সহজ শর্তে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে শত শত মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে শেষ পর্যন্ত কারাগারে ঠাঁই হয়েছে যশোরের আলোচিত যুব মহিলা লীগ নেত্রী মাহমুদা খাতুনের। প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীদের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত শনিবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রোববার (৮ মার্চ) আদালতের নির্দেশে তাকে যশোর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।গ্রেফতারকৃত মাহমুদা খাতুন যশোর সদরের বসুন্দিয়া মোড় এলাকার মৃত ডা. মনসুর আলীর মেয়ে। এর আগে তিনি ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও পরে ঢাকার ‘মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড’ নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ব্যবহার করেই তিনি সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মাহমুদা খাতুন সাধারণ মানুষকে চড়া লভ্যাংশের স্বপ্ন দেখাতেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে, তার মাধ্যমে ঋণ নিলে মাত্র ২ শতাংশ হারে লভ্যাংশ দিতে হবে এবং সেই ঋণ পরিশোধের জন্য ১০ থেকে ১২ বছর সময় পাওয়া যাবে। এমন লোভনীয় শর্তে প্রলুব্ধ হয়ে যশোর সদরের বারীনগর বানিয়ালি গ্রামের আব্দুস সোবহানসহ ৩২ জন ব্যক্তি তার হাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে দেন।২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে যশোর শহরের চৌরাস্তা এলাকার একটি শোরুমে বসে এই লেনদেন সম্পন্ন হয়। ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩২ জনের কাছ থেকে প্রায় ৭০ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন মাহমুদা। এছাড়া প্রত্যেকের কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং তিন-চারটি করে অগ্রিম স্বাক্ষরিত (ব্লাঙ্ক) চেক হাতিয়ে নেন তিনি।টাকা নেওয়ার এক মাসের মধ্যে লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও সময় পার হওয়ার পর নিজের রূপ বদলাতে শুরু করেন মাহমুদা। ভুক্তভোগীরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ করা বন্ধ করে দেন এবং নানা অজুহাতে আত্মগোপনে চলে যান। দীর্ঘদিন তাকে যশোরে দেখা না মেলায় পাওনাদারদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।শনিবার (৭ মার্চ) সকালে যশোর শহরের দড়াটানা মোড়ে ‘খেলাঘর’ দোকানের সামনে মাহমুদাকে দেখতে পান ভুক্তভোগীরা। সেখানে তার কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন কোনো টাকা দেবেন না। মাহমুদার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে শত শত ভুক্তভোগী জড়ো হন। অভিযোগ ওঠে, কেবল ওই ৩২ জনই নন, বরং কয়েকশ মানুষের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এই নেত্রী।খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাহমুদা ও তার ছেলে তন্ময় জামানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পাওনাদারদের পক্ষে আব্দুস সোবহান বাদী হয়ে শনিবার রাতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, প্রতারণার অভিযোগে মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলমকে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীদের টাকা উদ্ধারের বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এনএম/ধ্রুবকন্ঠ