টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, বিপৎসীমার ওপরে সাঙ্গুর পানি
অভিরাম
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বান্দরবানের থানচি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির
দ্রুত অবনতি ঘটেছে। বুধবার বিকেল থেকে ভারী বর্ষণের সঙ্গে সাঙ্গু নদীর পানি আশঙ্কাজনক
হারে বৃদ্ধি পেয়ে থানচি বাজার, বাগানপাড়া, নতুন ব্রীজ পাড়া, হিন্দুপাড়া, উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কসহ নদীতীরবর্তী একাধিক এলাকায় বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এতে
নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দারা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু
করেছেন।পরিস্থিতি
পর্যবেক্ষণে বুধবার (৮ জুলাই) বিকেলে প্রবল বৃষ্টির মধ্যেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন
করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল ফয়সাল। তিনি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার
পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি আশ্রয়কেন্দ্রে
অবস্থানরত পরিবারগুলোর জন্য শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণের প্রস্তুতি
নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।সরেজমিনে
দেখা গেছে, বাগানপাড়ার একটি কালভার্ট, রবার্টপাড়া ও টিমংপাড়ার দুটি সেতু এবং উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সড়কের বয়ক হেডম্যানপাড়ার একটি সেতুসহ আরও কয়েকটি সেতু পানির
নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া রুমা বাজার থেকে সদরঘাট পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার সড়কের
বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।থানচি
সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অংপ্রু ম্রো জানান, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া টানা
বৃষ্টিতে তাঁর ইউনিয়নের নদীতীরবর্তী ফসলি জমি ও ছড়ার তীরবর্তী খামার পানির নিচে তলিয়ে
গেছে। বিশেষ করে আমন ধান ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের
তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান
তিনি।এদিকে
প্রবল স্রোতের কারণে রেমাক্রী খাল, সোনা খাল, তিন্দু ঝিরি ও পর্দ্দা খালের পানিও বৃদ্ধি
পেয়েছে। এতে থানচি উপজেলার সঙ্গে রেমাক্রী ও তিন্দু—এই দুই ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে ওইসব
এলাকার মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।স্থানীয়দের
আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। সাঙ্গু নদীর
পানি আরও বাড়লে থানচি ও বলীপাড়া বাজারসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন পাড়া ও গ্রাম প্লাবিত
হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসন সবাইকে সতর্ক থাকার এবং প্রয়োজনে
দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ