অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ফাঁক যেন না থাকে। তারেক রহমানের নিরাপত্তা হতে হবে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র। বেহুলার বাসরঘরের মতো যেন কোনো ছিদ্র না থাকে।’
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর লালমাটিয়ায় মহিলা কলেজের পাশে গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী ফিরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমানের নির্দেশনা ও ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শক্রমে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ফিরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রিজভী।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়েও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আমরাও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা বারবার বলেছি, চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে আমরা সেই মাত্রার উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না।‘
ফিরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গতকাল রবিবার গুরুতর আহত পরিবারের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যানের একটি মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় একজন মায়ের আকুতি ও বুকভাঙা কান্না দেখে চেয়ারম্যান গভীরভাবে বিচলিত হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্টেজেই আমাকে এবং আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন- আজই ঢাকায় তিনি যে বাসায় অবস্থান করছেন, সেখানে গিয়ে ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং তাদের সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে জানার জন্য।‘
তিনি বলেন, ‘সেই
নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সেখানে এসেছি।
আমাদের চেয়ারম্যানের পক্ষ
থেকে কিছু সহযোগিতাও নিয়ে এসেছি। শহীদ
ফিরোজ রাজশাহীর গোয়ালিয়া থানার বাসিন্দা। চব্বিশের ৫ আগস্ট পলাতক
ফ্যাসিবাদ বিদায়ের সময়ও নির্বিচারে মানুষ
হত্যা করতে করতে
গেছে—শহীদ ফিরোজ
তারই আরেকটি নির্মম
নিদর্শন। আমরা
তাদের সঙ্গে কথা
বলেছি, খোঁজখবর নিয়েছি ও ঠিকানা সংগ্রহ
করেছি। আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং চেয়ারম্যান মহোদয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে।‘
রিজভী বলেন, ‘শহীদ ফিরোজের রেখে যাওয়া দুটি সন্তান রয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ ও লেখাপড়া নিয়ে তাদের দাদি অর্থাৎ ফিরোজের মা অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত। এই বিষয়গুলো আমরা অবহিত হয়েছি, নোট নিয়েছি এবং গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি। এই শহীদ পরিবারটি যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, শহীদ ফিরোজের রেখে যাওয়া সন্তানদের লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়—সেজন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।‘
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে বিএনপি নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান মহোদয় যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি সব সময়ই বলেছেন— ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একটি বৃহত্তর লক্ষ্য ও আদর্শের জন্য তারা যেভাবে জীবন উৎসর্গ করেছেন, এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহিমান্বিত আত্মদানকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাই বিএনপি যেমন অতীতে তাদের পাশে ছিল, তেমনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তাদের সামগ্রিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।‘
নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘আমরা আশা করছি- আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তবে কিছু দৃষ্টান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মাঝে মাঝে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে— নিরপেক্ষতার জায়গায় কোনো চিড় ধরছে কি না। যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থায় চিড় ধরবে। আমি এখনও বলতে চাই, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করবে- যাতে প্রতিটি ভোটার নির্বিঘ্নে, নিঃসংশয়ে ও নির্ভীকভাবে ভোট দিতে পারেন। কোনো ধরনের সূক্ষ্ম কারচুপির সুযোগ যেন না থাকে, এটি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রধান দায়িত্ব।‘
শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রিজভীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, উপদেষ্টা আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদসহ ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতারা।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : তারেক রহমান রিজভী
.png)
শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী বলেছেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের ফাঁক যেন না থাকে। তারেক রহমানের নিরাপত্তা হতে হবে সম্পূর্ণ নিশ্ছিদ্র। বেহুলার বাসরঘরের মতো যেন কোনো ছিদ্র না থাকে।’
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাজধানীর লালমাটিয়ায় মহিলা কলেজের পাশে গণ-অভ্যুত্থানে নিহত শহীদ ফিরোজ আহমেদের স্ত্রী ফিরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমানের নির্দেশনা ও ডা. জুবাইদা রহমানের পরামর্শক্রমে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ফিরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন রিজভী।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘তারেক রহমানের নিরাপত্তা নিয়েও সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। আমরাও এ বিষয়ে উদ্বিগ্ন। আমরা বারবার বলেছি, চেয়ারম্যান মহোদয়ের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। আপাতদৃষ্টিতে আমরা সেই মাত্রার উদ্যোগ দেখতে পাচ্ছি না।‘
ফিরোজা আক্তারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গতকাল রবিবার গুরুতর আহত পরিবারের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যানের একটি মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় একজন মায়ের আকুতি ও বুকভাঙা কান্না দেখে চেয়ারম্যান গভীরভাবে বিচলিত হন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্টেজেই আমাকে এবং আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন- আজই ঢাকায় তিনি যে বাসায় অবস্থান করছেন, সেখানে গিয়ে ওই পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এবং তাদের সমস্যাগুলো বিস্তারিতভাবে জানার জন্য।‘
তিনি বলেন, ‘সেই
নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সেখানে এসেছি।
আমাদের চেয়ারম্যানের পক্ষ
থেকে কিছু সহযোগিতাও নিয়ে এসেছি। শহীদ
ফিরোজ রাজশাহীর গোয়ালিয়া থানার বাসিন্দা। চব্বিশের ৫ আগস্ট পলাতক
ফ্যাসিবাদ বিদায়ের সময়ও নির্বিচারে মানুষ
হত্যা করতে করতে
গেছে—শহীদ ফিরোজ
তারই আরেকটি নির্মম
নিদর্শন। আমরা
তাদের সঙ্গে কথা
বলেছি, খোঁজখবর নিয়েছি ও ঠিকানা সংগ্রহ
করেছি। আমরা বিএনপি পরিবার’ এবং চেয়ারম্যান মহোদয়ের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে।‘
রিজভী বলেন, ‘শহীদ ফিরোজের রেখে যাওয়া দুটি সন্তান রয়েছে। তাদের ভবিষ্যৎ ও লেখাপড়া নিয়ে তাদের দাদি অর্থাৎ ফিরোজের মা অত্যন্ত উৎকণ্ঠিত। এই বিষয়গুলো আমরা অবহিত হয়েছি, নোট নিয়েছি এবং গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছি। এই শহীদ পরিবারটি যেন কোনোভাবেই বঞ্চিত না হয়, শহীদ ফিরোজের রেখে যাওয়া সন্তানদের লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয়—সেজন্য আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব।‘
তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে জনগণের সমর্থনে বিএনপি নির্বাচিত হলে চেয়ারম্যান মহোদয় যে অঙ্গীকার করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি সব সময়ই বলেছেন— ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি শহীদ পরিবার ও আহত পরিবারকে পুনর্বাসিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। একটি বৃহত্তর লক্ষ্য ও আদর্শের জন্য তারা যেভাবে জীবন উৎসর্গ করেছেন, এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহিমান্বিত আত্মদানকে ছোট করে দেখার কোনো অবকাশ নেই। তাই বিএনপি যেমন অতীতে তাদের পাশে ছিল, তেমনি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে তাদের সামগ্রিক পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।‘
নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘আমরা আশা করছি- আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তবে কিছু দৃষ্টান্ত এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণ দেখে মাঝে মাঝে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে— নিরপেক্ষতার জায়গায় কোনো চিড় ধরছে কি না। যদি এমন কিছু ঘটে, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা এবং গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক দল ও জনগণের আস্থায় চিড় ধরবে। আমি এখনও বলতে চাই, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ আচরণ করবে- যাতে প্রতিটি ভোটার নির্বিঘ্নে, নিঃসংশয়ে ও নির্ভীকভাবে ভোট দিতে পারেন। কোনো ধরনের সূক্ষ্ম কারচুপির সুযোগ যেন না থাকে, এটি নিশ্চিত করা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের প্রধান দায়িত্ব।‘
শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রিজভীর সঙ্গে আরো উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, উপদেষ্টা আবুল কাশেম, ইঞ্জিনিয়ার মোস্তফা-ই-জামান সেলিম এবং সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন। এছাড়া কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, স্বেচ্ছাসেবক দলের সহ-সভাপতি ডা. জাহিদুল কবির জাহিদসহ ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের স্থানীয় নেতারা।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন