জামায়াতে
ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আগামীর বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদকে
মানব না। আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত
সরকারকে এ দেশে দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
আজ
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এইচ জে
সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই
কথা বলেন তিনি।
কুমিল্লা-১১
(চৌদ্দগ্রাম) নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে এক বিশাল
জনসভার আয়োজন করা হয়। মূলত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত একক প্রার্থী এবং
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ ও
তাঁর প্রতি গণসমর্থন প্রদর্শনের লক্ষ্যে এই জনসভাটি আয়োজিত হয়েছে।
জনসভায়
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছরে যাঁরা মজলুম ছিলেন, তাঁদের পক্ষেই বাংলাদেশ
থাকবে। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাচ্ছি না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাচ্ছি।
১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে আমাদের ১১ দলের সবার বিজয়। ১১–দলীয় জোটের যেখানে যে
প্রতীক, সেই প্রতীকের পক্ষে আমাদের দাঁড়াতে হবে।’
জামায়াতের আমির
আরও বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির গোড়া কেটে দিতে চাই। তবে যাঁরা দুর্নীতি ও
চাঁদাবাজি করেন, তাঁদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ, আমরা এমন সমাজ গড়তে চাই, যেখানে
প্রত্যেক নাগরিক তাঁর জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের নিরাপত্তা ভোগ করবে। হালাল রুজি দিয়ে
সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকবে। আপনারা এই অপকর্মগুলো ছেড়ে দেন। জাতিকে আর কষ্ট দিয়েন
না। আপনারাও একসময় মজলুম ছিলেন, তাহলে এখন কেন জালিম হলেন। আশা করি, আপনারা সংশোধন
হয়ে যাবেন।’
এই
নির্বাচন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা: নাহিদ ইসলাম
জাতীয়
নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জনসভায় বলেন, ‘এই নির্বাচন কোনো
বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই নির্বাচন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা। জুলাই
গণ-অভ্যুত্থানের কারণে আমরা আজ নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে পেরেছি। জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদ বিরোধী ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়তে। কিন্তু নির্বাচনকে
ঘিরে পার্শ্ববর্তী দেশ নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তারা প্রকাশ্যে ১১–দলীয় জোটের
বিপক্ষে কথা বলা একটি দলের পক্ষ নিয়েছে। যদি তারা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা
করে তাহলে এ দেশের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।’
বাংলাদেশ
খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘৭২ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের
রাজনৈতিক দলগুলো শাসনের নামে জনগণকে শোষণ করেছে। তারা বাংলাদেশে গুন্ডামি আর
সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছিল। এসব কারণেই আমাদের মাঝে ২৪ এসেছিল। সেই বিপ্লবের
পর এখন আর বাংলাদেশের মানুষ দুটি রাজপরিবারের হাতে তাদের ভাগ্য তুলে দেবে না।’
কোনো
দলের নাম ইঙ্গিত না করে মামুনুল
হক বলেন, ‘কখনো তারা প্রকাশ্যে বলে গণভোটে “না” ভোট দিতে, কখনো “হ্যাঁ” ভোট দিতে
বলে। কেউ প্রকাশ্যে এক কথা ও পেছনে আরেক কথা বলে, তাদের বলা হয় মুনাফেক। কোনো
মুনাফেকের হাতে বাংলাদেশের মানুষ দেশের শাসনভার তুলে দেবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের
প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি এর আগে নির্বাচিত হয়ে দুটো
কাজকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম। আমি আমার সময়ে রক্তপাত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম
এবং আমি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষাও করেছিলাম। এ ছাড়া আমি চৌদ্দগ্রামে রাজনৈতিক
প্রতিহিংসাও বন্ধ করেছিলাম। চৌদ্দগ্রামের সবাই আমার ভাই। এখানকার কাউকে আমি দলীয়
চোখে দেখি না। যাঁরা বিএনপি করেন, তাঁরা আমার ভাই। যাঁরা অন্যান্য দল করেন, তাঁরাও
আমার ভাই। এমপি কোনো দলের প্রতিনিধি নয়, এমপি হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধি। তাই আমি এই
চৌদ্দগ্রামের দলমত–নির্বিশেষে সবার কাছে ভোট চাচ্ছি।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি
বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও আলোকপাত
করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়
ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি
এম মাছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, কুমিল্লা-১০ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইয়াছিন
আরাফাত, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রশিবিরের
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ
সিবগা প্রমুখ।
চৌদ্দগ্রামের
এই বিশাল সমাবেশ মূলত ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনী সক্ষমতার এক বড় প্রদর্শনী ছিল।
সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান
ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কুমিল্লা-১১ আসনে আগামী নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং
রাজনৈতিক আদর্শ ও জনভিত্তি প্রমাণের বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে যাচ্ছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
বিষয় : জামায়াতের আমির নাহিদ ইসলাম মামুনুল হক
.png)
বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩১ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াতে
ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা আগামীর বাংলাদেশে আর কোনো আধিপত্যবাদকে
মানব না। আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। আমরা আর কোনো দুর্নীতিগ্রস্ত
সরকারকে এ দেশে দেখতে চাই না। আমরা একটি মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
আজ
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার এইচ জে
সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই
কথা বলেন তিনি।
কুমিল্লা-১১
(চৌদ্দগ্রাম) নির্বাচনী এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে এক বিশাল
জনসভার আয়োজন করা হয়। মূলত ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের মনোনীত একক প্রার্থী এবং
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ ও
তাঁর প্রতি গণসমর্থন প্রদর্শনের লক্ষ্যে এই জনসভাটি আয়োজিত হয়েছে।
জনসভায়
শফিকুর রহমান বলেন, ‘সাড়ে ১৫ বছরে যাঁরা মজলুম ছিলেন, তাঁদের পক্ষেই বাংলাদেশ
থাকবে। আমরা জামায়াতে ইসলামীর বিজয় চাচ্ছি না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাচ্ছি।
১৮ কোটি মানুষের বিজয় হবে আমাদের ১১ দলের সবার বিজয়। ১১–দলীয় জোটের যেখানে যে
প্রতীক, সেই প্রতীকের পক্ষে আমাদের দাঁড়াতে হবে।’
জামায়াতের আমির
আরও বলেন, ‘আমরা চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির গোড়া কেটে দিতে চাই। তবে যাঁরা দুর্নীতি ও
চাঁদাবাজি করেন, তাঁদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কারণ, আমরা এমন সমাজ গড়তে চাই, যেখানে
প্রত্যেক নাগরিক তাঁর জীবন, সম্পদ ও ইজ্জতের নিরাপত্তা ভোগ করবে। হালাল রুজি দিয়ে
সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকবে। আপনারা এই অপকর্মগুলো ছেড়ে দেন। জাতিকে আর কষ্ট দিয়েন
না। আপনারাও একসময় মজলুম ছিলেন, তাহলে এখন কেন জালিম হলেন। আশা করি, আপনারা সংশোধন
হয়ে যাবেন।’
এই
নির্বাচন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা: নাহিদ ইসলাম
জাতীয়
নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম জনসভায় বলেন, ‘এই নির্বাচন কোনো
বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এই নির্বাচন জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতা। জুলাই
গণ-অভ্যুত্থানের কারণে আমরা আজ নির্বাচনপ্রক্রিয়ার মধ্যে যেতে পেরেছি। জুলাই
গণ-অভ্যুত্থান হয়েছিল ফ্যাসিবাদ বিরোধী ইনসাফভিত্তিক দেশ গড়তে। কিন্তু নির্বাচনকে
ঘিরে পার্শ্ববর্তী দেশ নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তারা প্রকাশ্যে ১১–দলীয় জোটের
বিপক্ষে কথা বলা একটি দলের পক্ষ নিয়েছে। যদি তারা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা
করে তাহলে এ দেশের জনগণ তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে।’
বাংলাদেশ
খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, ‘৭২ থেকে ২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের
রাজনৈতিক দলগুলো শাসনের নামে জনগণকে শোষণ করেছে। তারা বাংলাদেশে গুন্ডামি আর
সন্ত্রাসের রাজনীতি কায়েম করেছিল। এসব কারণেই আমাদের মাঝে ২৪ এসেছিল। সেই বিপ্লবের
পর এখন আর বাংলাদেশের মানুষ দুটি রাজপরিবারের হাতে তাদের ভাগ্য তুলে দেবে না।’
কোনো
দলের নাম ইঙ্গিত না করে মামুনুল
হক বলেন, ‘কখনো তারা প্রকাশ্যে বলে গণভোটে “না” ভোট দিতে, কখনো “হ্যাঁ” ভোট দিতে
বলে। কেউ প্রকাশ্যে এক কথা ও পেছনে আরেক কথা বলে, তাদের বলা হয় মুনাফেক। কোনো
মুনাফেকের হাতে বাংলাদেশের মানুষ দেশের শাসনভার তুলে দেবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জামায়াতের
প্রার্থী সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, ‘আমি এর আগে নির্বাচিত হয়ে দুটো
কাজকে প্রাধান্য দিয়েছিলাম। আমি আমার সময়ে রক্তপাত না হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম
এবং আমি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষাও করেছিলাম। এ ছাড়া আমি চৌদ্দগ্রামে রাজনৈতিক
প্রতিহিংসাও বন্ধ করেছিলাম। চৌদ্দগ্রামের সবাই আমার ভাই। এখানকার কাউকে আমি দলীয়
চোখে দেখি না। যাঁরা বিএনপি করেন, তাঁরা আমার ভাই। যাঁরা অন্যান্য দল করেন, তাঁরাও
আমার ভাই। এমপি কোনো দলের প্রতিনিধি নয়, এমপি হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধি। তাই আমি এই
চৌদ্দগ্রামের দলমত–নির্বিশেষে সবার কাছে ভোট চাচ্ছি।’
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমির মু. মাহফুজুর রহমান ও সেক্রেটারি
বেলাল হোসাইনের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও আলোকপাত
করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয়
ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি
এম মাছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, কুমিল্লা-১০ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইয়াছিন
আরাফাত, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মুহাম্মদ শাহজাহান, ছাত্রশিবিরের
সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, বর্তমান সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ
সিবগা প্রমুখ।
চৌদ্দগ্রামের
এই বিশাল সমাবেশ মূলত ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনী সক্ষমতার এক বড় প্রদর্শনী ছিল।
সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান
ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, কুমিল্লা-১১ আসনে আগামী নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং
রাজনৈতিক আদর্শ ও জনভিত্তি প্রমাণের বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে যাচ্ছে।
এনএম/ধ্রুবকন্ঠ
.png)
আপনার মতামত লিখুন