ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

পুষ্টি খাদ্যের অভ্যাস গড়ে তুলতে পাহাড়ে রন্ধন প্রণালী প্রদর্শনী

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পরিবার পর্যায়ে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে একটি রন্ধন প্রণালী (Cooking Demonstration) প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ঘরের আঙিনায় উৎপাদিত শাক-সবজি, ফলমূল ও দেশীয় খাদ্য উপাদান ব্যবহার করে কীভাবে স্বাস্থ্যসম্মত ও সুষম খাবার প্রস্তুত করা যায়—তা হাতে-কলমে দেখানো হয় এ আয়োজনে।বুধবার (১৩ মে) রেংরিং ম্রো পাড়া গ্রামে আয়োজিত আলোচনা ও প্রদর্শনী সভার আয়োজন করে কারিতাস বাংলাদেশ-এর চট্টগ্রাম অঞ্চল, পিএইপি–৩ প্রকল্প। আয়োজকরা জানান, পাহাড়ি এলাকায় সহজলভ্য পুষ্টিগুণসম্পন্ন উপাদান দিয়েই পরিবারে সুষম খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব—এই বার্তাটি অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়াই ছিল অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পিএইপি–৩ প্রকল্পের কর্মসূচি কর্মকর্তা মি. রেমন আসাম। উপজেলা মাঠ কর্মকর্তা মি. লিংকন গোমেজ সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এর চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ নাঈম বিন শাহজাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলার জেপিও (এগ্রোইকোলজি) মি. উসিনু মারমা, জেপিও (মিল) মো. ফরহাদ আজিম, স্বাস্থ্য বিভাগের স্যানিটারি পরিদর্শক জ্যোতি প্রিয় চাকমা এবং বান্দরবানের রি স্বং স্বং রেস্টুরেন্ট-এর স্বত্বাধিকারী নারী উদ্যোক্তা  থুইমেচিং মারমা। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মাঠ সহায়ক পংমে মারমা, সিংথোয়াই চাক প্রমূখ।বক্তারা বলেন, পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতার অভাবই পাহাড়ি জনপদে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অথচ ঘরের আঙিনায় উৎপাদিত শাক-সবজি, ডাল, কচু, কুমড়া, কলা, পেঁপে, লাউ, শিমসহ নানা দেশীয় উপাদান দিয়ে অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার তৈরি করা সম্ভব। প্রয়োজন শুধু সঠিক জ্ঞান ও অভ্যাস।” তারা নিরাপদ খাদ্য প্রস্তুত প্রণালী, খাদ্যগুণ অক্ষুণ্ণ রেখে রান্নার কৌশল, হাত ধোয়ার অভ্যাস, বিশুদ্ধ পানি ব্যবহার এবং পরিবারের সকল সদস্যের জন্য সুষম খাদ্য নিশ্চিত করার উপর গুরুত্বারোপ করেন।নারী উদ্যোক্তা থুইমেচিং মারমা বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, আমরা পাহাড়ে যে সবজি পাই, সেগুলো দিয়েই হোটেল-রেস্টুরেন্টে পুষ্টিকর ও সুস্বাদু খাবার তৈরি করা যায়। পরিবারে মায়েরা যদি এ পদ্ধতি অনুসরণ করেন, তাহলে শিশুদের অপুষ্টি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।আয়োজকরা জানান, এ ধরনের রান্না প্রদর্শনী শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি পরিবারভিত্তিক পুষ্টি শিক্ষার একটি কার্যকর পদ্ধতি। অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি রান্না প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়ে শিখতে পারেন কোন উপাদান কতটুকু ব্যবহার করলে খাবার সুষম ও স্বাস্থ্যসম্মত হবে।অনুষ্ঠানে উপকারভোগীসহ প্রায় অর্ধশত নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং হাতে-কলমে রান্না প্রদর্শনীতে যুক্ত হয়ে পুষ্টিকর খাবার প্রস্তুতের কৌশল শেখেন।সভাপতি রেমন আসাম বলেন, পাহাড়ি পরিবারগুলোতে পুষ্টি সচেতনতা বাড়বে, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের উন্নয়ন ঘটবে এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্য উপাদানের ব্যবহার আরও বৃদ্ধি পাবে। আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।   এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

 পুষ্টি খাদ্যের অভ্যাস গড়ে তুলতে পাহাড়ে রন্ধন প্রণালী প্রদর্শনী