ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

দেশবাসীর জন্য সুখবর, কমতে পারে সব ধরনের জ্বালানি দাম



দেশবাসীর জন্য সুখবর, কমতে পারে সব ধরনের জ্বালানি দাম
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল, এর মধ্যেই অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজ দেশে এসে পৌঁছেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে ভিড়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ‘লিয়ান হুয়ান হুনামের ট্যাংকারটি নোঙর করার পর একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ডিজেল খালাসের কাজ শুরু করা হয়। এর আগে গত সোমবার ( মার্চ) ‘শিউ চিনামের আরেকটি জাহাজ প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন পরপর দুটি চালান আসায় দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আসবে।

বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরো তিনটি ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যেএসপিটি থেমিসনামের একটি ট্যাংকার ১২ মার্চ প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে। ছাড়া ১৩ মার্চ্যাফেলস সামুরাইএবং ১৫ মার্চচাং হাং হং তুনামের আরো দুটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে।

প্রতিটি জাহাজেই আনুমানিক ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল থাকবে। বিভিন্ন এশীয় দেশ থেকে আমদানি করা এই পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে মোট প্রায় লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে যুক্ত হবে।

বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ ডিজেল বর্তমান ব্যবহারের ধারা ধরে আগামী প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। তবে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার গত রবিবার ( মার্চ) থেকে প্রতিদিনের সরবরাহ কমিয়ে প্রায় হাজার মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে।

সরবরাহ সীমিত রাখার এই নীতি অব্যাহত থাকলে নতুন আসা জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে যে মজুত রয়েছে, তা দিয়েও আরো ১৬ থেকে ১৭ দিনের প্রয়োজন মেটানো যাবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে নতুন চালানগুলো যুক্ত হলে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা পূরণের মতো মজুদ নিশ্চিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধারাবাহিকভাবে নতুন চালান দেশে পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে বাজারে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আতঙ্ক অনেকটাই কমে আসবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিপিসি সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিপিসির বাণিজ্যিক অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম জাহাজ পৌঁছানোর পরপরই খালাস কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় জাহাজের কাজও চলছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাকি জাহাজগুলো পৌঁছালে জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে আসবে।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ

বিষয় : জ্বালানি দাম দেশবাসী মধ্যপ্রাচ্যে

আপনার মতামত লিখুন

ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬


দেশবাসীর জন্য সুখবর, কমতে পারে সব ধরনের জ্বালানি দাম

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে যে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছিল, এর মধ্যেই অল্প সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় ডিজেলবাহী জাহাজ দেশে এসে পৌঁছেছে। গতকাল মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি করা প্রায় ২৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল বহনকারী একটি ট্যাংকার চট্টগ্রাম বন্দরে এসে ভিড়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ‘লিয়ান হুয়ান হুনামের ট্যাংকারটি নোঙর করার পর একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ডিজেল খালাসের কাজ শুরু করা হয়। এর আগে গত সোমবার ( মার্চ) ‘শিউ চিনামের আরেকটি জাহাজ প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন পরপর দুটি চালান আসায় দেশের জ্বালানি মজুত পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তি আসবে।

বাংলাদেশ পেট্রলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই আরো তিনটি ডিজেলবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার কথা রয়েছে। এর মধ্যেএসপিটি থেমিসনামের একটি ট্যাংকার ১২ মার্চ প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে পৌঁছাবে। ছাড়া ১৩ মার্চ্যাফেলস সামুরাইএবং ১৫ মার্চচাং হাং হং তুনামের আরো দুটি জাহাজ বন্দরে ভেড়ার কথা রয়েছে।

প্রতিটি জাহাজেই আনুমানিক ৩০ হাজার মেট্রিক টন করে ডিজেল থাকবে। বিভিন্ন এশীয় দেশ থেকে আমদানি করা এই পাঁচটি ট্যাংকার মিলিয়ে মোট প্রায় লাখ ৪৪ হাজার ২০৫ মেট্রিক টন পরিশোধিত ডিজেল দেশে যুক্ত হবে।

বিপিসির হিসাব অনুযায়ী, এই পরিমাণ ডিজেল বর্তমান ব্যবহারের ধারা ধরে আগামী প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। তবে বৈশ্বিক বাজারের অনিশ্চয়তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার গত রবিবার ( মার্চ) থেকে প্রতিদিনের সরবরাহ কমিয়ে প্রায় হাজার মেট্রিক টনে নামিয়ে এনেছে।

সরবরাহ সীমিত রাখার এই নীতি অব্যাহত থাকলে নতুন আসা জ্বালানি দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। বর্তমানে দেশে যে মজুত রয়েছে, তা দিয়েও আরো ১৬ থেকে ১৭ দিনের প্রয়োজন মেটানো যাবে বলে জানানো হয়েছে। ফলে নতুন চালানগুলো যুক্ত হলে প্রায় এক মাসের ডিজেল চাহিদা পূরণের মতো মজুদ নিশ্চিত হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ধারাবাহিকভাবে নতুন চালান দেশে পৌঁছাচ্ছে। এর ফলে বাজারে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা আতঙ্ক অনেকটাই কমে আসবে। জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বন্দর কর্তৃপক্ষ বিপিসি সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিপিসির বাণিজ্যিক অপারেশন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুদ পারভেজ জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম জাহাজ পৌঁছানোর পরপরই খালাস কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে এবং দ্বিতীয় জাহাজের কাজও চলছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বাকি জাহাজগুলো পৌঁছালে জ্বালানি পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হয়ে আসবে।

 

এনএম/ধ্রুবকন্ঠ


ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho

“তারুণ্যের সংবাদ মাধ্যম”

কপিরাইট © ২০২৬ ধ্রুবকন্ঠ | Dhruba Kantho । সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত