বলিয়া-ভেকুটিয়া
এলাকার একটি ইসলামিয়া ক্যাডেট মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক। অভিযোগকারী নারীও
ওই মাদরাসায় শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত।অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায়
ছয় বছর আগে ওই শিক্ষিকার বিয়ে হয়। তাদের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত
বিভিন্ন সমস্যার কারণে প্রায় দুই বছর ধরে তিনি বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তার অভিযোগ,
মাদরাসার প্রধান শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব ও অশালীন মন্তব্য
করে আসছিলেন।অভিযোগে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট
সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে মাদরাসায় কর্মরত অবস্থায় প্রধান শিক্ষক তাকে নিজের অফিস কক্ষে
ডাকেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় অফিসকক্ষে প্রবেশের আগে মোবাইল ফোনে অডিও রেকর্ড
চালু করে রাখেন তিনি। পরে অফিসকক্ষে প্রবেশ করলে প্রধান শিক্ষক তাকে বিভিন্ন অশালীন,
কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর কথা বলেন বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষিকা। সে সময় তাকে নানা ধরনের
ভয়ভীতিও দেখানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।পরবর্তী
সময়ে ওই কথোপকথনের অডিও অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের শোনানো হলে বিষয়টি নিয়ে মাদরাসায়
উত্তেজনা ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়।একপর্যায়ে শিক্ষক ও কর্মচারীরা বিষয়টি পুলিশকে
জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মাদরাসার প্রধান শিক্ষক ইশতিয়াক হোসেনকে হেফাজতে
নেয়।কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায়
অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পর প্রধান শিক্ষককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার
প্রস্তুতি চলছে।’
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ