বিশ্ব বাণিজ্যের ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী এখন আক্ষরিক অর্থেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। মাঝসমুদ্রে হঠাৎ ধেয়ে আসা একটি অজানা প্রজেক্টাইলের আঘাতে একটি বিশাল পণ্যবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হামলার পরপরই জাহাজটিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড শুরু হয়, যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। ক্রুরা জাহাজটি পরিত্যাগ করে জীবন রক্ষার চেষ্টা করছেন এবং আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর কাছে দ্রুত সহায়তার অনুরোধ পাঠিয়েছেন।এই হামলার ঘটনার পেছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে যে চরম উত্তেজনা চলছে, এই ঘটনাকে তারই প্রতিফলন বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা।সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করে, তবে তাদের কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে।অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হুমকি দিয়ে রেখেছে যে তাদের সার্বভৌমত্বে আঘাত আসলে তারা বিশ্বের অন্যতম এই প্রধান জ্বালানি সরবরাহ রুট অচল করে দেবে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্ববাজারের মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়। ফলে এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথেই বিশ্বজুড়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তেলের বাজারে নতুন করে অস্থিরতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, কারণ এই রুটটি অনিরাপদ হয়ে পড়লে বিশ্বজুড়ে পরিবহন খরচ ও নিত্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। হামলাটি ঠিক কে চালিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া না গেলেও, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে এক বড় ধরণের যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র- আল জাজিরা এনএম/ধ্রুবকন্ঠ